“প্রতিটা বিষয় নিয়ে আমাদের খাপ-পঞ্চায়েত বসানো বন্ধ করা উচিত!” পরিচিত নাম মানেই কি ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনার খোরাক? সেলিব্রিটি ট্রোল কালচার ও সামাজিক বিচারব্যবস্থার বিরুদ্ধে সরব ঊষসী চক্রবর্তী!

বিনোদন জগতের তারকারা আজকের দিনে শুধু কাজের জন্যই নন, ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও সবচেয়ে বেশি আলোচনার কেন্দ্রে থাকেন। সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে এক একটি মন্তব্য, ছবি বা আচরণ মুহূর্তের মধ্যে ট্রোলের খোরাকে পরিণত হয়। পরিচিত মুখ হওয়াটাই যেন অনেক সময় তাঁদের জন্য বাড়তি মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কাজের বাইরেও সারাক্ষণ বিচার, বিশ্লেষণ আর কটাক্ষের মধ্যে দিয়ে যেতে হয় বহু অভিনেতা-অভিনেত্রীকে। এই অবিরাম নজরদারি যে মানসিক স্বাস্থ্যের উপর গভীর প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে বারবারই কথা উঠছে।

এবার সেই বিষয়েই মুখ খুললেন টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ঊষসী চক্রবর্তী। ছোটপর্দার দর্শকদের কাছে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত নাম। বিশেষ করে স্টার জলসার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘শ্রীময়ী’ যখন সম্প্রচারিত হতো, তখন খলনায়িকার চরিত্রে ঊষসী হয়ে উঠেছিলেন বাংলার প্রায় প্রতিটি ঘরের চেনা মুখ। পর্দার চরিত্রের জন্য প্রশংসার পাশাপাশি কটাক্ষও কম শোনেননি তিনি, যা অভিনেত্রী হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

অভিনয়ের পাশাপাশি ঊষসী বরাবরই সামাজিক নানা বিষয়ে স্পষ্টবাদী। সমাজ, সম্পর্ক কিংবা ব্যক্তিগত পরিসর—এই সব বিষয়েই নিজের মতামত প্রকাশ করতে তিনি কখনও পিছপা হননি। শুধুমাত্র অভিনেত্রী হিসেবেই নয়, একজন সচেতন মানুষ হিসেবেও নানা সময়ে তাঁর বক্তব্য নজর কেড়েছে। বাস্তব জীবনে কীভাবে একজন শিল্পীর ব্যক্তিগত স্বাধীনতা থাকা প্রয়োজন, তা নিয়েও তিনি আগেও ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বলেছেন।

সম্প্রতি এক প্রসঙ্গে ঊষসী চক্রবর্তী স্পষ্ট ভাষায় জানান, “প্রতিটা বিষয় নিয়ে আমাদের খাপ-পঞ্চায়েত বসানো বন্ধ করা উচিত। পরিচিত নাম মানেই তাঁর জীবন নিয়ে খোরাক করে ফেলায় আমার সায় নেই।” তাঁর মতে, কোনও মানুষ জনপ্রিয় হলেই তাঁর ব্যক্তিগত জীবন সর্বসমক্ষে বিচার করার অধিকার কারও নেই। এই মানসিকতা থেকেই সমাজে অকারণ বিষাক্ততা ছড়ায় বলে মনে করেন অভিনেত্রী।

আরও পড়ুনঃ ‘গো’মাং’স’ বিতর্কে নতুন মোড়! ধর্মীয় উত্তাপ বাড়ানোর চেষ্টায়, সায়ক চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের! গ্রেপ্তারির দাবি জোরালো, লিখিত অভিযোগের পর তদন্তের পথে পার্ক স্ট্রিট থানার পুলিশ?

ঊষসীর এই মন্তব্য নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, আমরা আদৌ কতটা সংবেদনশীলভাবে তারকাদের দেখি? দর্শকের ভালোবাসা যেমন তাঁদের শক্তি, তেমনই সীমাহীন কৌতূহল অনেক সময় হয়ে ওঠে বোঝা। অভিনেত্রীর বক্তব্য যেন সেই সীমারেখাটাই মনে করিয়ে দিল—পর্দার বাইরে তারকারাও মানুষ, তাঁদেরও নিজস্ব জীবন ও সম্মানের অধিকার আছে।

You cannot copy content of this page