রাজনীতির মঞ্চে কখন কোন মন্তব্য যে নতুন করে বিতর্কের আগুন জ্বালিয়ে দেয়, তা অনেক সময় আগাম বোঝা যায় না। বিশেষ করে জাতীয় আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বিষয় হলে আলোচনা আরও তীব্র হয়। ঠিক তেমনই এক বক্তব্য ঘিরে ফের রাজনৈতিক মহলে চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন হুগলি কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ এবং অভিনেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়।
গতবুধবার চন্দননগরের এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশিকা নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দেন। জাতীয় সংগীতের আগে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “যেরকমভাবে বলা হচ্ছে সেরকমভাবেই আমরা পালন করব। জাতীয় সংগীত আমাদের, বন্দে মাতারমেও আমরা বিশ্বাসী।” কিন্তু এই মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি ‘বন্দে মাতরম’কে জাতীয় সংগীত হিসেবে উল্লেখ করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। আর সেখান থেকেই শুরু হয় বিতর্কের সূত্রপাত।
এই মন্তব্যের পর বিজেপি নেতারা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তাদের বক্তব্য, একজন সাংসদের জাতীয় সংগীত ও জাতীয় গানের পার্থক্য সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি। উল্লেখযোগ্য যে, ভারতের জাতীয় সংগীত ‘জনগণমন’ রচনা করেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, আর ‘বন্দে মাতরম’ জাতীয় গান হিসেবে স্বীকৃত, যার রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এই প্রেক্ষাপটেই বিজেপির একাংশ দাবি করেছে, এমন মন্তব্য অজ্ঞতার পরিচয় দেয় এবং বিষয়টি হালকাভাবে নেওয়া যায় না।
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরমহলে ভিন্ন সুর শোনা যাচ্ছে। দলের অভিযোগ, কেন্দ্র ও বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে জাতীয় সংগীত ও জাতীয় গানকে ঘিরে অযথা বিভাজন তৈরির চেষ্টা করছে। যদিও রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য দলীয় অবস্থানের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ফলে বিষয়টি এখন শুধুমাত্র মন্তব্যের সীমায় আটকে নেই, বরং তা রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুনঃ “বাবাকে জিজ্ঞেস কর…ভুলে গেছিস নাকি?” বাংলা গান গাইলেই বাংলাদেশি! অপমানের জবাবে, নেতাজি-রামমোহনের নাম তুলে প্রতিবাদ সুদীপ্তা বন্দ্যোপাধ্যায়ের!
প্রসঙ্গত, এর আগেও তার একাধিক মন্তব্য বিতর্ক ডেকে এনেছে। ২০২৪ সালে বলাগড়ের বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনে গিয়ে তার “কুইন্টাল কুইন্টাল জল” মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক বিতর্কের মাঝেই তিনি আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আত্মবিশ্বাসী সুরে জানিয়েছেন, “খেলা হবে, এবং মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী আবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় সংগীত ও জাতীয় গান নিয়ে এই বিতর্ক নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক তরজাকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।






