দীর্ঘ অভিনয়জীবনের বহু অধ্যায় পেরিয়ে আজ ৮৫-তে পা দিলেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী ‘মাধবী মুখোপাধ্যায়’ (Madhabi Mukherjee)। বয়সের হিসাবে এই সংখ্যা বড় হলেও, কাজের জায়গায় তাঁর উপস্থিতি এখনও সমান প্রাণবন্ত আর এই কথা সকল সহকর্মীদের মুখে প্রায়ই শোনা যায়। ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালে চোখের দীপ্তি আর দৃশ্যের প্রতি মনোযোগে বোঝা যায়, অভিনয়ের প্রতি তাঁর টান আজও অটুট। বর্তমানে ‘ভোলে বাবা পার কারেগা’ ধারাবাহিকে অভিনয় করছেন তিনি, আর সেটেই মাঝেমধ্যে দেখা হয়ে যায় তাঁর দীর্ঘদিনের সখী সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের (Sabitri Chatterjee) সঙ্গে।
প্রসঙ্গত, অভিনেত্রী সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ও একই চ্যানেলের ‘চিরসখা’ ধারাবাহিকে অভিনয় করছেন। এই বিশেষ দিনে স্মৃতির ঝাঁপি খুলে পুরনো দিনের কথা মনে করলেন মাধবীর প্রিয় সাবু। জানালেন, এখন আগের মতো নিয়মিত দেখা না হলেও বন্ধুত্বের উষ্ণতা একটুও কমেনি। বয়সজনিত ব্যস্ততা আর শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে একে অন্যের বাড়ি যাওয়া হয় না বললেই চলে, তবু স্টুডিয়োয় দেখা হলেই মন ভরে যায়। তাঁদের আলাপচারিতার শুরু থেকেই নাকি কাজের বাইরে জীবনের গল্প বেশি জায়গা পেত।
আর সেই অভ্যাস আজও বদলায়নি। একসময় নাকি ছিল, যখন দু’জনের বাড়ির দূরত্ব তাঁদের কাছে কোনও বিষয়ই ছিল না। টালা থেকে টালিগঞ্জ যাতায়াতে গল্প করেই কেটে যেত অসংখ্য বিকেল আর সন্ধে। কখনও হুট করে একে অন্যের বাড়িতে চলে যাওয়া, কখনও বা গঙ্গার ধারে বসে আড্ডা দেওয়ার মুহূর্তই তাঁদের বন্ধুত্বকে আরও গভীর করেছিল। সাবিত্রী হাসতে হাসতে বলেন, ইন্ডাস্ট্রিতে নাকি দুই নায়িকার মধ্যে বন্ধুত্ব হয় না, তাঁদের ক্ষেত্রে সেই ধারণাই নাকি প্রথম ভুল প্রমাণিত হয়েছিল!
উল্লেখ্য, পেশাগত দিক থেকেও দু’জনের পথচলা আলাদা হলেও সম্মান আর স্নেহ ছিল সমান। মাধবী অনেক আগে অভিনয়জগতে পা রেখেছিলেন, পরে এসেও সাবিত্রী তাঁর সঙ্গে কাজের সুযোগ পেয়েছেন একাধিক ছবিতে। ছোট চরিত্র হলেও অভিনয়ের সুযোগ পেলে তাঁরা ফিরিয়ে দিতেন না, কারণ কাজটাই ছিল আসল আনন্দ। সেই সময়ের কাজের পরিবেশ, মেকআপ রুমে গল্পে ডুবে থাকা, সবই আজ স্মৃতির অ্যালবামে ভাঁজ করে রাখা।
আরও পড়ুনঃ “হাসপাতালের বিছানাতেও প্রথম প্রশ্ন ছিল কবে শুটিং!” “ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালে চোখেমুখে সেই পুরনো উত্তেজনা, ওনার নিষ্ঠা আজও আমাদের অনুপ্রেরণা!” ৮৫ তেও কাজপাগল মাধবী মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে আবেগঘন স্মৃতিচারণায় লীনা গঙ্গোপাধ্যায়!
জন্মদিনে তাই প্রিয় বন্ধুর জন্য সাবিত্রী শুধু একটাই প্রার্থনা করেন যেন মাধবী দেবী সুস্থ থাকেন, ভালো থাকেন। বয়সের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেখা-সাক্ষাৎ কমলেও, মন থেকে যে টানটা আছে সেটাই তাঁদের সম্পর্কের আসল শক্তি। দীর্ঘ পথচলার সাক্ষী এই বন্ধুত্বই হয়তো দেখিয়ে দেয়, যে সময় বদলায় কিন্তু কিছু সম্পর্ক নিঃশব্দে একই জায়গায় অটল থেকে যায়। আমাদের তরফ থেকেও দুই কিংবদন্তি অভিনেত্রীর জন্য অনেক শুভ কামনা।






