“উত্তম কুমারের জায়গা আমি কাউকেই দিতে পারব না!” আবেগপ্রবণ প্রোডাকশন ম্যানেজার তাপস দাস, ‘কাকা’! জীবন উৎসর্গ করেছেন টলিউডকে, স্টুডিও বাঁচাতে একাই চিঠি লেখেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে! আজ একা, চূড়ান্ত অসুস্থতা ও অবহেলায় কাটছে দিন! কেন ইন্ডাস্ট্রি দূরে সরিয়ে দিয়েছে তাঁকে?

বিনোদন দুনিয়ায় আলোটা সবসময় পড়ে নায়ক-নায়িকাদের উপরেই। ক্যামেরার সামনে যাঁরা থাকেন, তাঁদের নামেই হাততালি পড়ে, তাঁদের মুখই ছাপা হয় পোস্টারে। কিন্তু ক্যামেরার পেছনে যে অগণিত মানুষ দিনরাত খেটে যান, তাঁদের কথা খুব কমই সামনে আসে। শুটিং শেষ হলে, আলো নিভে গেলে, যেন তাঁরাও ধীরে ধীরে হারিয়ে যান স্মৃতির অন্ধকারে।

এই আড়ালের মানুষদেরই একজন তাপস দাস—যাঁকে ইন্ডাস্ট্রির প্রায় সকলেই ‘কাকা’ নামে চিনতেন। দীর্ঘ ছয়-সাত দশক ধরে তিনি যুক্ত ছিলেন টলিউডের প্রোডাকশন ম্যানেজার হিসেবে। কাজের পরিধি এতটাই বিস্তৃত যে কার সঙ্গে কাজ করেননি, সেই তালিকা করা সহজ—কারণ প্রায় সকলের সঙ্গেই তাঁর কাজের স্মৃতি জড়িয়ে আছে।

বাংলা ছবির মহানায়ক উত্তম কুমার থেকে শুরু করে ইন্ডাস্ট্রির ‘মিস্টার ইন্ডাস্ট্রি’ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়—অনেক বড় নামের সঙ্গেই কাজ করেছেন তিনি। পাশাপাশি শতাব্দী রায়, দেবশ্রী রায়, এমনকি বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অঞ্জু ঘোষ-এর সঙ্গেও কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। হিন্দি ছবির ক্ষেত্রেও তিনি কাজ করেছেন অনুপম খের এবং ওম পুরি-র মতো অভিনেতাদের সঙ্গে। তাঁর কথায়, কাজটাই ছিল তাঁর পরিচয়, পদবী নয়।

শুধু শুটিং ফ্লোর সামলানোই নয়, স্টুডিও রক্ষার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। একসময় ইন্দ্রপুরী স্টুডিও বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সেই সময় তিনি উদ্যোগ নিয়ে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়-এর সঙ্গে। পরামর্শ মেনে সমস্যার বিস্তারিত লিখে চিঠি দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে। সেই চিঠিতে অন্য কারও সই ছিল না—একমাত্র তিনিই সই করেছিলেন। কিছুদিনের মধ্যেই অরূপ বিশ্বাস তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপরই পরিস্থিতির বদল আসে বলে জানিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ “জীবনের গাড়ির দিক বদলেছিলে…এখন চালকের আসনে তুমি, আর আমি হেল্পার!” ভুল রাস্তায় ইউ-টার্ন দিয়ে, কাঞ্চনকে মূল স্রোতে ফিরিয়ে এনেছেন শ্রীময়ী! বিবাহবার্ষিকীতে স্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে, বিয়ের স্মৃতি করলেন ভাগ!

এখন বয়সজনিত অসুস্থতা, শ্বাসকষ্ট—সব মিলিয়ে খুব বেশি কথা বললেই শরীর অসুস্থ হয়ে পড়ে তাঁর। প্রায় ৬০-৭০ বছর ইন্ডাস্ট্রিকে দেওয়ার পর আজ তিনি প্রায় নিম্নবিত্ত জীবনে দিন কাটাচ্ছেন। তবু কণ্ঠে আক্ষেপের চেয়ে বেশি শোনা যায় শ্রদ্ধা। তাঁর স্পষ্ট কথা—“উত্তম কুমারের জায়গা আমি কাউকেই দিতে পারব না।” আলো থেকে দূরে থাকলেও, তাঁর স্মৃতিতে এখনও জ্বলজ্বল করে মহানায়কের মুখ এবং বাংলা বিনোদনের প্রতি ভালবাসা।

You cannot copy content of this page