বাড়ছে অসন্তোষ, উদ্বে’গজনক পরিস্থিতিতে বন্ধের মুখে মুখ্যমন্ত্রীর গড়া টলিউড স্ক্রিনিং কমিটি! এবার প্রশ্নের মুখে বাংলা ছবির ভবিষ্যৎ?

বাংলা ছবির স্বার্থে যে স্ক্রিনিং কমিটি গড়া হয়েছিল, তা কি তবে অল্প দিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যেতে চলেছে। এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে টলিপাড়ার অন্দরে। গত বছরের ১৫ অগস্ট পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একই দিনে মুক্তি পেয়েছিল বলিউড ও দক্ষিণের তিনটি বড় বাজেটের ছবি। সেই ভিড়ের মধ্যেই কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের পরিচালনায় মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ধুমকেতু নিয়ে চিন্তায় পড়ে যান বাংলা ছবির সঙ্গে যুক্ত সকলেই। আশঙ্কা ছিল প্রাইম ডেট ও প্রাইম শো না পেলে ছবিটি বড় ক্ষতির মুখে পড়বে।

সেই সময় শুধু দেব নন, শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে একাধিক শিল্পী ও প্রযোজক রাস্তায় নেমে প্রতিবাদে সামিল হয়েছিলেন। নিসপাল সিং রানে ও শ্রীকান্ত মেহতার মতো প্রযোজকরাও বাংলা ছবির অধিকার রক্ষায় সরব হন। সকলের একটাই দাবি ছিল উৎসবের মরসুমে বাংলা ছবিকে প্রাধান্য দিতে হবে। সেই দাবি পৌঁছয় মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে মুখ্যমন্ত্রী গঠন করেন একটি স্ক্রিনিং কমিটি।

এই কমিটির দায়িত্ব ছিল বাংলা ছবিকে প্রাইম ডেটে প্রাইম শো নিশ্চিত করা এবং উৎসবের দিনে মুক্তির তারিখ সুষ্ঠুভাবে নির্ধারণ করা। কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন মন্ত্রী স্বরূপ বিশ্বাস এবং সভাপতি ছিলেন পিয়া সেনগুপ্ত। শুরুতে সকলের আশা ছিল এই কমিটির মাধ্যমে বহুদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে। বাংলা ছবির ভবিষ্যৎ আরও শক্ত ভিত পাবে বলে মনে করেছিলেন ইন্ডাস্ট্রির মানুষজন।

কিন্তু বাস্তব চিত্র নাকি ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে। শোনা যাচ্ছে, এই কমিটির কাজকর্ম নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে এবং খুব শীঘ্রই এটি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আনন্দবাজার ডট কমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেব স্পষ্ট করে বলেন, কমিটির উদ্দেশ্য ছিল সবকিছু সুষ্ঠুভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। কিন্তু কমিটি গঠনের পর থেকেই সমস্যা কমার বদলে আরও বেড়েছে। আগে মতবিরোধ হলেও তা মিটে যেত, এখন আর তা হচ্ছে না।

আরও পড়ুনঃ ‘আমি যদি ভাবি যে স্বামী হৃতিক রোশনের মতো হবে, রোজ সংসারে অশান্তি হাওয়াই স্বাভাবিক!’ সম্পর্কের স্থায়িত্ব বাহ্যিক সৌন্দর্যে নয়, একে অপরকে সহযোগিতা ও সম্মান জানানোই গুরুত্বপূর্ণ! সম্পর্কের ভঙ্গুরতা প্রসঙ্গে অপরাজিতা আঢ্য!

দেব নিজেকে নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে উল্লেখ করে জানান, তিনি কোনও পক্ষ নেননি এবং তাই নোটায় ভোট দিয়েছেন। তাঁর কথায়, তিনি কেবল ইন্ডাস্ট্রির ভাল চান। অভিনেতার মতে, এখন একে অপরের প্রতি আস্থা কমে যাচ্ছে, কথাবার্তা কম হচ্ছে কিন্তু গুজব বাড়ছে। তবুও তিনি আশাবাদী। তাঁর বিশ্বাস, আগামী দিনে সব ভুল বোঝাবুঝি কাটবে এবং আবার সকলে একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাংলা ছবির স্বার্থে কাজ করবেন।

You cannot copy content of this page