রেস্তোরাঁর একটি ভুল পরিবেশন থেকে শুরু হয়ে যে বিতর্ক এতদূর গড়াবে, সেটা হয়তো কেউ ভাবেননি। কিন্তু মাসের একদম শুরুতে ঘটে যাওয়া সেই ঘটনার পর থেকে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন ‘সায়ক চক্রবর্তী’ (Sayak Chakraborty), আর ধীরে ধীরে চর্চার বাইরে যেতে শুরু করেন সেদিন তাঁর সঙ্গে কারা ছিলেন, কে কী ভূমিকা নিয়েছিলেন সেই সব দিকও। তবু জনমতের ভার যেন বারবার ঘুরে যাচ্ছে এক ব্যক্তির দিকেই, বাকিদের উপস্থিতি যেন আড়ালেই থেকে যাচ্ছে!
ঘটনার দিনকার প্রেক্ষাপটও নতুন করে বিশ্লেষিত হতে শুরু করে। জানা যাচ্ছে, ডিনারের টেবিলে একাধিক মানুষ উপস্থিত থাকলেও আপত্তির সুর সবচেয়ে স্পষ্ট শোনা গিয়েছিল সায়কের গলায় আর সেই জন্যই তাকে এত সমস্যায় পড়তে হয়। খাবারটি তাঁর অর্ডার ছিল না বলেও পরে জানা যায়। তবু ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর অভিযোগের ভার মূলত তাঁর দিকেই গিয়েছে। অন্যদিকে, ঘটনায় যুক্ত রেস্তোরাঁ কর্মীর গ্রেপ্তারির খবর সামনে আসতেই বিতর্ক আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে।
এই পরিস্থিতিতেই সম্প্রতি সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হতে হয় ‘অনন্যা গুহ’কে (Ananya Guha)। কারণ, ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে সেদিনের সেই ডিনারে তিনিও ছিলেন, পাশাপাশি ছিলেন সুকান্ত কুন্ডু (Sukanta Kundu)। সবাই জানেন, তাঁদের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত এবং কাজের সম্পর্ক রয়েছে সায়কের সঙ্গে। কিন্তু বিতর্ক তীব্র হতেই সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট করে অনন্যা লেখেন যে অন্যের ঠিক ভুলের দায় কিনে নেবেন না, কাজেই তাঁকে ঘিরে যেন কেউ বিতর্ক তৈরী না করে। এর ফলেই অনেকেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন।
সায়ককে ঘিরে সমালোচনা বাড়তেই কি বন্ধুত্ব থেকে দূরত্ব তৈরি হল? এদিন এর উত্তরে অনন্যা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “বন্ধুর পাশ থেকে আমি সরে যায়নি, ও আমার বন্ধু এখনও আছে আর আশা করি সারা জীবন থাকবে। আমি শুধু বলেছিলাম কারোর দায়িত্ব নিতে চাই না। মানে যেই জিনিসগুলো তারা করেছে, সেটার দায়িত্ব আমার অবশ্যই নয়!” বিতর্কের আরও একটি দিকও উঠে এসেছে আলোচনায়, সায়কের একটি সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট, যেখানে তিনি লিখেছিলেন সময় থাকতে আপনজনদের চিনে নেওয়ার কথা এবং পরিবারই শেষ পর্যন্ত পাশে থাকে এমন ইঙ্গিত।
আরও পড়ুনঃ “প্রকৃতির কোলেই শান্তি!” একাধিক বিতর্কের পর সামাজিক মাধ্যম থেকে বিদায়ের জল্পনা! দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে এবার পোস্ট করলেন সায়ক চক্রবর্তী! সঙ্গে কী বার্তা দিলেন তিনি?
এই প্রসঙ্গ তুলেই অনন্যাকে আবার প্রশ্ন করা হয়। তিনি জানান, বিষয়টি নতুন নয়। তাঁর কথায়, “সায়ক বহুকাল আগে ফেসবুক খোলার সময় থেকেই এটা বায়েওতে লিখে রেখেছে। আর এটা নিয়ে যখন আমি মজা করে বলতাম তোকে বন্ধু ভেবেছিলাম, সায়ক বলত ‘তুই আমাকে বন্ধু কেন ভেবেছিলিস? তোরা তো আমার পরিবার!’ সায়ক সবাইকে পরিবার মনে করে, খুব একটা বন্ধু হিসেবে দেখে না।” সব মিলিয়ে প্রশ্ন রয়ে যাচ্ছে যে, এটি কি কেবল একটি ভুল বোঝাবুঝির জটিল রূপ, নাকি সামাজিক মাধ্যমের চাপেই সম্পর্কগুলোর অবস্থান বদলে গেল? অনন্যার বক্তব্য অন্তত ইঙ্গিত দিচ্ছে, ব্যক্তিগত সমীকরণে ভাঙন ধরেনি।






