সারা দেশজুড়ে যখন গ্যাসের সংকট নিয়ে সাধারণ মানুষ দুশ্চিন্তায়, তখন সেই সমস্যার বাইরে নন অভিনেত্রী কনীনিকা ব্যানার্জি। গ্যাস বুকিং করার পরও নির্দিষ্ট সময়ে সিলিন্ডার না পাওয়ার অভিযোগ এখন অনেকেরই। এই পরিস্থিতিতে অভিনেত্রীও পড়েছেন বিপাকে। বাড়িতে প্রায় শেষ হয়ে এসেছে গ্যাসের সিলিন্ডার, তাই বাধ্য হয়েই বিকল্প পথ বেছে নিতে হয়েছে তাঁকে। ইন্ডাকশন ওভেন, রাইস কুকার এমনকি কাঠের উনুনের মতো পুরনো পদ্ধতিতেও এখন রান্না করছেন তিনি। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে নিজের এই অভিজ্ঞতার কথাই খোলাখুলি ভাগ করে নিয়েছেন কনীনিকা।
অভিনেত্রীর কথায়, বাড়ির প্রায় সব দায়িত্বই তিনি একাই সামলান। প্রতিদিনের কাজের চাপের মধ্যেই বাড়ির খুঁটিনাটি বিষয়েও নজর রাখতে হয় তাঁকে। তবে গ্যাসের বিষয়টি যে এত বড় সমস্যায় পরিণত হবে তা তিনি আগে বুঝতে পারেননি। কনীনিকা বলেন, একা হাতে সব সামলাতে গিয়ে কখনও কখনও কিছু বিষয় চোখ এড়িয়ে যায়। তবু পরিস্থিতিকে দোষ না দিয়ে বাস্তবতাকে মেনে নেওয়ার পক্ষেই তিনি। তাঁর মতে, গ্যাস তো এমন কিছু নয় যা মুহূর্তের মধ্যে উড়ে এসে পৌঁছে যাবে, তাই ধৈর্য ধরেই পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে।
এই কঠিন সময়ে কীভাবে দিন কাটছে সেটাও খোলামেলা জানিয়েছেন অভিনেত্রী। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ হিসেবে নিজেদেরই ভাবতে হবে কীভাবে এই পরিস্থিতিতে টিকে থাকা যায়। তাঁর বাড়িতে এখন যে সিলিন্ডারটি রয়েছে সেটিই শেষ সিলিন্ডার এবং সেটাও হয়তো আর দু একদিন চলবে। তাই আগেভাগেই তিনি বিকল্প ব্যবস্থা করে রাখছেন। ইন্ডাকশন ব্যবহার করছেন, নতুন করে রাইস কুকার কিনেছেন এবং প্রয়োজনে কাঠের জ্বালায় রান্না করতেও তিনি প্রস্তুত।
শুধু বাড়িতেই নয়, কাজের জায়গাতেও এই সংকটের প্রভাব পড়েছে। কনীনিকা জানান, সম্প্রতি একটি শুটিংয়ের সময় পুরো ইউনিটের রান্নাই করতে হয়েছে কাঠের জ্বালায়। আধুনিক গ্যাস চুলোর বদলে সেই পুরনো পদ্ধতিতে রান্না হওয়ায় সময়ও লেগেছে অনেক বেশি। তবু সবাই মিলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। অভিনেত্রীর মতে, এই অভিজ্ঞতা হয়তো কষ্টকর, কিন্তু দলবদ্ধভাবে কাজ করলে অনেক কঠিন পরিস্থিতিও সামলে নেওয়া যায়।
আরও পড়ুনঃ এবার জলসা কাঁপাবে বাংলার টিআরপি! শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট দখলের যুদ্ধে এবার নতুন জুটি রণজয়-অভীকা! আসছে ‘প্রতিজ্ঞা’
তবে এই পরিস্থিতির জন্য কিছুটা ভোগান্তিও পোহাতে হয়েছে তাঁদের। অভিনেত্রী জানান, সেদিন শুটিংয়ের সেটে সবাইকে দীর্ঘ সময় না খেয়েই থাকতে হয়েছিল। রান্না শেষ হতে দেরি হওয়ায় বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে লাঞ্চ ব্রেক হয়। ততক্ষণ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে গোটা ইউনিটকে। কনীনিকার কথায়, সামান্য কষ্ট হলেও এই সময়ে সেটাই স্বাভাবিক। পরিস্থিতি যেমনই হোক, ধৈর্য আর মানিয়ে নেওয়ার মনোভাব থাকলে সব সমস্যার মধ্যেও এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।






