মহানায়ক ভবানীপুরের বাড়িতে লক্ষ্মীপুজো মানেই ছিল এলাহি ভোজ! অতিথি আপ্যায়নে মহানায়কের পছন্দের মেনুতে থাকত কী কী পদ জানেন?

মহানায়ক উত্তমকুমার মানেই বাঙালির আবেগ, ভালোবাসা আর নস্টালজিয়া। পর্দায় তাঁর অভিনয় আজও দর্শকদের মুগ্ধ করে। তবে পর্দার বাইরেও তাঁর জীবনের এমন কিছু দিক রয়েছে, যা বারবার নতুন করে চর্চায় উঠে আসে। তেমনই একটি অধ্যায় ভবানীপুরের বাড়ির লক্ষ্মীপুজো। এই পুজো শুধু দেবী আরাধনার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং হয়ে উঠেছিল আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব এবং চলচ্চিত্র জগতের মানুষের মিলনক্ষেত্র। আর এই আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল মহানায়কের নিজের হাতে তৈরি বিশেষ ভোগের মেনু।

১৯৫০ সালে ছেলে গৌতমের জন্মের বছরই ভবানীপুরের বাড়িতে লক্ষ্মীপুজো শুরু করেছিলেন উত্তমকুমার। সেই থেকে চট্টোপাধ্যায় পরিবারের এই পুজো ঘিরে তৈরি হয়েছিল বিশেষ ঐতিহ্য। বাড়ির লক্ষ্মীপ্রতিমার মুখের আদলও ছিল অত্যন্ত বিশেষ। মহানায়কের স্ত্রী গৌরীদেবীর মুখের আদলে তৈরি হয়েছিল দেবীর প্রতিমা। কথিত আছে, শিল্পী নিরঞ্জন পাল গৌরীদেবীকে এক ঝলক দেখেই তাঁর মুখের আদলে লক্ষ্মীপ্রতিমা গড়ার সিদ্ধান্ত নেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই পুজো হয়ে ওঠে মহানায়কের বাড়ির অন্যতম পরিচয়।

লক্ষ্মীপুজোর দিন সকাল থেকেই ভবানীপুরের বাড়িতে ভিড় জমাতেন অনুরাগীরা। চলচ্চিত্র জগতের অভিনেতা, পরিচালক, প্রযোজক থেকে শুরু করে বহু পরিচিত মানুষ হাজির হতেন এই আয়োজনে। অতিথিদের আপ্যায়নে কোনও খামতি রাখতে চাইতেন না উত্তমকুমার। পুজোর ভোগ খাওয়ানোর ক্ষেত্রেও ছিল তাঁর বিশেষ আগ্রহ। শুধু নিজের পরিচিতদের আপ্যায়ন নয়, দরিদ্র মানুষদেরও খাওয়ানোর ব্যবস্থা করতেন মহানায়ক। নিজের হাতে খাবার পরিবেশন করার অভ্যাস তাঁর বড় মনের পরিচয় বহন করত। অতিথিরা খাওয়া শেষ করার পরেই তিনি নিজে খেতে বসতেন বলে জানা যায়।

এবার আসা যাক সেই বিশেষ মেনুতে, যা নিয়ে আজও কৌতূহল রয়েছে ভোজনরসিক বাঙালির। উত্তমকুমারের বাড়ির লক্ষ্মীপুজোর ভোগে থাকত গরম গরম লুচি, ছোলার ডাল, বেগুন বাসন্তী, আলুর দম, ধোঁকার ডালনা, ছানার ডালনা এবং নানা রকমের মিষ্টি। বাড়িতে একসময় ময়রা ডেকে বিশেষ মিষ্টিও তৈরি করা হত। পান্তুয়া, দরবেশ ও গজার মতো মিষ্টির আয়োজন ছিল সেই ভোজের অন্যতম আকর্ষণ। পুজোর আয়োজন থেকে অতিথিদের খাওয়ানো, সবেতেই নিজের পছন্দ ও আন্তরিকতার ছাপ রাখতেন মহানায়ক। তাঁর কাছে উৎসব মানেই ছিল সবাইকে নিয়ে আনন্দ ভাগ করে নেওয়া।

আরও পড়ুনঃ “বাইরে স্ত্রী-সন্তান, বিগ বসের ঘরে সৃজলার সঙ্গে ঘনি’ষ্ঠতা!” দুর্নিবারকে সত*র্ক বার্তা রণিতার! তবে কি গায়ককে সতর্ক করতেই মোহর ঘনি’ষ্ঠ রণিতাকে ওয়াইল্ড কার্ড হিসেবে পাঠানো হলো?

আজ উত্তমকুমার আর নেই, কিন্তু ভবানীপুরের বাড়িতে তাঁর শুরু করা লক্ষ্মীপুজোর ঐতিহ্য এখনও পরিবারের পরবর্তী প্রজন্ম ধরে রেখেছে। গৌরব চট্টোপাধ্যায় ও পরিবারের অন্য সদস্যরা নিষ্ঠার সঙ্গে পুজোর দায়িত্ব সামলান। সময়ের সঙ্গে আয়োজনের কিছু পরিবর্তন হলেও পুরনো রীতিনীতি ধরে রাখার চেষ্টা রয়েছে। মহানায়কের বাড়ির এই পুজো তাই শুধুমাত্র একটি পারিবারিক উৎসব নয়, বরং বাঙালির সাংস্কৃতিক স্মৃতিরও অংশ। পর্দার মহানায়ক যে বাস্তব জীবনেও অতিথি আপ্যায়ন ও মানুষের পাশে থাকার ক্ষেত্রে বিশেষ পরিচয় রেখে গিয়েছিলেন, তাঁর বাড়ির লক্ষ্মীপুজোর গল্প যেন সেই কথাই আবার মনে করিয়ে দেয়।

You cannot copy content of this page