“তখন আমি কিচ্ছু না, আমরা গল্প করতাম দাঁড়িয়ে-দাঁড়িয়ে…” দুধ আনতে গিয়ে রোজ দেখা হত জয়া বচ্চনের দাদুর সঙ্গে! প্রয়াত অভিনেতা তাপস পালের মুখেই শোনা গেছিল সেই দিনগুলির কথা! কীভাবে গোয়ালার লাইনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই গড়ে উঠেছিল তাঁর পরিচয়?

বিনোদন জগতের তারকাদের পর্দার বাইরের জীবন নিয়েও সাধারণ মানুষের কৌতূহল কম নয়। প্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রীদের জীবনের এমন অনেক অজানা ঘটনা রয়েছে, যা তাঁদের অনুরাগীদের কাছে আজও অজানা। কখনও পুরনো কোনও সাক্ষাৎকারে উঠে আসে তারকাদের জীবনের অজানা অধ্যায়, আবার কখনও তাঁদের স্মৃতিচারণে সামনে আসে বলিউড ও টলিউডের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা নানা গল্প। তেমনই এক অজানা ঘটনার কথা একসময় জানিয়েছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা তাপস পাল। দিল্লিতে পড়াশোনা করার সময় একটি গোয়ালে দুধ কেনার লাইনে দাঁড়িয়ে তাঁর দেখা হয়েছিল জয়া বচ্চনের দাদুর সঙ্গে। সেই সাক্ষাৎ থেকেই শুরু হয়েছিল তাঁদের কথোপকথন, আর সেই কথার মধ্যেই উঠে আসত জয়া বচ্চনের প্রসঙ্গ। কিন্তু কী কথা হত তাঁদের মধ্যে?

বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তাপস পাল একটি পরিচিত নাম। অভিনয়জগতে নিজের প্রতিভা ও সাবলীল অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের মনে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। চন্দননগরের ছেলে তাপসের ছাত্রজীবন কেটেছিল বিভিন্ন জায়গায়। পড়াশোনার জন্য তাঁকে কখনও গ্রামাঞ্চলে, আবার কখনও দিল্লিতেও থাকতে হয়েছিল। দিল্লিতে তিনি থাকতেন তাঁর মাসির বাড়িতে। সেই সময়ের জীবনযাত্রা ছিল অনেকটাই সাধারণ। পড়াশোনার পাশাপাশি বাড়ির ছোটখাটো কাজও করতে হত তাঁকে। আর সেই কাজ করতে গিয়েই এমন এক অভিজ্ঞতা হয়েছিল, যা পরবর্তী সময়ে তাঁর স্মৃতিচারণের অংশ হয়ে ওঠে।

এক সাক্ষাৎকারে তাপস পাল জানিয়েছিলেন, দিল্লিতে মাসির বাড়ির ঠিক সামনেই ছিল একটি গোয়াল। প্রতিদিন সকালে সেখানে দুধ কিনতে যেতেন তিনি। দুধ নেওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হত। আর সেই লাইনে দাঁড়িয়েই একদিন তাঁর সঙ্গে দেখা হয় জয়া বচ্চনের দাদুর। তাপসের পরিবারের সঙ্গে তাঁদের আগে থেকেই পরিচয় ছিল। ফলে অপরিচিত মানুষের মতো শুধু মুখ দেখাদেখি হয়নি, বরং দেখা হওয়ার পরেই দু’জনের মধ্যে কথাবার্তা শুরু হয়ে যায়। বয়সে বড় জয়া বচ্চনের দাদুর সঙ্গে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই গল্প করতেন কিশোর তাপস। সেই সময় হয়তো তিনি ভাবতেও পারেননি, জীবনের এই সাধারণ মুহূর্ত একদিন তাঁর কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

আরও পড়ুন: “রাজবীর খুব সরল, বোকাও আছে, হঠাৎ রেগে যায়!” রাজবীরের সমর্থনে মুখ খুললেন দিব্যজ্যোতি দত্ত! বিগ বসে ডাক পেয়েও কেন গেলেন না অভিনেতা? খেলায় নিজেকে অযোগ্য মনে করেন তিনি, নাকি রয়েছে অন্য কোনও কারণ?

সেই সাক্ষাতের কথা বলতে গিয়ে তাপস পাল বলেছিলেন, “জয়া বচ্চনের দাদুর সঙ্গে আমার প্রত্যেকদিন দেখা হত গোয়ালের দুধের লাইনে। আমরা গল্প করতাম দাঁড়িয়ে-দাঁড়িয়ে। তাঁকে জিজ্ঞেস করতাম জয়া দিদি কেমন আছেন?” তাপসের কথাতেই স্পষ্ট, জয়া বচ্চনের প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল সেই ছাত্রজীবন থেকেই। তবে সেই আগ্রহের পিছনে ছিল না কোনও তারকাসুলভ দূরত্ব, বরং পরিচিত একজনের পরিবারের সদস্যের কাছে প্রিয় মানুষের খবর জানার সহজ কৌতূহল। প্রতিদিনের এই কথোপকথনে জয়ার প্রসঙ্গ স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসত।

তাপস পাল আরও জানিয়েছিলেন, সেই সময় জয়া বচ্চন পুনের ফিল্ম ইনস্টিটিউটে পড়াশোনা করছিলেন। তাই তাঁর দাদুর সঙ্গে দেখা হলেই তাপস জানতে চাইতেন, পুনেতে পড়াশোনা করতে জয়া দিদির কেমন লাগছে। আজকের দিনে তারকাদের জীবন সম্পর্কে নানা তথ্য সহজেই জানা গেলেও, সেই সময়ে এমন খবর জানার জন্য পরিচিত মানুষের সঙ্গে কথা বলাই ছিল অন্যতম উপায়। গোয়ালে দুধ কেনার লাইনে দাঁড়িয়ে হওয়া এই সামান্য কথোপকথন তাই হয়ে উঠেছিল তাপস পালের ছাত্রজীবনের এক বিশেষ স্মৃতি। বলিউডের পরিচিত মুখ জয়া বচ্চনের জীবনের সঙ্গে বাংলা ছবির জনপ্রিয় অভিনেতা তাপস পালের এই অজানা যোগসূত্র প্রমাণ করে, তারকাদের জীবনের অনেক আকর্ষণীয় গল্পই লুকিয়ে থাকে একেবারে সাধারণ কিছু মুহূর্তের মধ্যে।

You cannot copy content of this page