“গত তিনটে দুর্গাপুজোয় ছেলেকে জামাকাপড় কিনে দিতে পারিনি.. অতীতের কথাগুলো কুড়ে কুড়ে খায়” মমতা আমলে রাজনৈতিক প্রভাবের জেরে কাজ হারা’নো, আর্থিক অনটনের কথা বলতে গিয়ে নিজের জীবনের কোন অ’ন্ধকার অধ্যায় প্রকাশ্যে আনলেন সুমন বন্দ্যোপাধ্যায়?

বিনোদন জগতের ঝলমলে আলো, জনপ্রিয়তা আর তারকাদের বিলাসবহুল জীবন দেখে অনেকেই মনে করেন, তাঁদের জীবন বুঝি শুধুই সাফল্যে মোড়া। কিন্তু পর্দার আড়ালে লুকিয়ে থাকে এমন কিছু লড়াই, যা সাধারণ মানুষের অজানাই থেকে যায়। কখনও কাজ হারানোর আশঙ্কা, কখনও আর্থিক অনটন, আবার কখনও ইন্ডাস্ট্রির অন্দরের রাজনীতির চাপ সব মিলিয়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় বহু শিল্পীকে। বাইরে থেকে হাসিমুখে থাকা সেই মানুষগুলির ব্যক্তিগত জীবনে কতটা যন্ত্রণা জমে থাকে, তারই এক মর্মস্পর্শী অভিজ্ঞতা তুলে ধরলেন অভিনেতা তথা বিজেপি নেতা সুমন বন্দ্যোপাধ্যায়।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের অভিনয়জীবনের নানা তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে বাংলা বিনোদন জগতের কাজের পরিবেশ, রাজনৈতিক প্রভাব এবং দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট নিয়ে মুখ খুলেছেন তিনি। সুমনের বক্তব্যে উঠে এসেছে, কীভাবে কাজ পাওয়া থেকে শুরু করে শুটিং চালিয়ে যাওয়া পর্যন্ত নানা অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। শুধু নিজের কষ্ট নয়, সেই কঠিন সময়ে তাঁর স্ত্রী ও ছেলেকেও যে পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে, সেই কথাও ভাগ করে নিয়েছেন অভিনেতা।

সুমন জানান, কখনও তাঁকে কাজের জন্য ডাকা হলেও পরে আর যোগাযোগ করা হয়নি, কখনও লুক সেট চূড়ান্ত হওয়ার পর শুটিংয়ের তারিখ আসেনি, আবার শুটিংয়ের দিনও বাতিল হয়েছে কাজ। এমনকী, একটি বড় প্রযোজনা সংস্থার শুটিংয়ে পৌঁছেও কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছে তাঁর। কোনও ধারাবাহিকে পাঁচ-সাত দিন শুটিং করার পরও বন্ধ হয়ে গিয়েছে তাঁর চরিত্রের ট্র্যাক। বিশেষ করে ২০১৬ থেকে ২০২১ সালের পর্বকে নিজের জীবনের অত্যন্ত কঠিন সময় বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। সেই আর্থিক অনটনের স্মৃতি আজও তাঁকে কষ্ট দেয়। সুমনের কথায়, গত তিনটি দুর্গাপুজোয় ছেলেকে নতুন জামাকাপড় কিনে দিতে পারেননি তিনি। অথচ তাঁর ছেলে কখনও বাবাকে দোষারোপ করেনি। বরং বাবাকে গর্বিত করার মতো কথা বলেছে। সেই স্মৃতি মনে পড়লে আজও চোখে জল আসে অভিনেতার। তবে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার মানসিকতা তাঁর নেই বলেই জানিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ ‘মায়ের পছন্দ না হলে আমার হাত দিয়ে অন্য কিছু করান’, অপরাজিতার বাড়ির লক্ষ্মীপুজোয় থাকছে কী কী বিশেষ আয়োজন?

ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পিছনে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগও তুলেছেন সুমন। তাঁর দাবি, কিছু ক্ষেত্রে শিল্পীদের সরাসরি দোষ না থাকলেও উপরমহলের নির্দেশে তাঁদের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হতো। বিশ্বাস ব্রাদার্স এবং ফেডারেশনের ক্ষমতা প্রসঙ্গে প্রশ্নের উত্তরে তিনি তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলেন। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে শিল্পীদের কাজের সুযোগে প্রভাব পড়ত। যদিও নিজের উত্থানের প্রসঙ্গে বাম আমলের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, সেই সময়ে এমন পরিস্থিতির মুখে পড়েননি। একইসঙ্গে সুমন স্পষ্ট করেন, তিনি নিজে ডানপন্থী হলেও রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে ভালো কাজের প্রশংসা করতে তাঁর আপত্তি নেই। অভিনেতা রাহুলের রাজনৈতিক অবস্থানের প্রসঙ্গ টেনে তাঁর পাশে থাকার মানসিকতারও প্রশংসা করেন তিনি। সুমনের এই বক্তব্য নতুন করে প্রশ্ন তুলছে, বিনোদন জগতের অন্দরে রাজনৈতিক মতপার্থক্য কি সত্যিই শিল্পীদের কাজের সুযোগে প্রভাব ফেলতে পারে?

You cannot copy content of this page