গতকাল রাতে, কলকাতার করুণাময়ী সেন্ট্রাল পার্কের বইমেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত হয়েছিল ‘শিলাজিৎ মজুমদার’ (Shilajit Majumdar) –এর লাইভ শো (Live Show)। অনুষ্ঠান প্রায় শেষের দিকে পৌঁছে গিয়েছিল, এমন সময়ই ঘটে যায় অপ্রত্যাশিত একটি ঘটনা। মঞ্চে গান চলাকালীন এক পুলিশ আধিকারিক এসে বিতর্কিত ইঙ্গিতের মাধ্যমে তাঁকে নামতে বলেন বলে অভিযোগ! সেই মুহূর্তের একটি ভিডিও পরে সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তা নিয়ে শুরু হয় বিস্তর আলোচনা। অনেকেই শিল্পীর প্রতিক্রিয়া আর পরিস্থিতি সামলানোর ভঙ্গি নিয়েও মতামত জানাতে শুরু করেন।
তবে, আদতেই কী ঘটেছিল কাল? এদিন গায়কের কথায়, এই অনুষ্ঠান ঘিরে আগে থেকেই কিছু পরিবর্তন হয়েছিল। আগের দিন বৃষ্টির কারণে অন্য একটি ব্যান্ডের অনুষ্ঠান বাতিল হওয়ায় সেই দলকেও সেদিনের সময়সূচির মধ্যে জায়গা দেওয়া হয়। ফলে, তাঁর নির্ধারিত সময় পিছিয়ে যায় এবং বেশ দেরিতে মঞ্চে ওঠার সুযোগ পান। তবু, সহকর্মীদের কথা ভেবে তিনি আপত্তি করেননি এবং অপেক্ষা করেই নিজের অনুষ্ঠান শুরু করেন। আয়োজকদের তরফে তাঁকে জানানো হয়েছিল যে রাত ১১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান চালানোর অনুমতি রয়েছে, সেই হিসেবেই গান চলছিল।
তাহলে তাল কাটলো কোথায়? শিল্পীর বক্তব্য অনুযায়ী, শেষ গানটি গাওয়ার সময় হঠাৎ করেই পুলিশি হস্তক্ষেপ ঘটে! অভিযোগ, তখনও নির্ধারিত সময় শেষ হতে কয়েক মিনিট বাকি ছিল। সেই মুহূর্তে যেভাবে তাঁকে মঞ্চ ছাড়তে বলা হয়, সেটাই তাঁর কাছেও অসম্মানজনক মনে হয়েছে। এছাড়াও তাঁর মতে, বিষয়টি ভদ্রভাবে জানানো হলে তিনি নিশ্চয়ই অনুষ্ঠান শেষ করে দিতেন। কিন্তু আঙুল তুলে নির্দেশ দেওয়ার ভঙ্গি তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলে এবং সেই কারণেই তিনি মঞ্চেই নিজের আপত্তি জানান।
প্রসঙ্গত,ওই ভিডিওতে দেখা গিয়েছে যে গায়ক শান্তভাবেই নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করছেন এবং বলছেন যে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাংলার মাটিতে গান গেয়ে আসছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এত বছর ধরে বিভিন্ন জায়গায় অনুষ্ঠান করলেও এভাবে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর খুব কমই হয়েছে। শেষ পর্যন্ত তিনি আর গান না গেয়েই মঞ্চ ছেড়ে দেন। তাঁর এই প্রতিক্রিয়ার ভিডিওই পরে তুমুল ভাইরাল হয়ে যায় এবং সামাজিক মাধ্যমে তা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক ওঠে তুঙ্গে।
আরও পড়ুনঃ “তখন এত আদর্শ ছিল, এখন গেল কোথায়?” “নীতিবোধ হঠাৎ বদলে গেল, এটাই কি সেই শালীনতা?” নিজেই বলেছিলেন ছোট পোশাকে শরীর দেখিয়ে টাকা রোজগার করেন না, আজ তিনিই ফিনফিনে পোশাকে মঞ্চে! শ্বেতার উরু স্পষ্ট দেখা যেতেই, খোঁচা নেটিজেনদের!
উল্লেখ্য, এই ঘটনার প্রসঙ্গে তিনি আরও একটি বড় বিষয়ের দিকে আঙুল তুলেছেন। শিল্পীদের প্রতি সহনশীলতা আর সম্মান কমে যাওয়ার প্রবণতা। নানান কারণে অনেক সময় অনুষ্ঠান দেরিতে শুরু হয়, কখনও আবহাওয়া, কখনও প্রযুক্তিগত সমস্যার জন্য। তবু, শিল্পীরা পরিস্থিতি মেনে নিয়ে দর্শকদের কথা ভেবেই অনুষ্ঠান চালিয়ে যান। তাঁর মতে, এসব ক্ষেত্রে সামান্য সৌজন্য বা বোঝাপড়া থাকলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না। ঘটনার পরে নেটমাধ্যমে অনেকেই শিল্পীর পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং নিজেদের মতামতও জানিয়েছেন।






