টলিউড জগতের পরিচিত মুখ রাজেশ শর্মা। দীর্ঘদিন ধরে বাংলা সিনেমা এবং হিন্দি চলচ্চিত্র—দুই ক্ষেত্রেই নিজের অভিনয়ের ছাপ রেখে চলেছেন তিনি। দর্শকদের কাছে তিনি কখনও কঠোর ভিলেন, কখনও আবার মজাদার চরিত্রাভিনেতা। অভিনয়ের বহুমুখী দক্ষতার জন্যই আজ তিনি টলিউড থেকে বলিউড—দুই ইন্ডাস্ট্রিতেই সমানভাবে পরিচিত নাম। তবে আলো-ঝলমলে পর্দার বাইরেও নিজের জীবন, শৈশব এবং শহর কলকাতাকে নিয়ে তিনি বেশ আবেগপ্রবণ—সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে সেই কথাই খোলামেলা জানালেন অভিনেতা।
অভিনয় জীবনে বহু জনপ্রিয় ছবিতে কাজ করেছেন রাজেশ শর্মা। বাংলা সিনেমায় পরপর হিট ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের মনে স্থায়ী জায়গা করে নেন তিনি। অন্যদিকে বলিউডেও তাঁর কাজ সমান প্রশংসিত। দ্যা ডার্টি পিকচার, তানু ওয়েডস মানু রিটার্নস, বাজরাঙ্গি ভাইজান, টয়লেট: এক প্রেম কথা-র মতো জনপ্রিয় ছবিতেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা গেছে তাঁকে। দুই ইন্ডাস্ট্রিতে সমান দক্ষতার সঙ্গে কাজ করলেও নিজের শহর কলকাতার প্রতি তাঁর টান বরাবরই আলাদা।
সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে নিজের শিকড়ের কথা বলতে গিয়ে রাজেশ শর্মা জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি কলকাতাতেই বড় হয়েছেন। তাঁর বাবা ও জেঠু ব্যবসার কারণে সেই সময় কলকাতায় চলে আসেন। তখন তাঁর বয়স মাত্র দেড় থেকে দুই বছর। ফলে পড়াশোনা, বেড়ে ওঠা—সবটাই এই শহরেই। অভিনেতার কথায়, “আমি কলকাতার মানুষ। এই শহরকে খুব ভালোবাসি। অনেকেই বলেছে মুম্বইতে ফ্ল্যাট কিনে থাকতে, কিন্তু আমি নিইনি। যেখানে থাকব না, সেখানে ফ্ল্যাট নিয়ে কী হবে?”
শুধু তাই নয়, নিজের স্কুলজীবনের কথাও স্মরণ করেন তিনি। তিনি পড়াশোনা করেছেন আদর্শ হিন্দি হাই স্কুলে এবং পরে ভবানীপুর এডুকেশন সোসাইটিতে কলেজ জীবন কাটিয়েছেন। তিনি জানান, বাঙালি পাড়ায় বড় হলেও হিন্দি মাধ্যম স্কুলে পড়ার কারণে একসময় একটু সংকোচ অনুভব করতেন। আশেপাশের বন্ধুরা সেন্ট লরেন্স বা সেন্ট থমাসে পড়লেও তিনি নিজের স্কুলের নাম বলতে একটু লজ্জা পেতেন। তবে এখন মনে হয়, ভাষা বা স্কুল কোনওটাই আসলে বড় বিষয় নয়। বরং সেই কারণেই তাঁর হিন্দি ভাষার দখল খুব শক্ত হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ “ধর্মের বাড়াবাড়িতে দেশটাই এখন ‘বোকা ভারত’…এই দেশ কারও পৈতৃক সম্পত্তি নয়, আগে সবাই একে অপরকে ‘জনাব’ বলত!” জন্মদিনেই সমাজ-রাজনীতি নিয়ে কড়া সুর! ৭৭-এ পৌঁছে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সরব কবীর সুমন!
তবে প্রিয় শহর কলকাতাকে নিয়ে এখন এক ধরনের আক্ষেপও প্রকাশ করেছেন রাজেশ শর্মা। অভিনেতার কথায়, গত কয়েক মাস ধরে তিনি অনুভব করছেন শহরটা ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে। তাঁর মতে, মানুষের জীবনযাত্রা, চিন্তাভাবনা এবং শহরের পরিবেশ—সবকিছুতেই পরিবর্তনের ছাপ স্পষ্ট। আগে কলকাতার যে সহজ, আন্তরিক এবং সংস্কৃতিমনস্ক পরিবেশ ছিল, এখন তা অনেকটাই বদলে যাচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। সেই কারণেই ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তাও প্রকাশ করেছেন অভিনেতা। যদিও তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, মুম্বইয়ে স্থায়ীভাবে থাকার কোনও পরিকল্পনা তাঁর নেই। কারণ তাঁর কথায়, “কলকাতা ছাড়া আমি বাঁচতে পারব না।” তবু শহরের এই বদলে যাওয়া তাঁকে ভাবাচ্ছে, আর সেই কারণেই তিনি বলেছেন—ভবিষ্যতে কতদিন কলকাতায় থাকতে পারবেন, তা নিয়ে তিনি নিজেও নিশ্চিত নন।






