বিনোদন জগতের তারকাদের জীবন বাইরে থেকে যতটা ঝলমলে মনে হয়, বাস্তবে তা অনেকটাই ভিন্ন। ক্যামেরার সামনে হাসি, সাফল্য আর জনপ্রিয়তার আড়ালে লুকিয়ে থাকে ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিলতা, মানসিক টানাপোড়েন ও জীবনের কঠিন সিদ্ধান্ত। প্রেম, বিয়ে কিংবা বিচ্ছেদ—সব ক্ষেত্রেই তারকারা সাধারণ মানুষের মতোই ভুল করেন, শেখেন এবং এগিয়ে যান। তাই যখন কোনও অভিনেতা বা অভিনেত্রী নিজের জীবনের সংবেদনশীল অধ্যায় নিয়ে মুখ খুলতে চান, তখন তা স্বাভাবিকভাবেই দর্শকদের আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়।
বাংলা চলচ্চিত্র জগতের (Bengali Film Industry) পরিচিত মুখ সুদেষ্ণা রায় (Sudeshna Roy) দীর্ঘদিন ধরেই অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নানা চরিত্রে নিজেকে ভেঙে গড়েছেন তিনি। তবে অভিনয়ের বাইরেও তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ছিল নানা অভিজ্ঞতায় ভরা। সম্প্রতি সেই জীবনের এক পুরনো অধ্যায় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অভিনেত্রী নিজেই তুলে ধরেছেন নিজের ভাবনা, ভুল আর সেই সময়ের মানসিক অবস্থার কথা।
সুদেষ্ণা জানান, বিয়ের সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র কুড়ি। সেই বয়সে জীবন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা বা পরিপক্বতা অনেকটাই কম থাকে। অভিনেত্রীর কথায়, তখন তাঁর মন ছিল ভীষণ চঞ্চল। নিজের ভবিষ্যৎ, কেরিয়ার আর স্বাধীনতা—সবকিছু নিয়েই এক ধরনের টানাপোড়েন চলছিল। পরবর্তীতে তিনি নিজেই উপলব্ধি করেন, সেই সময়ের অনেক সিদ্ধান্তের পিছনে ছিল তাঁর নিজের অপরিণত মানসিকতা।
অভিনেত্রী আরও জানান, শ্বশুরবাড়ির পরিবেশ ছিল অত্যন্ত আধুনিক ও সহানুভূতিশীল। পড়াশোনার ক্ষেত্রে কোনও বাধা ছিল না। কিন্তু বারণ ছিল স্লিভলেস পোশাক পড়াতে, বিয়ের পরেও তিনি মাস্টার্স করছিলেন এবং পাশাপাশি থিয়েটারেও যুক্ত ছিলেন। তবে থিয়েটারের বিষয়টি তিনি নিজে থেকেই পরিবারকে জানাননি। কারণ সবকিছু খোলাখুলি বলার সাহস তখন তাঁর হয়ে উঠত না।
আরও পড়ুনঃ অর্ধবঙ্গেশ্বরীর সাহসী লড়াইয়ের অধ্যায়ের সমাপ্তি! মাত্র দু’দিনের নোটিশে বন্ধ শুটিং, বছর ঘুরতেই বিদায় ঘণ্টা বাজল ‘রাজরাজেশ্বরী রাণী ভবানী’র! হঠাৎ এমন পরিণতি কেন?
শেষ পর্যন্ত তাঁদের সম্পর্কে ভাঙন ধরে। তবে এই বিচ্ছেদে কোনও অশান্তি বা কাদা ছোড়াছুড়ি ছিল না। সুদেষ্ণা জানান, তাঁর প্রথম স্বামী ছিলেন অত্যন্ত ম্যাচিওর মানুষ, তাই দু’জনেই বোঝাপড়ার মাধ্যমেই ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত নেন। আজ সেই অধ্যায় ফিরে তাকিয়ে অভিনেত্রী স্পষ্ট বলেন—এই ভাঙনের দায় একা কারও নয়, বরং এটি তাঁর জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।






