রুপোলি পর্দার পরিচিত মুখ ‘কিঞ্জল নন্দ’কে (Kinjal Nanda) অনেকেই এখন শুধু অভিনেতা হিসেবে নয়, একজন সমাজসচেতন মানুষ হিসেবেও দেখেন। তিলোত্তমার ধ*র্ষণ ও খু’নের ঘটনার প্রতিবাদে তিনি যেভাবে সামনে এসেছিলেন, তা নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছিল। তবে এই পরিচিতির ভেতরেও তিনি নিজেকে মূলত একজন শিল্পী হিসেবেই ভাবতে চান। তাঁর কথায়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো কোনও বিশেষ কাজ নয়, সেটাই স্বাভাবিক দায়িত্ব। মানুষ এখন প্রতিবাদকে অস্বাভাবিক বলে মনে করে বলেই বিষয়টি আলাদা করে নজরে আসে, এমনটাই তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি।
সম্প্রতি, তিনি জানালেন যে খুব শিগগির মুক্তি পেতে চলেছে তাঁর নতুন ছবি ‘পরবাসী’। ছবিটি বাংলায় মুক্তি পাচ্ছে ২০ ফেব্রুয়ারি বাংলায় এবং পরে ২৭ ফেব্রুয়ারি ত্রিপুরায় মুক্তির দিন ঠিক করা হয়েছে। ষাটের দশকের সেই ভয়াবহ অবস্থাকে পটভূমি করে তৈরি এই ছবিতে দেশভাগের পরবর্তী বাস্তুচ্যুত মানুষের সংগ্রামের গল্প উঠে আসবে। বাংলাদেশ থেকে ত্রিপুরায় এসে বসতি গড়া এক পরিবারের জীবনযুদ্ধই ছবির কেন্দ্রে থাকবে। ত্রিপুরার ভাষা এবং সংস্কৃতির ছাপও ছবিতে গুরুত্বপূর্ণভাবে ধরা পড়বে।
উল্লেখ্য, মনেট রায় সাহার পরিচালনায় নির্মিত এই ছবিতে একাধিক পরিচিত মুখ একসঙ্গে কাজ করেছেন। লোকনাথ দে, দেবপ্রতিম দাশগুপ্ত, স্বাতী মুখোপাধ্যায়, সবুজ বর্ধনের পাশাপাশি কিঞ্জলও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রয়েছেন। সেই সময়ের রাজনৈতিক আবহের সঙ্গে ছবির বিষয়বস্তুর এক ধরনের মিল রয়েছে বলেই মনে করছেন তিনি। দেশভাগের ফলে রাতারাতি মানুষের জীবন বদলে যাওয়ার যে ইতিহাস আজও প্রাসঙ্গিক, এই উপলব্ধিই ছবির প্রেক্ষাপটে জোরালো হয়ে উঠেছে।
তবে, অভয়া প্রতিবাদ মঞ্চে সক্রিয় থাকার কারণে কাজের ক্ষেত্রে কোনও বাধার মুখে পড়তে হয়েছে কি না এই প্রশ্নও উঠেছে। কারণ, দীর্ঘদিন ধরেই অনেক অভিনেতা অভিনেত্রীরা বলছেন যে কাজের সংখ্যা কমেছে। এদিন কিঞ্জলের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি নিজে খুব বেশি কাজ করেন না এবং এমন কোনও সমস্যার সম্মুখীন হননি। বরং কখনও কখনও সময়ের অভাবে কাজ ফিরিয়েও দিতে হয়েছে। পরিচালকেরা যখন তাঁকে ভেবেছেন, তখনই তিনি কাজ করেছেন, এমনটাও জানান।
আরও পড়ুনঃ সামান্য ওষুধ কিনতে গিয়েই পুলিশি হে’নস্তার অভিযোগ তুললেন, অভিনেত্রী-ইনফ্লুয়েন্সার নিকিতা দাস! সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও ভাইরাল হতেই বিতর্কের ঝড়! “খালি ব্লগ ব্লগ খেলা, এই ট্রেন্ডটা বন্ধ করা দরকার!” পাল্টা কড়া ভাষায় সমালোচনা পরিচালক রানা সরকারের!
মানুষ যে তাঁকে ডাক্তারি বা অভিনয়ের চেয়ে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হিসেবে বেশি চিনছে, এই বিষয়টি তাঁর কাছে মোটেও পছন্দের নয় বরং তিনি অস্বস্তি বোধ করেন। তবু তিনি নিজের অবস্থান থেকে সরে আসতে চান না। তাঁর কথায় প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরের এতটাই অভাব যে, কেউ যদি দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসে তাঁকেই ভগবানের আসন দিয়ে দেওয়া হয়, চারটে খবর বেশি হয়। ভবিষ্যতেও অন্যায় দেখলে প্রতিবাদ করবেন বলেই তাঁর মনস্থির। অভিনয়, ডাক্তারি আর নাগরিক দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য রেখে চলাটাই এখন তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।






