নতুন বছরের শুরুতেই বড়পর্দায় নতুন চমক শুভস্মিতার! কোন সিনেমায় কোন চরিত্রে দেখা যাবে লক্ষ্মী ঝাঁপির নায়িকাকে?

নতুন বছরের শুরুতেই টেলিভিশনের পর্দা ছেড়ে বড়পর্দায় পা রাখতে চলেছেন লক্ষ্মী ঝাঁপি খ্যাত অভিনেত্রী শুভস্মিতা। কল্পবিজ্ঞানের ছোঁয়ায় তৈরি এক ব্যতিক্রমী বাংলা ছবিতে দেখা যাবে তাঁকে। ছবির নাম পয়লা বৈশাখ। সময়ের ঘূর্ণি বা টাইম ভর্টেক্সের মতো অভিনব ধারণাকে প্রথমবার বাংলা ছবিতে তুলে ধরছেন পরিচালক অর্ক দাশগুপ্ত। শুভস্মিতার সঙ্গে এই ছবিতে রয়েছেন শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়, অনিন্দ্য পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিজিৎ দে, স্নেহম, স্বাতী মুখোপাধ্যায়, মুমতাজ সরকার, সুপ্রিয় চট্টোপাধ্যায় ও মিতালী ভট্টাচার্য। নতুন প্রজন্মের পাশাপাশি অভিজ্ঞ অভিনেতাদের মেলবন্ধনে তৈরি হচ্ছে এক ভিন্ন স্বাদের গল্প।

পয়লা বৈশাখ ছবির গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে ইন্দ্র নামের এক সাধারণ মধ্যবিত্ত যুবক। সদ্য চাকরি পাওয়ার আনন্দে এক রাতে সে পার্টি করছিল তার জামাইবাবু রণজিৎ ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু অনির্বাণের সঙ্গে। কিন্তু সেই আনন্দের রাতই তার জীবনে এনে দেয় অপ্রত্যাশিত মোড়। একটি অস্বাভাবিক ঘটনার পর ইন্দ্র আটকে পড়ে একটি নির্দিষ্ট দিনে অর্থাৎ পয়লা বৈশাখে। তার প্রেমিকা মৌমিতা, বন্ধুবান্ধব এমনকি পরিবারের কেউই জানে না ইন্দ্রর এই অদ্ভুত পরিস্থিতির কথা। প্রতিদিন একই দিন বারবার কাটতে কাটতে ইন্দ্র ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ে মানসিকভাবে।

এই চরম অবস্থার মধ্যেই ইন্দ্রর জীবনে আসে নার্গিস। নার্গিস একজন বিজ্ঞানী এবং আশ্চর্যের বিষয় সে নিজেও পয়লা বৈশাখেই আটকে রয়েছে। নার্গিসের কাছ থেকেই ইন্দ্র জানতে পারে এই সময়চক্রের পেছনে রয়েছে একটি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার রহস্য। নার্গিস এবং তার বাবা প্রফেসর আহমেদ আমেরিকায় একটি গবেষণার কাজ করছিলেন। পরে সেই গবেষণাগার হাওড়ায় স্থানান্তরিত হয়। কিছুদিনের মধ্যেই প্রফেসর আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং তিনি নিখোঁজ হন। বাবাকে খুঁজতেই নার্গিস এই অদ্ভুত সময় ফাঁদে আটকে পড়ে।

নার্গিসের ধারণা তাদের তৈরি যন্ত্র আই টিডি এস এস নিয়ে পরীক্ষার সময়ই ঘটে যায় ভয়ংকর দুর্ঘটনা। সেই দুর্ঘটনার ফলেই সৃষ্টি হয় এই অতিপ্রাকৃতিক সময় ঘূর্ণি। তিনটি সময় প্রবাহ একই মুহূর্তে এক বিন্দুতে এসে সংঘর্ষ ঘটায় এবং তৈরি করে এক নতুন বাস্তবতা। এই জটিল বৈজ্ঞানিক ও আবেগঘন পরিস্থিতির মধ্যেই ধীরে ধীরে এগিয়ে চলে ইন্দ্র ও নার্গিসের গল্প। রহস্য, প্রেম ও অস্তিত্বের প্রশ্নে ভরা এই যাত্রাই ছবির মূল আকর্ষণ।

আরও পড়ুনঃ বর্ষবরণের রাতে এক ফ্রেমে প্রতীক-সোনামণি! প্রেমের গুঞ্জন পেরিয়ে তবে কি নতুন বছরেই এক হবে চার হাত?

ছবিটি প্রসঙ্গে পরিচালক অর্ক দাশগুপ্ত বলেন তিনি একটি অতিপ্রাকৃতিক বৈজ্ঞানিক ঘটনাকে কাব্যিক ত্রিকোণ প্রেমের আখ্যানের মাধ্যমে তুলে ধরতে চেয়েছেন। তাঁর মতে এই গল্প নতুন প্রজন্মকে আবেগ ও যুক্তির দুই দিক থেকেই স্পর্শ করবে। সমাজের অচল দেয়াল ভেঙে নতুন বিশ্বাস ও আশার পথে এগিয়ে যাওয়ার কথাই বলবে পয়লা বৈশাখ। সময়ের ঘূর্ণির মাঝে আটকে পড়া মানুষ কীভাবে নিজের মানবিক শক্তি দিয়ে মুক্তির পথ খোঁজে তাই দর্শক আবিষ্কার করবেন বড়পর্দায়।

You cannot copy content of this page