হাসিখুশি কেশবের চোখে মুখে চিন্তার ছাপ! হঠাৎ রাতের ঘুম উধাও, উদ্বিগ্ন বাবা রাজা ও মা মধুবনী! কী এমন হয়েছে একরত্তির?

টেলিপাড়ায় যখন সম্পর্কগুলো অকালেই ঝরে যায়, ‘মধুবনী গোস্বামী’ (Madhubani Goswami) এবং ‘রাজা গোস্বামী’র (Raja Goswami) সম্পর্ক যেন সবাইকে ভুল প্রমাণ করে আরও দৃঢ় হয় ওঠে। একসঙ্গে প্রথম অভিনয় থেকে সংসার, আজ দুটিতে খুব সুখী জীবন কাটাচ্ছে। আর তাঁদের জীবন আরও রঙিন করে তুলেছে, তাদের পুত্রসন্তান কেশব। বর্তমানে, মধুবনী নিয়মিত অভিনয় না করেও, ব্যাবসা এবং পার্লার নিয়েই ব্যাস্ত থাকেন। এদিকে রাজাও ‘চিরসখা’ ধারাবাহিকের নিয়মিত মুখ।

সারাদিন দু’জনে যত ব্যস্ততাই থাকুক না কেন, দিনের শেষে একসঙ্গে সময় কাটান তাঁরা। শুটিং থেকে ফিরতে যতই রাত হোক, ছেলের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানো চাই-ই চাই বাবার। কারণ ছোট্ট কেশবের কাছে বাবা মানেই সারাদিনের জমিয়ে রাখা অজস্র গল্প, আবদার আর অবুঝ প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার ঠিকানা। বাবার সঙ্গে সেগুলো ভাগ করে না নিতে পারলে, একরত্তির যেন ভালোই লাগে না।

তাই রাজা যতই ক্লান্ত হোন, কেশবের জেদের কাছে হার মানেন। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরেই নাকি একটা অদ্ভুত সমস্যায় পড়েছেন রাজা! কারণ, দিনের শেষে যতই গল্প আর আল্লাদ চলুক, ছেলে কেশবের যেন দুই চোখে এক ফোঁটাও ঘুম আসছে না! রাতে তো ঘুম নেই, এমনকি সকালে ঘুম ভাঙলেও ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট! কিন্তু নিয়ে যেন খুব ভয়ে আছে সে, আর তাই নিয়ে চোখে-মুখে একরাশ চিন্তা। সম্প্রতি, কাজ থেকে ফিরে রাজা একটি ভিডিও করেন।

সেখানে তিনি ছেলেকে প্রশ্ন করেন, ঘুম আসছে না কেন? কী এমন ভাবনা, যে মন এত অস্থির হয়ে উঠেছে? কেশবের উত্তরে, সেটা প্রথমে বুঝে উঠতে পারেননি রাজাও! ছেলেকে ফের প্রশ্ন করতেই আস্তে আস্তে সামনে আসে আসল ঘটনা। সারাদিন কী করেছে, কী ভেবেছে, সব জানাতে গিয়ে কেশব জানায় যে তার মাথার ভেতর একটাই জিনিস ঘুরছে। এত কাজ, এত দায়িত্ব! কোথাও বেড়াতে গেলেও মন পড়ে থাকে ঘরেই। এত সুন্দর কিছু হলে নাকি তা ভুলে থাকা যায় না।

শুনে রাজাও খানিক অবাক! প্রসঙ্গত, দিন কয়েক আগেই কেশবকে তার মা-বাবা ভালোবেসে একটি খেলনার কিচেন সেট উপহার দিয়েছে। আর সেখানেই শুরু বিপত্তি! কেশবের দাবি, রান্নাঘরের কত কাজ যে, সব সামলাতে গিয়ে তার ঘুম উধাও! এত সুন্দর কিচেন যে মাথা থেকে নামতেই চায় না। সেই চিন্তাতেই দিন-রাত একাকার হয়ে যাচ্ছে তার। ছেলের এই ‘বড় সমস্যার’ গুরুত্ব বুঝে রাজা মজার ছলেই সমাধানের পথ খোঁজেন।

আরও পড়ুনঃ সঙ্গীত জগতের আরও এক উজ্জ্বল নক্ষত্র পতন! মাত্র ৪৩ বছরেই প্র’য়াত, ‘ইন্ডিয়ান আইডল’ জয়ী প্রশান্ত তামাং! পুলিশ কনস্টেবল থেকে তারকা, আজও তাঁর জীবন অনুপ্রেরণা! কীভাবে প্রা’ণ হারালেন তিনি?

কেশবকে তিনি জানতে চান, কী করলে সে কিচেন সেট ভুলে ঘুমাতে যাবে? কেশব তখন বাবাকে জানায়, তার প্রিয় একটি পুতুলের গলার অংশ ছিঁড়ে গিয়েছে, সেখান থেকে তুলো বেরিয়ে যাচ্ছে! বাবা যদি সেটা ঠিক করে দেয়, তাহলে সে কিচেনের কথা ভুলে যাবে। ছেলের এমন আবদারে রাজা কী করলেন, সেটা অবশ্য জানা যায়নি। তবে বাবা-ছেলের এই ছোট্ট কথোপকথনেই ধরা পড়ে, পর্দার বাইরে রাজার জীবনের সবচেয়ে বড় চরিত্র এখন এই একরত্তি কেশবই।

You cannot copy content of this page