“মেয়ের জন্য ভালো একটা পাত্র চাই, সামনের বছরই বিয়ে দিয়ে দেব”, লক্ষ্মীপুজোয় মেয়ের জন্য নারায়ণের মতো স্বামীর প্রার্থনা মা ইন্দ্রানী দত্তের! শুরু হয়ে গেছে প্রস্তুতি, আগামী বছরেই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চলেছেন রাজনন্দিনী পাল? এত তাড়াতাড়ি কেন মেয়েকে সংসারী করতে চান, জানালেন অভিনেত্রী?

প্রত্যেক মায়েরই স্বপ্ন থাকে, মেয়ের জীবনে যেন একজন ভালো জীবনসঙ্গী আসেন। মেয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াক, কেরিয়ারে প্রতিষ্ঠিত হোক, পাশাপাশি জীবনে সুখী হোক, এই কামনাই করেন অধিকাংশ মা। তাই মেয়ের বিয়ের বয়স হলে পাত্র খোঁজার চিন্তাও ঘুরতে থাকে তাঁদের মনে। আর কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর মতো শুভ দিনে মা লক্ষ্মীর কাছে মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রার্থনা করার সুযোগ পেলে সেই ইচ্ছার কথা জানাতেই বা বাধা কোথায়? ঠিক এমনটাই করলেন টলিউডের অভিনেত্রী ইন্দ্রানী দত্ত। লক্ষ্মীপুজোর দিন মেয়ের জন্য ভালো পাত্র চাইলেন তিনি। কিন্তু মায়ের এই ইচ্ছার কথা শুনে মেয়ে রাজনন্দিনী পালের প্রতিক্রিয়া কী ছিল?

টলিউডের পরিচিত মুখ রাজনন্দিনী পাল। বড় পর্দা থেকে ছোট পর্দা, এমনকী ওয়েব সিরিজেও নিজের অভিনয় দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। ২০১৮ সালে অভিষেক সাহার পরিচালনায় ‘উড়নচণ্ডী’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন রাজনন্দিনী। এরপর সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘এক যে ছিল রাজা’, ‘অসুর’, ‘ওহ! লাভলী’ এবং ‘ছাদ দ্য টেরেস’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করেছেন। ওয়েব সিরিজ ‘সম্পূর্ণা’-তে নন্দিনী সান্যালের চরিত্রেও প্রশংসা পেয়েছেন তিনি। ছোট পর্দায় ‘রাজরাজেশ্বরী রানি ভবানী’ ধারাবাহিকে নামভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। তবে এই মুহূর্তে নতুন কাজের পরিকল্পনার পাশাপাশি নিজের কেরিয়ার নিয়েই ব্যস্ত অভিনেত্রী। আর সেই ব্যস্ততার মধ্যেই মেয়ের বিয়ে নিয়ে মায়ের ভাবনা সামনে আসতেই তৈরি হয়েছে চর্চা।

রবিবার কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন ধুমধাম করে মা লক্ষ্মীর আরাধনা করেন ইন্দ্রানী ও রাজনন্দিনী। তারকাদের বাড়ির পুজো কভার করতে পৌঁছেছিল সংবাদমাধ্যম। সেখানেই মেয়ের বিয়ে নিয়ে নিজের মনের কথা জানান ইন্দ্রানী। অভিনেত্রী বলেন, “মেয়ে বড় হয়েছে, একটা সময় তো তাকে বিয়ে দিতে হবে। সামনের বছর, তার পরের বছর। যখনই হোক। এবার পাত্র পাওয়ার ব্যাপার। ও তো সেই দায়িত্বও আমাকেই দিয়ে রেখেছে। এবার মায়ের কাছে আমি সেটাই চাইলাম।” অর্থাৎ, মেয়ের জন্য উপযুক্ত জীবনসঙ্গী খুঁজে পাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। সেই কারণেই লক্ষ্মীপুজোর শুভ দিনে মা লক্ষ্মীর কাছে মেয়ের বিয়ের প্রার্থনা করেছেন তিনি।

কিন্তু মায়ের এই বক্তব্যে বিশেষ খুশি হতে দেখা যায়নি রাজনন্দিনীকে। বরং মায়ের কথা শুনে কিছুটা বিরক্তিই প্রকাশ করেন অভিনেত্রী। কারণ, এই মুহূর্তে কাজ ও কেরিয়ার নিয়েই ভীষণ ব্যস্ত তিনি। নিজের জন্য জীবনসঙ্গী খোঁজার মতো সময় তাঁর হাতে নেই বলেই জানিয়েছেন রাজনন্দিনী। সেই কারণেই এই দায়িত্ব মায়ের উপর ছেড়ে রেখেছেন তিনি। তবে ইন্দ্রানীর কথায় স্পষ্ট, মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর চিন্তা রয়েছে। অন্যদিকে, রাজনন্দিনী এখনই বিয়ের পরিকল্পনার চেয়ে নিজের কাজকেই বেশি গুরুত্ব দিতে চাইছেন। মা-মেয়ের এই কথোপকথনে উঠে এসেছে দুই প্রজন্মের ভাবনার ফারাক একদিকে মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে মায়ের স্বপ্ন, অন্যদিকে নিজের কেরিয়ার গড়ার তাগিদ।

আরও পড়ুনঃ “আমি তো সিঙ্গেল, আমার তো বর নেই!” অবিবাহিত হয়েও সিঁথিভরা সিঁদুর, হাতে মোটা শাঁখা-পলা! লক্ষ্মীপুজোয় প্রসেনজিতের বোন পল্লবী চট্টোপাধ্যায়ের এমন সাজ ঘিরে তুমুল চর্চা, স্বামী না থাকলেও কেন বিবাহিত নারীর মতো সেজে থাকেন অভিনেত্রী? নিজেই করলেন ফাঁস, এই বিশেষ পছন্দের নেপথ্যে রয়েছে কোন কারণ?

অন্যদিকে, লক্ষ্মীপুজোর আগের রাতে রাজনন্দিনী সমাজমাধ্যমে নিজের বাড়িতে মা লক্ষ্মীর আগমনের ছবি ভাগ করে নিয়েছিলেন। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, “রাত পোহালেই লক্ষ্মী আরাধনা। আর তার আগেই মা এসে গেছেন আমার ঘরে।” প্রতি বছর এই বিশেষ দিনটির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন বলেও জানিয়েছিলেন অভিনেত্রী। মায়ের আশীর্বাদে সকলের জীবন সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধিতে ভরে উঠুক এই প্রার্থনাও করেছেন তিনি। তবে লক্ষ্মীপুজোর দিনে ইন্দ্রানীর মেয়ের বিয়ে নিয়ে করা মন্তব্যের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, রাজনন্দিনীর জীবনে কি শিগগিরই নতুন কোনও অধ্যায় শুরু হতে চলেছে, নাকি আপাতত অভিনয় আর কেরিয়ারই তাঁর কাছে অগ্রাধিকার পাবে? উত্তর অবশ্য সময়ই দেবে।

You cannot copy content of this page