আধুনিক সমাজে নারীবাদ ব ফেমিনিজম (Feminism) শব্দটি বহুবার নানা ব্যাখ্যা ও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে। অনেকের কাছে নারীবাদ মানে শুধুই স্বাধীনতা, আবার কারও চোখে তা সংসার বা পারিবারিক দায়িত্ব থেকে দূরে সরে যাওয়ার প্রতীক। বিশেষ করে রান্না বা ঘরের কাজকে ঘিরে নারীর ভূমিকা নিয়ে সমাজে এখনও নানা ভুল ধারণা ও চর্চা চালু রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটেই নারীবাদ বা ফেমিনিজমের আসল অর্থ ও তার বাস্তব ব্যাখ্যা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এই বিতর্কের মাঝেই নিজের স্পষ্ট মতামত জানিয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী, নৃত্যশিল্পী ও শিক্ষাবিদ দেবলীনা কুমার (Devlina Kumar)। বাংলা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের পরিচিত মুখ দেবলীনা ‘প্রাক্তণ’, ‘হামি’, ‘তিরন্দাজ শবর’, ‘সাদা রঙের পৃথিবী’-এর মতো ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি একজন প্রশিক্ষিত নৃত্যশিল্পী এবং ‘লাই হারাওবা’ নামের নৃত্য বিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত।
শুধু অভিনয় নয়, শিক্ষাক্ষেত্রেও দেবলীনার অবদান উল্লেখযোগ্য। সম্প্রতি ঠাকুরের নৃত্যে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেছেন তিনি এবং রাবিন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি প্রভাষক হিসেবেও যুক্ত আছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অভিনেতা গৌরব চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী। এই বহুমাত্রিক পরিচয়ের মধ্যেই এক সাক্ষাৎকারে ফেমিনিজম নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধির কথা তুলে ধরেছেন দেবলীনা।
সম্প্রতি সাক্ষাৎকারে দেবলীনা বলেন, “আমি ফিনান্সিয়াল স্টেবল এবং আমি নিজে ইনকাম করি বলে আমি রান্না করবো না—এই জিনিসটাকে ফেমিনিজম বলে না।” তাঁর মতে, কেউ রান্না করতে না চাইলে সেটা ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়, কিন্তু শুধুমাত্র ফেমিনিজমের দোহাই দিয়ে রান্নাকে নিজের কাজ নয় বলা একেবারেই ঠিক নয়। রান্নাকে তিনি একটি শিল্প হিসেবেই দেখেন এবং এই কাজকে ছোট করে দেখার কোনও মানে নেই বলেও স্পষ্ট করেন।
আরও পড়ুনঃ ‘এক মাস পুলিশের তাড়া খেয়েছি…পকেটে মাত্র কুড়ি টাকা, বালি ব্রিজে বউকে সিঁদুর পরিয়েছিলাম!’ এক সময়ের অনিশ্চয়তা ও আত্মত্যাগে ভরা জীবন থেকে, আজ তিনি প্রতিষ্ঠিত! জীবনের অন্ধকার অধ্যায় জানালেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য!
দেবলীনা আরও জানান, তাঁর বাড়িতে যখন কোনও অনুষ্ঠান বা বিশেষ উপলক্ষ হয়, তখন তিনি নিজের হাতেই রান্না করেন। তাঁর মতে, পেশাগত সাফল্য ও আর্থিক স্বনির্ভরতার সঙ্গে সঙ্গে ঘরের কাজ বা রান্নার মতো বিষয়গুলোও সম্মানের সঙ্গে দেখা উচিত। ফেমিনিজম মানে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া নয়, বরং নিজের পছন্দ ও সিদ্ধান্তের স্বাধীনতা—এই বার্তাই নিজের কথার মাধ্যমে তুলে ধরেছেন দেবলীনা কুমার।






