‘আমি যদি ভাবি যে স্বামী হৃতিক রোশনের মতো হবে, রোজ সংসারে অশান্তি হাওয়াই স্বাভাবিক!’ সম্পর্কের স্থায়িত্ব বাহ্যিক সৌন্দর্যে নয়, একে অপরকে সহযোগিতা ও সম্মান জানানোই গুরুত্বপূর্ণ! সম্পর্কের ভঙ্গুরতা প্রসঙ্গে অপরাজিতা আঢ্য!

সম্প্রতি সমাজে বিচ্ছেদ (Divorce) প্রবণতা যেমন বেড়ে গেছে, তেমনি সম্পর্কের ভঙ্গুরতা যেন একেবারে প্রকাশ্যে চলে এসেছে। শুধু বিনোদন জগতেই নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও সম্পর্কের সঙ্গতি ও স্থায়ীত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আমাদের চারপাশে দিন দিন এই প্রক্রিয়া আরও জোরালোভাবে ফুটে উঠছে, যা আগে কখনও এতটা দৃশ্যমান ছিল না। যেখানে একসময় মানুষ একে অপরকে ধরে রাখার চেষ্টা করত, সেখানে এখন আরও বেশি মানুষ সম্পর্কের গভীরতা আর স্থায়ীত্ব নিয়ে চিন্তিত। এই সময়েই টলিউডের প্রখ্যাত অভিনেত্রী ‘অপরাজিতা আঢ্য’র (Aparajita Adhya) একটি কথা যেন, সম্পর্কের মুল্য ও তার রক্ষণাবেক্ষণের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ভাবতে বাধ্য করছে!

অপরাজিতার জীবনের গল্প যেমন অনুপ্রেরণামূলক, তেমনি তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও একটা শিক্ষা দিতে পারে। তিনি স্বীকার করেছেন, সম্পর্কের ক্ষেত্রে শর্তের কোনো জায়গা নেই। একসময় তিনি তাঁর বয়সে অনেক বড় একজন মানুষকে বিয়ে করেন, যার পরিবার ছিল মাঝারি আয়ের, বাড়ি ছিল ছোট, তবে ভালোবাসা ছিল বিশাল। তবুও, সমাজের কিছু মানুষ তাঁর সম্পর্ককে নিয়ে মন্তব্য করেছিল। এমনকি তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকেও সেই সম্পর্ককে মেনে নেয়া হয়নি। কিন্তু, অপরাজিতা তাঁর নিজের পছন্দে এবং আত্মবিশ্বাসে থাকতে চেয়েছিলেন। আজ, প্রায় ৪০ বছর পর তারা সুখী দাম্পত্য জীবন কাটাচ্ছেন।

তবে, সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছু নিছক বাহ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি বা স্টিরিওটাইপের ধারণা কাজ করতে পারে না। এক্ষেত্রে অপরাজিতা সম্প্রতি বলেন, “আমি যদি আশা করি যে আমার বরকে বলিউডের হৃতিক রোশনের মতো দেখতে হবে, তাহলে তো সংসারে নিত্যদিন অশান্তি হবেই।” তিনি স্পষ্টভাবে বুঝিয়েছেন, যে কোনও সম্পর্কের ভিত্তি বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য নয়, বরং একে অপরের প্রতি ভালোবাসা, সমর্থন এবং শ্রদ্ধা। সঙ্গী হতে হবে এমন কোনও আদর্শ, যেখানে তাঁরা একে অপরকে উন্নতির পথে সাহায্য করবে, জীবনটাকে সুন্দরভাবে বাঁচতে পারবে আর এটাই আসল কথা।

সম্পর্কের গভীরতা, যেখানে ভালোবাসার সঙ্গে যুক্ত থাকে সহানুভূতি আর সহমর্মিতা, সেখানে বিচ্ছেদের শঙ্কা কমে আসে। অপরাজিতা আঢ্য তাঁর জীবনের এই অভিজ্ঞতাকে সামনে এনে প্রমাণ করেছেন যে, সম্পর্ক যতটা বাহ্যিকতা ও স্টিরিওটাইপের বাইরে, ততটা দীর্ঘস্থায়ী ও শক্তিশালী হয়। সম্পর্ককে সঠিকভাবে রক্ষা করতে হলে কেবল একে অপরকে সময় দিতে হবে না, বরং একে অপরের ব্যক্তিত্বকে সম্মান জানানোও গুরুত্বপূর্ণ। অপরাজিতার মতে, যে কোনও সম্পর্কের মধ্যে একে অপরকে ভালোভাবে বোঝা, সহযোগিতা করা এবং ছোট ছোট মুহূর্তগুলোকে উপভোগ করা সবচেয়ে বেশি দরকার।

আরও পড়ুনঃ “যখন তখন বেডরুমে ঢুকে পরে” অস্ব’স্তিকর অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে আনলেন ‘মৌরি’, মানালি দে! জনপ্রিয়তার আড়ালে লুকিয়ে থাকা কোন বাস্তবতা ফাঁস করলেন অভিনেত্রী?

কারণ, অনেক সময় মানুষ নিজের একান্ত ইচ্ছাগুলোকেই সম্পর্কের একমাত্র মাপকাঠি মনে করে। তবে, সঠিক সম্পর্কের চাবিকাঠি হচ্ছে ‘যতটা ভালোবাসা, ততটাই একে অপরের জন্য সহনশীলতা।’ আজকের দিনে যখন সম্পর্কের অস্থিরতা এবং বিবাহ বিচ্ছেদ বেড়ে যাচ্ছে, তখন অপরাজিতার মতো মানুষরা আবারও আমাদের শিখিয়ে দেন, আদর্শ জীবনসঙ্গীর সঙ্গে সুস্থ জীবন পেতে গেল, বাহ্যিক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর নির্ভর না করে, নিজের অনুভূতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা দিয়েই সম্পর্ক গড়ে তুলতে হয়।

You cannot copy content of this page