গত শনিবার রাতের সেই ভিডিও সামনে আসার পর থেকে বিতর্কের কেন্দ্রে যিনি, তিনি যে একা ছিলেন না এই তথ্যটাই ধীরে ধীরে আলোচনার বাইরে চলে যাচ্ছে! পার্ক স্ট্রিটের ‘অলিপাবে’ (Olypub) সেই নৈশভোজে ‘সায়ক চক্রবর্তী’র (Sayak Chakraborty) সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা, যাদের সঙ্গে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কনটেন্ট বানান, ব্যক্তিগত জীবনেও যাতায়াত গভীর। সামনেই ইনফ্লুয়েন্সার ‘সুকান্ত কুন্ডু’র (Sukanta Kundu) বিয়ে, টলিপাড়ার পরিচিত মুখ ‘অনন্যা গুহ’র (Ananya Guha) সঙ্গে। সেই আনন্দের আবহেই বন্ধুরা একসঙ্গে ডিনারে গিয়েছিলেন।
অথচ ঘটনার পরিণতিতে দেখা গেল, সমস্ত দায় যেন একাই বইতে হচ্ছে সায়ককে, বাকি সবাই ধীরে ধীরে নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছেন আলোচনা থেকে! যে স্টেক ঘিরে এত বড় বিতর্ক, সেটি আদতে সায়কের অর্ডার ছিল না, এ কথাও পরে জানা যায়। খাবারটি অর্ডার করেছিলেন সুকান্ত, সায়ক শুধু সামান্য চেখে দেখেছিলেন। তবু ভিডিওতে প্রতিবাদের ভাষা যেহেতু তাঁর গলাতেই শোনা যায়, তাই ধর্মীয় আবেগে আগুন দেওয়ার অভিযোগ গিয়ে পড়ে তাঁর দিকেই। প্রশ্ন উঠছে, প্রতিবাদ যদি সম্মিলিত অভিজ্ঞতা থেকে জন্মে থাকে, তাহলে দায়ভার কেন একার কাঁধে এসে পড়ল?
সামাজিক মাধ্যমে যখন কটাক্ষ, ট্রোল আর গ্রেপ্তারির দাবি বাড়ছে, তখন পাশে থাকার মানুষগুলো ক্রমশ নীরব হয়ে পড়ছেন আর এই নীরবতাই এখন নতুন করে চোখে লাগছে অনেকের। এর মধ্যেই অনন্যা গুহর একটি সামাজিক মাধ্যম পোস্ট আলোচনায় আসে। সেখানে তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে জানান যে ঘটনাস্থলে তিনি ভুল পরিবেশন নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন ঠিকই, কিন্তু কোনও ভিডিও বানাননি, ধর্ম বা রাজনীতি নিয়ে মন্তব্যও করেননি। তাঁর বক্তব্যের সুর ছিল পরিষ্কারভাবে দূরত্ব বজায় রাখার, এই বিতর্কের সঙ্গে তাঁকে না জড়ানোর অনুরোধ।
কথাগুলো সরল, তর্কাতীত বলেই হয়তো মনে হয়েছে তাঁর কাছে। কিন্তু সেই পোস্ট অনেকের কাছেই ধরা পড়েছে “ঠিক সময়ে সরে যাওয়া”র কৌশল হিসেবে। এই জায়গাতেই বিতর্ক অন্য মোড় নিচ্ছে! কারণ, ঘটনার রেশ গিয়ে পড়েছে রেস্তোরাঁর এক কর্মীর জীবনে, যাঁকে গ্রেপ্তার পর্যন্ত হতে হয়েছিল কাল। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, যেখানে ভুল অনিচ্ছাকৃত হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না, সেখানে ক্যামেরার সামনে তৈরি হওয়া উত্তেজনার দায় কি শুধুই একজনের? নাকি যারা পাশে ছিলেন, পরিস্থিতি তৈরি হতে দেখেছেন, তাঁদেরও কিছু দায় থেকে যায়? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়, কিন্তু ক্ষোভ জমছে।
আরও পড়ুনঃ শিশু শিল্পীকে যৌ’ন হেন’স্থার অভিযোগ! পরিচালক অর্ক গাঙ্গুলীর নিশানায় ভ্লগার ‘সায়ক’? অর্কর পোস্টে তোলপাড় নেটদুনিয়া
সব মিলিয়ে ছবিটা ক্রমশ একতরফা হয়ে উঠছে। যেই মুহূর্তে দেখা গেল সায়ক বিতর্কে জড়িয়ে পড়ছেন, সমালোচনার মুখে পড়ছেন, ঠিক তখনই ঘনিষ্ঠতার গল্পগুলো ফিকে হতে শুরু করল! যাদের জন্য তিনি বারবার পাশে থেকেছেন, কনটেন্টে, জীবনে, বন্ধুত্বে, তাঁরাই যেন পরিস্থিতি জটিল হতেই নিজেদের গুটিয়ে নিলেন! এই ঘটনায় কে ঠিক, কে ভুল, সেই বিতর্ক চলতেই পারে। কিন্তু বন্ধুত্বের পরীক্ষায় সময়-সুযোগ বুঝে সরে যাওয়ার এই দৃশ্যটাই হয়তো মানুষের মনে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে!






