বাংলা ধারাবাহিকের পরিচিত মুখ সুদীপ্তা ব্যানার্জিকে এখন দেখা যাচ্ছে একটি রান্নার অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায়। পর্দায় তিনি কখনও মেয়ে, কখনও বউয়ের চরিত্রে দর্শকের মন জিতেছেন। তবে মাতৃদিবসে ব্যক্তিগত জীবনের সুদীপ্তাকে দেখা গেল এক অন্য রূপে। নিজের মা-কে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে অভিনেত্রী বলেন, “মা মানে আমার অস্তিত্ব। মা ছাড়া তো আমি কিছুই না, মা না থাকলে পৃথিবীটাই দেখতে পেতাম না।” তিনি জানান, তাঁর জীবনের সবচেয়ে প্রিয় দুই মানুষ ছিলেন বাবা ও মা। বাবাকে ২০২৩ সালে হারানোর পর এখন মায়ের ভাল থাকা নিশ্চিত করাই তাঁর সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। সুদীপ্তার কথায়, “মায়ের কোনও বিকল্প হয় না।” মা-মেয়ের সম্পর্কের মধ্যেই তিনি জীবনের শক্তি খুঁজে পান।
ছোটবেলা থেকে মায়েদের সঙ্গে রান্নাঘরের সম্পর্ক সমাজে খুব স্বাভাবিক ছবি হিসেবেই দেখা হয়েছে। সেই প্রসঙ্গে সুদীপ্তা বলেন, রান্নাকে তিনি শুধু কাজ হিসেবে দেখেন না। তাঁর কথায়, “রান্নাটা একটা শিল্প।” তিনি জানান, ছোটবেলায় মায়ের হাতের রান্না খেয়েই বড় হয়েছেন। এখন মায়ের বয়স বেড়েছে বলে পরিবারের সবাই তাঁকে আগের মতো দায়িত্ব নিতে দেন না। অভিনেত্রী বলেন, বাবা যতদিন ছিলেন, মা নিজের হাতে রান্না করতেন। এখন তিনি বিয়ের পর আলাদা থাকেন, তাই মায়ের কাছে বেশি সময় থাকা হয় না। দুর্গাপুজোয় বাড়ি গেলে মায়ের হাতের আলুভাতে, ভাত, ডিম সিদ্ধ আর ডাল সিদ্ধ তাঁর কাছে “অমৃত” মনে হয়। লক্ষ্মীপুজো বা জন্মাষ্টমীর মতো বিশেষ দিনে মা এখনও নিজের হাতে ভোগ রান্না করেন বলেও জানান তিনি। তবে তাঁর মতে, এখন আর মা মানেই রান্নার দায়িত্ব নিতে হবে, এমন ভাবনা বদলাচ্ছে।
মায়ের কাছ থেকে পাওয়া জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা নিয়েও মুখ খোলেন সুদীপ্তা। তিনি বলেন, “দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করে যাওয়া, দিন তোমারও আসবে।” তাঁর মা সবসময় শিখিয়েছেন, নিজের অভাব নিয়ে অভিযোগ না করে চেষ্টা চালিয়ে যেতে। অভিনেত্রীর কথায়, “কখনও বলবে না যে আমার এটা নেই, বলবে আমি চেষ্টা করছি।” এই শিক্ষাই তাঁকে জীবনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। সততা, ধৈর্য আর লড়াই করে টিকে থাকার মানসিকতাকে তিনি মায়ের সবচেয়ে বড় উপহার বলে মনে করেন। সুদীপ্তা জানান, কঠিন সময়ে ভেঙে না পড়ে এগিয়ে চলার সাহস তিনি মায়ের কাছ থেকেই পেয়েছেন। জীবনের নানা পরিস্থিতিতে সেই শিক্ষা আজও তাঁর পথ দেখায়।
মাতৃত্ব নিয়ে সমাজে বহুদিনের ধারণা রয়েছে যে মা হওয়াতেই নারীর পূর্ণতা আসে। এই প্রশ্নে সুদীপ্তা স্পষ্ট মত দেন। তিনি বলেন, “মাতৃত্ব এখন সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত একটা সিদ্ধান্ত।” তাঁর মতে, একজন নারী মা হবেন কি না, তা সম্পূর্ণ তাঁর এবং তাঁর পরিবারের সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, “পূর্ণতা পাওয়ার জন্য মা হওয়াই জরুরি নয়।” কোনও শিশুকে দত্তক নিয়েও বা কোনও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়েও জীবনের পূর্ণতা পাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। যদিও নিজের সন্তান হওয়াকে তিনি বড় প্রাপ্তি বলেই মানেন। অর্থাৎ মাতৃত্বকে তিনি সম্মান করেন, কিন্তু সেটাকে বাধ্যতামূলক সামাজিক মানদণ্ড হিসেবে দেখেন না।
আরও পড়ুনঃ “আমিও সমান দায়িত্বে সঞ্চালনা করেছিলাম অথচ রিপোর্টে কোথাও আমার নামই ছিল না…” অভিযোগ মধুমন্তী মৈত্রর! সৌরভ গাঙ্গুলীর পরিবারের সেই তারকাখচিত অনুষ্ঠান নিয়েই কি ইঙ্গিত জনপ্রিয় সঞ্চালিকার?
বিয়ের পর জীবনে বদল এসেছে কি না, সেই প্রশ্নেও খোলামেলা উত্তর দেন সুদীপ্তা। তিনি জানান, তাঁর বিয়ে হয়েছে তিন বছর, আর দিনে প্রায় ১৪ ঘণ্টা বাড়ির বাইরে কাজ করতে হয়। অভিনেত্রীর কথায়, “এটা শ্বশুরবাড়ির সাপোর্ট ছাড়া পারতামই না।” তিনি বলেন, “আমি একটা বাড়ির বউ, কিন্তু আমি বাড়িতে কোনও কাজই করি না।” ভবিষ্যতে বয়স ও দায়িত্ব বাড়লে পরিস্থিতি বদলাতে পারে বলেও মনে করেন তিনি। শাশুড়ি মা হতে পারেন কি না, এই প্রশ্নে সুদীপ্তা বলেন, “মায়ের জায়গা মায়েরই থাকে।” তবে তিনি জানান, বিয়ের পর নতুন পরিবারও নিজের পরিবার হয়ে যায়। তাঁর কথায়, “আমার বর, শাশুড়িমা, শ্বশুরমশাই বা ননদ, সবাই এখন আমার পরিবার।” তিনি মনে করেন, জোর করে কিছু চাপিয়ে না দিয়ে একে অপরকে বোঝা এবং পারস্পরিক সম্মানই সম্পর্কের মূল চাবিকাঠি।






