টেলিপাড়ার দৈনন্দিন ব্যস্ততাতেও মাঝেমধ্যে এমন কিছু ঘটনা ঘটে, যা স্বাভাবিক নিয়মকেও একটু থমকে দেখতে বাধ্য করে। তেমনই একসঙ্গে তিনটি ধারাবাহিকে কাজ করা এখন প্রায় অসম্ভব বললেই চলে, বিশেষ করে একই প্রযোজনা সংস্থার অধীনে। অথচ সেই বিরল ঘটনাই এই মুহূর্তে ঘটছে অভিনেতা ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়ের (Bhaswar Chatterjee) ক্ষেত্রে! তিনটি আলাদা গল্প, তিনটি ভিন্ন স্বভাবের চরিত্র, সবকটাতেই সমানভাবে উপস্থিত তিনি। আশ্চর্যের বিষয়, এই কাজগুলো শুধুই সংখ্যার খেলায় সীমাবদ্ধ নয় বরং প্রতিটা ধারাবাহিকই টিআরপি তালিকায় আলাদা করে নজর কেড়েছে!
ভাস্বর নিজেও বিষয়টাকে নিছক সাফল্য হিসেবে দেখতে চান না। তাঁর কাছে এটা একরকম ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা। ইন্ডাস্ট্রিতে কেরিয়ারের শুরুর দিকে একসঙ্গে একাধিক ধারাবাহিকে কাজ করার চল থাকলেও, এখন সেই সুযোগ প্রায় নেই বললেই চলে। প্রোডাকশনের নানান শর্ত, সময়ের চাপ মিলিয়ে বিষয়টা কঠিন। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে একই প্রোডাকশনের তিনটি ধারাবাহিকে আলাদা আলাদা চরিত্রে অভিনয় করা যে সহজ নয়, সেটা তিনি অকপটে স্বীকার করেন।
প্রসঙ্গত, এই মুহূর্তে তিনি অভিনয় করছেন ‘প্রফেসর বিদ্যা ব্যানার্জি’, ‘বেশ করেছি প্রেম করেছি’ আর হিন্দি ধারাবাহিক ‘আরতি অঞ্জলি আওয়াস্থি’তে। এই তিনটি ধারাবাহিকেই ভাস্বরের চরিত্রের ধরন একে অপরের থেকে আলাদা। কোথাও তিনি প্রতিবাদী মনোভাবের মানুষ, যিনি অন্যকে সাহস জোগান, প্রেমে এগিয়ে যেতে শেখান। আবার অন্য একটি গল্পে তাঁর চরিত্রটা অনেক বেশি সংযত ও দায়িত্ববান একজন বাবা, যিনি নিজের আবেগের চেয়েও সন্তানের অনুভূতিকে গুরুত্ব দেন।
আর অন্য ধারাবাহিকে তাঁকে দেখা যাচ্ছে গোটা পরিবারের ভেতরে একমাত্র ইতিবাচক শক্তি হিসেবে, যিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ান এবং নিঃশর্তভাবে পাশে থাকেন। এই অসম্ভবকে সম্ভব করার পেছনে ভাস্বর কৃতিত্ব দিতে চান প্রযোজক স্নেহাশিস চক্রবর্তীকে। তাঁর মতে, এই বিশ্বাস আর কাজের সুযোগ না পেলে হয়তো এমন অভিজ্ঞতা সম্ভব হত না। ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁদের দীর্ঘদিনের কাজের সম্পর্ক থাকলেও, ভাস্বর মনে করেন এখানে আলাদা করে কোনও পক্ষপাত নেই।
আরও পড়ুনঃ পদ্মশ্রী পেতেই প্রসেনজিত চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন সুকান্ত মজুমদার ও রুদ্রনীল ঘোষ! টলিপাড়ায় জোর জল্পনা! তাহলে কি এবার বিরোধীদলের হয়ে ভোটের ময়দানে নামবেন ইন্ডাস্ট্রির জ্যেষ্ঠ পুত্র?
বরং ভালো অভিনয় করলে কাজের জায়গায় সেই সুযোগটা আরও বাড়িয়ে দেওয়ার নীতিতেই বিশ্বাস করেন স্নেহাশিস। ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়ের এই সময়টা যেন কাজের মধ্যেই নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করার পর্ব। তিনটি ধারাবাহিক, তিন রকম মানুষ, তিন ধরনের অনুভূতি সামলে তিনি যে ধারাবাহিকভাবে দর্শকের নজরে থাকছেন, সেটাই সবচেয়ে বড় কথা। কোনও বাড়তি নাটকীয়তা ছাড়াই, নিজের কাজ দিয়েই জায়গা করে নিচ্ছেন তিনি, যা আজকের দিনে সত্যিই খুব সহজ নয়। আপনাদের কেমন লাগে অভিনেতার অভিনয়?
View this post on Instagram






