আজকের দিনে সমাজ মাধ্যম যতটা যোগাযোগের সহজ রাস্তা তৈরি করেছে, ঠিক ততটাই বাড়িয়ে দিয়েছে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অযাচিত আলোচনা আর কটাক্ষের প্রবণতা। সম্প্রতি জনপ্রিয় ভ্লগার ও গায়িকা ‘দেবলীনা নন্দী’র (Debolina Nandy) আ’ত্মহা’নির চেষ্টার ঘটনা এবং তার সঙ্গে দাম্পত্য জীবনের টানাপোড়েন প্রকাশ্যে আসার পর, এই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবনা শুরু হয়েছে টলিউডে। বিশেষ করে ব্যক্তিগত জীবন কতটা প্রকাশ্যে আনা উচিত, সেই প্রশ্নটাই এখন ঘুরে ফিরে আসছে আলোচনায়।
এই প্রেক্ষাপটেই আবারও নিজের সংযত অবস্থানের কথা মনে করিয়ে দিলেন যিনি বরাবরই ভিড়ের থেকে আলাদা, টলিউডের ‘টলি কুইন’ কোয়েল মল্লিক (Koel Mallick)। শুধুমাত্র অভিনেত্রী হিসেবে নয়, চিন্তাভাবনা আর দৃষ্টিভঙ্গির দিক থেকেও তিনি বরাবর ব্যতিক্রমী। পারিবারিক শিক্ষা এবং ব্যক্তিগত শালীনতা তাঁর আচরণে স্পষ্ট। সমাজ মাধ্যমে তিনি যে খুব একটা সক্রিয় নন, সেটাও এই কারণেই। অল্প পোস্ট, সীমিত উপস্থিতি আর সচেতন দূরত্বর পথটাই তিনি বেছে নিয়েছেন বহুদিন ধরেই।
ট্রোলিং বা অনলাইন কটাক্ষের বিষয়েও কোয়েলের অবস্থান পরিষ্কার। নিজে খুব একটা এই ধরনের আক্রমণের মুখে না পড়লেও, ইন্ডাস্ট্রির সহকর্মীদের উদ্দেশে ছোড়া কুৎ’সিত মন্তব্য তাঁকে ভাবায়। তাঁর মতে, এই ধরনের মন্তব্যের নেপথ্যে অনেক সময় ব্যক্তিগত হতাশা, ক্ষোভ কিংবা মানসিক অস্থিরতা কাজ করে। নিজের জীবনের য’ন্ত্রণা থেকেই অনেকে অন্যের দিকে আঙুল তোলে। তাই এই পরিস্থিতিতে অযথা প্রতিক্রিয়া না দেওয়াই যে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ, সেটাই তিনি বিশ্বাস করেন।
তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের প্রেক্ষিতে কোয়েল বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রশ্নে। ডেইলি ভ্লগিং বা সমাজ মাধ্যমে দিনের পর দিন নিজের জীবনের খুঁটিনাটি তুলে ধরার প্রবণতা ভবিষ্যতে কীভাবে চাপ তৈরি করতে পারে, সেই বিষয়টি নিয়েই তিনি কথা বলেছেন। এই প্রসঙ্গে কোয়েল মল্লিক বলেন, “আমার মনে হয় সমাজ মাধ্যমে সবারই কমবেশি নজরে আসার তাগিদ থাকে আর সেটার মূল কারণ বর্তমানে বেড়ে চলো একাকীত্ব। হয়তো তাদেরকে ব্যক্তিগত স্তরে কেউ বুঝতে পারে না বা নিজেদের তেমন ভাবে বোঝাতে অক্ষম।
আরও পড়ুনঃ “যার ভেতরটা সুন্দর তাঁর বাইরেটাও সুন্দর…মনটা সুন্দর না হলে, শরীর সুন্দর হয়েও লাভ নেই!” শ্রীময়ীকে ঘিরে কটা’ক্ষের প্রেক্ষিতে, সৌন্দর্য নিয়ে নিজের দর্শন ব্যাখ্যা করলেন কাঞ্চন মল্লিক!
এমন পরিস্থিতিতে, নিজের ভাবনাটা কারোর সঙ্গে ভাগ করে নিতেই হয়। যেহেতু পাশের মানুষটার সঙ্গে পারছি না। সমাজ মাধ্যমে ভাগ করতে গেলে, হাজার রকম প্রতিক্রিয়া আসতে পারে। তাই ‘এই যে আমি এটা করছি, তোমরা দেখো’…নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে এতটা উজাড় করে বলাটা হয়তো উচিৎ নয়।” কোয়েলের বক্তব্য যেন আজকের সময়ের জন্য এক ধরনের সতর্কবার্তা। অতিরিক্ত দৃশ্যমানতার দৌড়ে না নেমে, নিজের সীমারেখা নিজেই টেনে নেওয়াই যে অনেক সময় মানসিকভাবে সুস্থ থাকার একমাত্র উপায়, সেই কথাটাই যেন নীরবে বুঝিয়ে দেন কোয়েল মল্লিক।






“তুমি নাকি ডিভোর্স স্পেশালিস্ট!” বারবার দোষারোপ, কটা’ক্ষে বি’দ্ধ সায়ক! নেটিজেনের খোঁচায় এমন জবাব দিলেন ভ্লগার-অভিনেতা, মুহূর্তে বদলে গেল আলোচনা! কী বললেন তিনি?