গত কয়েকদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে গায়িকা ও ইনফ্লুয়েন্সার দেবলীনা নন্দীকে ঘিরে তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ আর কৌতূহলের আবহ। ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করার খবর প্রকাশ্যে আসতেই অনুরাগী থেকে শুরু করে শিল্পীমহল সকলেই শিউরে উঠেছেন। অনেকেই তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করে বার্তা পাঠিয়েছেন, আবার কেউ কেউ নানা প্রশ্ন ও অনুমান তুলে ধরেছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নেটদুনিয়ায় আলোচনা যেন থামছেই না। তবে এই কঠিন সময়ে দেবলীনা একা নন, তাঁর পাশে নিরব অথচ দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছেন প্রিয় বন্ধু সায়ক।
এই বন্ধুত্বের দৃশ্য প্রকাশ্যে আসতেই কিছু মানুষ কটু মন্তব্য করতে শুরু করেন। দুজনকে একসঙ্গে দেখলেই তাঁদের সম্পর্কের ভিন্ন অর্থ খোঁজার চেষ্টা হয়েছে, অপ্রয়োজনীয় প্রশ্নও উঠেছে বারবার। কিন্তু দেবলীনা ও সায়ক এসব কথায় গুরুত্ব না দিয়ে নিজেদের মতো করেই বন্ধুত্বকে আগলে রেখেছেন। কঠিন সময়ে একজন মানুষের পাশে আরেকজন মানুষের উপস্থিতি যে কতটা সাহস জোগাতে পারে, তাঁদের সম্পর্ক যেন সেটারই জীবন্ত উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার মুহূর্তে বন্ধুদের সমর্থন অনেক সময় ওষুধের থেকেও বেশি কাজ করে। দেবলীনাও সেই শক্তিটুকু পেয়েছেন সায়কের কাছ থেকে। একসঙ্গে সময় কাটানো, স্বাভাবিক কথাবার্তা, হাসি ঠাট্টার মধ্যেই ধীরে ধীরে ফিরে আসছে তাঁর আত্মবিশ্বাস। জীবনের কঠিন অধ্যায় পেরোতে গেলে যে ভালোবাসা আর বিশ্বাসের বন্ধন সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে দাঁড়ায়, এই বন্ধুত্ব তা আবার প্রমাণ করেছে।
গতকাল একটি অনুষ্ঠানে দেবলীনা ও সায়ককে একসঙ্গে হাসিমুখে গল্প করতে দেখা গিয়েছে। তাঁদের স্বাভাবিক ও প্রাণবন্ত উপস্থিতি অনেক অনুরাগীর মনেই স্বস্তি এনে দিয়েছে। দীর্ঘদিন পর দেবলীনার মুখে হাসি দেখে ভক্তরা আশাবাদী হয়েছেন যে তিনি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই শুভেচ্ছা বার্তায় ভরে উঠেছে মন্তব্যের ঘর।
আরও পড়ুনঃ তেঁতুলপাতার ‘ঝিল্লি’ ওরফে ঋতব্রতার জীবনে শুরু নতুন অধ্যায়! ছোটপর্দার গণ্ডি ছাড়িয়ে এবার বড়পর্দায় মুখ্য চরিত্রে সুযোগ? জুটি বাঁধছেন কার সঙ্গে?
সব মিলিয়ে বলা যায়, কটু মন্তব্য আর অযথা সমালোচনাকে উপেক্ষা করেও দেবলীনা ও সায়কের বন্ধুত্ব আজ আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। এই সম্পর্ক শুধু বন্ধুত্বের গল্প নয়, বরং মানবিক সহমর্মিতা ও মানসিক সমর্থনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। জীবনের অন্ধকার সময়ে পাশে থাকা একজন মানুষই যে নতুন আলো দেখাতে পারে, তা আবারও মনে করিয়ে দিল এই ঘটনাই।






