“গাড়ির শখ মানেই দামি গাড়ি কেনা নয়…বাংলা সিনেমা করে বিলাসবহুল গাড়ি সম্ভব নয়!” বি’স্ফোরক মন্তব্য পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের! টলিউডে তারকাদের আয় কি সত্যিই এতটাই সীমিত? ইন্ডাস্ট্রির অর্থনৈতিক বাস্তবতাই তুলে ধরলেন অভিনেতা?

তারকাদের জীবন মানেই যেন এক আলাদা জগৎ। পর্দায় যাঁদের দেখা নানা চরিত্রে, তাঁদের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ, শখ-আহ্লাদ নিয়েও দর্শকদের কৌতূহলের শেষ নেই। কে কোন গাড়ি চালান, কেমন গান শোনেন, কীভাবে সময় কাটান—এসব জানার আগ্রহ সবসময়ই থাকে অনুরাগীদের মধ্যে। আর সেই কারণেই প্রিয় অভিনেতা সম্পর্কে ছোট্ট কোনও তথ্যও মুহূর্তে হয়ে ওঠে বড় খবর।

নিজের পছন্দ নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছরের অভিনয়জীবনে যিনি টলিউড থেকে বলিউড—সব জায়গাতেই নিজের ছাপ রেখেছেন, সেই অভিনেতাই এক সাক্ষাৎকারে জানালেন তাঁর একেবারে ব্যক্তিগত কিছু শখের কথা। দামি গাড়ির মালিক হওয়া নয়, বরং গাড়ির ভেতরের জগৎই তাঁকে বেশি টানে—এমনটাই স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।

২০০২ সালে হেমন্তের পাখি দিয়ে বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ। এরপর বম্বাইয়ের বোম্বেটে-তে তোপসে চরিত্র তাঁকে জনপ্রিয়তার আলোয় এনে দেয়। পাশাপাশি কাহানি, বাইশে শ্রাবণ, বুলবুল-এর মতো ছবিতে অভিনয় করে নিজেকে প্রমাণ করেছেন ভিন্ন ধারার শিল্পী হিসেবে। অভিনয়ের পাশাপাশি ‘জিও কাকা’, ‘হাওয়া বদল’, ‘লড়াই: প্লে টু লিভ’-এর মতো ছবিতে পরিচালকের আসনেও সমান সাবলীল তিনি। ২০২৫ সালে খাকি: দ্য বেঙ্গল চ্যাপ্টার-এ অভিনয় করে আবারও ওটিটিতে নজর কেড়েছেন।

তবে এত কিছুর মাঝেও তাঁর এক অদ্ভুত ‘অবসেশন’ রয়েছে গাড়ি নিয়ে। স্পষ্ট ভাষায় পরমব্রত বলেন, অনেকেই ভাবেন গাড়ির শখ মানেই বিলাসবহুল দামি গাড়ি কেনার ইচ্ছে। কিন্তু তাঁর সে সামর্থ্য বা আকাঙ্ক্ষা নেই। তিনি মজা করে বলেন, বাংলা সিনেমা করে সেই অর্থের জায়গায় পৌঁছনো সহজ নয়। হয়তো সেকেন্ড হ্যান্ড বিএমডব্লিউ কেনা যেতে পারে, কিন্তু তাঁর আসল আগ্রহ গাড়ির ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে—কোন গাড়ির কত পাওয়ার, কী ফিচার, ১৫-২৫ লক্ষ টাকার মধ্যে কোন মডেলে কী পার্থক্য—এসব খুঁটিনাটি জানতেই বেশি ভাল লাগে তাঁর। ভারতীয় বাজার যে অত্যন্ত ‘প্রাইস সেনসিটিভ’, সেটাও উল্লেখ করেন অভিনেতা।

আরও পড়ুনঃ “দায়িত্ব বড়, কিন্তু নীতি আরও বড়…কোয়েল পরিণত, উপদেশ দেওয়ার প্রয়োজন নেই!” কালীঘাটে আশীর্বাদ গ্রহনের পর, মেয়ের রাজনৈতিক ইনিংস নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান বাবা রঞ্জিত মল্লিকের!

শুধু গাড়ি নয়, পারফিউম নিয়েও তাঁর গভীর আগ্রহ। মুম্বইয়ে একবার এক ব্যক্তির শরীরে কোন সুগন্ধি ব্যবহার হয়েছে, তা সামনে গিয়েই বলে দিয়েছিলেন তিনি—পরে মিলিয়ে দেখা যায়, তাঁর অনুমানই সঠিক। সংগীতের প্রতিও টান আছে, যদিও নিজেকে ভালো গায়ক বলে দাবি করেন না। কসবায় অবস্থিত দোলনা ডে স্কুল অ্যান্ড ক্রেচ-এ পড়ার সময় প্রতিদিন ৪০ মিনিটের অ্যাসেম্বলিতে বিভিন্ন ধরনের গান গাওয়া হত—সেখান থেকেই গান চেনা ও ভালোবাসা তৈরি। শিল্পঘন পরিবেশে বড় হওয়া সত্ত্বেও নিয়মিত তালিম না পাওয়ার আক্ষেপও রয়েছে তাঁর কথায়। পর্দার তারকার আড়ালে এভাবেই ধরা পড়ল এক কৌতূহলী, সংবেদনশীল মানুষের সহজ স্বীকারোক্তি।

You cannot copy content of this page