টালিগঞ্জের শিল্পী মহলে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে ওয়েস্ট বেঙ্গল মোশন পিকচার্স আর্টিস্ট ফোরাম এর বাৎসরিক নির্বাচন। প্রতি বছরের মতো এ বছরও সভাপতি ও কয়েকজন সম্মানিক সদস্য ছাড়া অধিকাংশ পদে ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধিরা নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু ফলাফল প্রকাশের পরই শুরু হয় ভিন্ন সুরের আলোচনা। কেউ কেউ দাবি করেন এই নির্বাচনের ভেতরে নাকি রাজনীতির ছায়া স্পষ্ট। সেই জল্পনাই মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে এবং শিল্পী মহলের অন্দরে।
নির্বাচনে দীর্ঘ বিরতির পর সহ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন দেবদূত ঘোষ ও আবীর চট্টোপাধ্যায়। কার্যকরী কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন চন্দন সেন। ফল ঘোষণার পরেই নানা মহলে শোনা যায় রাজনৈতিক দল বিশেষের প্রভাব নাকি স্পষ্ট হয়ে উঠছে এই মঞ্চে। যদিও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অনেকেই এই ধারণাকে একেবারেই অস্বীকার করেছেন এবং জানিয়েছেন এটি সম্পূর্ণ শিল্পীদের সংগঠন যেখানে মতের ভিন্নতা থাকলেও বিভাজন নেই।
নবনিযুক্ত সহ সভাপতি ভরত কল স্পষ্ট ভাষায় জানান যে শিল্পীদের এই সংগঠনে রাজনৈতিক পরিচয় কোনওদিন মুখ্য ছিল না। তাঁর মতে এখানে প্রত্যেকে প্রথমে অভিনেতা ও শিল্পী, তারপর অন্য কোনও পরিচয়। কে কোন দল সমর্থন করেন তা ব্যক্তিগত বিষয়, সংগঠনের সিদ্ধান্ত বা কাজের সঙ্গে তার সম্পর্ক নেই। ভরতের এই বক্তব্যে অনেক সদস্যই সমর্থন জানিয়েছেন এবং সংগঠনের ঐতিহ্য রক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন।
সামাজিক মাধ্যমে লাইভ এসে ভরত আরও বলেন যে কয়েকশো সদস্যের একটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের ফলাফল দিয়ে গোটা রাজ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা অবাস্তব চিন্তা। তিনি যুক্তি দেন যে লক্ষ লক্ষ মানুষের ভোটে যে নির্বাচন হয় তার সঙ্গে এই সাংগঠনিক নির্বাচনের তুলনা করা যুক্তিসঙ্গত নয়। এই বক্তব্য শিল্পীমহলে যথেষ্ট সাড়া ফেলে এবং অনেকেই মনে করেন এতে অযথা বিতর্ক কিছুটা হলেও স্তিমিত হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ “আমি ঝাঁপাবো জিতের খালি গা দেখার জন্য!” খালি গায়ে স্বামী কাঞ্চনের ছবি নিয়ে কৌতুক ও কটাক্ষের পাল্টা, সপাটে জবাব শ্রীময়ী চট্টরাজের! নেটমাধ্যমে ভিউ নাকি ভণ্ডামি ছাড়া আসে না, বি’স্ফোরক অভিনেত্রী!
এ প্রসঙ্গে দেবদূতও পরোক্ষে একই সুরে কথা বলেন। তাঁর মতে শিল্পের জায়গায় বিভাজনের রাজনীতি টেনে আনা উচিত নয়। তিনি স্মরণ করেন মহানায়কের শিক্ষা, যেখানে শিল্পই ছিল শেষ কথা। সেই মহানায়ক উত্তমকুমার বারবার বলতেন টালিগঞ্জে কাজ করতে এলে রাজনীতির বোঝা বাইরে রেখে আসাই শ্রেয়। সেই আদর্শকেই সামনে রেখে শিল্পীরা একসঙ্গে কাজ করতে চান, যেখানে রং নয় প্রতিভাই শেষ পর্যন্ত মানুষকে এক করে দেয়।






