সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক মঞ্চ-ঘটনা ঘিরে শিল্পীদের নিরাপত্তা এবং সম্মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। এই আবহেই একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে সরব হলেন লেডি সুপারস্টার ‘শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়’ (Subhashree Ganguly)। তাঁর কথায় স্পষ্ট ছিল ক্ষোভ, কিন্তু তার থেকেও বেশি ছিল উদ্বেগ যে শিল্পীরা কি ক্রমশ সহজ নিশানায় পরিণত হচ্ছেন? বিশেষ করে মহিলা শিল্পীদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কি আরও জটিল হয়ে উঠছে? এই প্রশ্নগুলিই তিনি সামনে আনেন সবার।
শুধু অনলাইন নয়, প্রকাশ্য অনুষ্ঠানেও শিল্পীদের অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে, এমন একাধিক ঘটনার উদাহরণ এখন তাজা। মিমি চক্রবর্তী, লগ্নজিতা এবং মৌনী রায়, তিনজনকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ইতিমধ্যেই আলোচনায় এসেছে। কোথাও মঞ্চে অপমানজনক আচরণ, কোথাও অনভিপ্রেত ব্যবহার, এসবের জেরে শিল্পী মহলে অস্বস্তি বাড়ছে। মিমির ঘটনার ক্ষেত্রে অভিযুক্ত সংগঠকের গ্রেফতার হওয়া বিষয়টিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে।
এই প্রেক্ষাপটেই অনুষ্ঠানের মঞ্চে উঠে শুভশ্রী মনে করিয়ে দেন, সমস্যাটা শুধু কোনও এক-দু’জনকে ঘিরে নয়। কিছুদিন আগে গায়ক স্নিগ্ধজিতও মঞ্চে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছিলেন! সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বোঝাতে চান, বিষয়টি লিঙ্গভিত্তিক হলেও সীমাবদ্ধ নয়। শিল্পীরা পারফর্ম করতে যান কাজের সূত্রে, কিন্তু তাঁদের বারবার এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে যা একেবারেই অস্বস্তিকর এবং অগ্রহণযোগ্য। অভিনেত্রীর বক্তব্যে আরও একটি দিক উঠে আসে।
সমাজ মাধ্যমে শিল্পীদের নিয়ে যে ভাষা ব্যবহার করা হয়, সেটিও কম আঘাত দেয় না! সমালোচনা স্বাভাবিক, কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অসম্মান কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, এই কথাই তিনি স্পষ্টভাবে বলেন। “শিল্পীরা সম্মান পাওয়ার জন্য কাজ করেন, কাউকে ছোট করার জন্য নয়!” এই বার্তাও তিনি তুলে ধরেন। অভিনেত্রীকে বলতে শোনা যায়, “শিল্পীদের, বিশেষ করে মহিলা শিল্পীদের ‘সফট টার্গেট’ করা হচ্ছে!” সব মিলিয়ে শুভশ্রীর কথায় একধরনের সতর্কবার্তা ছিল।
আরও পড়ুনঃ “প্রেম মেপে হয় না, প্রেম মানে মানুষ দুটোর মধ্যে পারস্পরিক সম্মান আর বন্ধুত্ব!” দ্বিতীয় দাম্পত্যে এসে শুভশ্রীর হাত ধরে পরিণত ভালোবাসার সংজ্ঞা দিলেন রাজ চক্রবর্তী! প্রথম সম্পর্কের ভাঙন পেরিয়ে, কীভাবে আসল ভালোবাসা খুঁজে পেলেন তিনি?
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে অভিনেত্রী নিজেও সামাজিক মাধ্যমে কটাক্ষ এবং তুমুল সমালোচনার শিকার হয়েছিলেন কলকাতায় মেসিকে ঘিরে বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যে ছবি তোলা নিয়ে। এই ঘটনাগুলোর সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে পড়া কি ঠিক? নাকি সময় এসেছে স্পষ্টভাবে প্রতিবাদ জানানোর? তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল, নীরবতা সমস্যার সমাধান নয়। শিল্পীদের কাজের জায়গা যেন নিরাপদ ও সম্মানজনক থাকে, সেই দাবিতেই তিনি আওয়াজ তুলেছেন।






