গতকাল লেডি সুপারস্টার শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের (Subhashree Ganguly) একটি ছোট্ট ভিডিও বার্তাতেই যেন আচমকা নড়েচড়ে বসেছিল দেব-শুভশ্রী (Dev Subhashree) ভক্তমহল। কবে আসছে নতুন ছবি ‘দেশু ৭’, এই খবরের সঙ্গে সঙ্গে আরও একটি ঐতিহাসিক চমকের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি! জানিয়েছিলেন, ১৯ জানুয়ারি দেবের (Dev) সঙ্গে প্রথমবার ফেসবুক লাইভে এসে দর্শকদের প্রশ্নের উত্তর দেবেন এবং এমন একটি ঘোষণা করবেন, যা আগে হয়নি। সেই ভিডিও প্রকাশের পর থেকেই অপেক্ষার পারদ চড়তে শুরু করে, কৌতূহল জমে ওঠে ঠিক কী হতে চলেছে।
আজ, সোমবার দুপুরে ফাঁকা প্রেক্ষাগৃহে পাশাপাশি বসে লাইভে হাজির হন দেশু (Desu)। দুজনের কথোপকথনে ছিল পুরনো দিনের স্মৃতি, কাজের অভিজ্ঞতা আর দর্শকদের নানা প্রশ্নের সরাসরি উত্তর। শুভশ্রী সহজ ভঙ্গিতে গল্প করছিলেন, মাঝে মাঝে হাসি, মাঝে একটু থামা মিলিয়ে বহুদিন পর তাঁদের একসঙ্গে দেখার আনন্দটাই যেন লাইভটাকে আলাদা করে তুলেছিল। কমেন্ট বক্সে প্রশ্নের ভিড়, জুটির দেদার আড্ডা নজর কেড়েছে সবার। তবে, এখানে এমন একটি স্মৃতি ভাগ করলেন দেব, যা হয়তো এতদিন অনেকেই জানতে না!
লাইভের মাঝেই উঠে আসে দেবের জীবনের এক কঠিন সময়ের কথা! শুভশ্রী যখন টলিউডে কার্যত কোণঠাসা, একের পর এক ছবির দরজা বন্ধ, তখন অনেকেই তাঁর সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ছিলেন না বা কোথায় যাকে বলে ‘ব্যান’। সেই সময়েই ‘খোকাবাবু’ ছবির কথা মনে পড়ে দেবের। তিনি জানালেন, শুভশ্রীকে আবার নায়িকা হিসেবে ফিরিয়ে আনার ইচ্ছেতেই ছবিটা পরিকল্পনা করেছিলেন। টলিউডে ডিরেক্টর না পেয়ে প্রথমবার দক্ষিণ ভারত থেকে পরিচালক এনে কাজ করেছিলেন তিনি। প্রযোজক জোগাড় করাও সহজ ছিল না!
আর সেখান থেকেই দেবের প্রডিউসার হিসেবে ভাবনার শুরু। দেবের কথায়, ‘খোকাবাবু’ আজও তাঁর কাছে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং কাজগুলোর একটি। সেই অভিজ্ঞতা, সেই ঝুঁকি নেওয়ার সিদ্ধান্তই আজকের দেবকে তৈরি করেছে। তাই ‘দেশু ৭’ শুধু আরেকটা ছবি নয়, বরং পুরনো স্মৃতি, সাহসী সিদ্ধান্ত আর নতুন ভাবনার মিলন। লাইভের শেষে দেব জানালেন সেই বিশেষ সিদ্ধান্তের কথা। তাঁর কথায়, এতদিন সিনেমার টিকিট কাটা মানেই ছিল মুক্তির কাছাকাছি সময়ের বিষয়, কিন্তু এবার তাঁরা সেটাকে ভাঙতে চাইছেন।
আরও পড়ুনঃ বেহালায় দূরদর্শনের শিল্পীর নৃ’শংস খু’ন! নিজস্ব আবাসনে স্বামীর সামনেই, কু’পিয়ে কু’পিয়ে হ’ত্যা! ‘বাঁচাও বাঁচাও’ চিৎকারের পর র’ক্তাক্ত অবস্থায় দে’হ উদ্ধার! নেপথ্যে কারণ কী?
তাই ‘দেশু ৭’-এর জন্য দশ মাস আগে থেকেই অ্যাডভান্স বুকিং শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নির্বাচিত কিছু প্রেক্ষাগৃহে সীমিত সংখ্যক গোল্ডেন টিকিট রাখা হয়েছে, যেখানে দর্শক শুধু ছবি দেখবেন না, বরং একটি উদযাপনের অংশ হবেন। এই টিকিটের সঙ্গে থাকছে দেব ও শুভশ্রীর সই, আর নির্দিষ্ট দিনে সকালের প্রথম শো-তে উপস্থিত থাকার এক বিশেষ আহ্বান। ১৪ বছর বাদে, দেব-শুভশ্রীর এই ফেরাটা তাই অনেকের কাছেই শুধুই নস্টালজিয়া নয়, বরং বাংলা সিনেমার জন্য এক অন্যরকম মুহূর্তের ইঙ্গিত।






