“সমালোচনাই আমার জেদ বাড়িয়েছে…অপমান থামায়নি, এগিয়ে দিয়েছে!” নিজেকে প্রমাণ করাই ছিল লক্ষ্য! ব্যক্তিগত থেকে পেশাগত বিতর্কের মাঝেও, নতুন মাইলফলক স্পর্শ দিতিপ্রিয়ার! ফার্স্ট ক্লাস নিয়ে স্নাতকোত্তর লাভ, সমালোচকদের কী জবাব দিলেন তিনি?

শুধু পর্দার সাফল্য নয়, ব্যক্তিজীবনের লড়াইয়েও জয়ের গল্প লিখলেন দিতিপ্রিয়া রায়। অল্প বয়সে অভিনয় জগতে পা রাখা এই অভিনেত্রী সদ্য সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যস্ত শুটিং, আলো ঝলমলে ক্যামেরা আর অবিরাম কাজের মধ্যেই তিনি প্রমাণ করলেন, ইচ্ছা থাকলে অসম্ভব বলে কিছু নেই। নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন, জীবনের নানা অপমানই তাঁকে এগিয়ে যেতে শক্তি দিয়েছে। অনেকেই সন্দেহ করেছিলেন, অভিনয়ের চাপ সামলে তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবেন কি না। কিন্তু সেই সংশয়ই তাঁর জেদ বাড়িয়েছে। প্রতিটি চ্যালেঞ্জকে তিনি লক্ষ্যপূরণের সোপান বানিয়েছেন। তাঁর কথায়, স্বপ্নের পথে এগোতে গেলে কষ্ট, ক্লান্তি আর সমালোচনা সবই পথের সঙ্গী। তবে সেগুলিই মানুষকে আরও দৃঢ় করে তোলে।

খুব ছোট বয়স থেকেই অভিনয়ের জগতে পরিচিত মুখ দিতিপ্রিয়া। তাঁর প্রথম কাজ ছিল দুর্গা, আর সেখান থেকেই দর্শকের নজরে আসেন তিনি। সময়ের সঙ্গে তাঁর কাজের তালিকাও দীর্ঘ হয়েছে। একের পর এক জনপ্রিয় ধারাবাহিক যেমন অপরাজিত, তোমায় আমায় মিলে, মা, ব্যোমকেশ এবং বামাক্ষ্যাপা তাঁকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে দেয়। ছোটপর্দায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে তাঁর বড় ব্রেক আসে করুণাময়ী রাণী রাসমণি ধারাবাহিকে, যার পরিচালক রাজেন্দ্রপ্রসাদ দাস। বড়পর্দায় তাঁর যাত্রা শুরু হয় রাজকাহিনী ছবির মাধ্যমে, পরিচালনায় সৃজিত মুখোপাধ্যায়। পরে তিনি অভিনয় করেন আয় খুকু আয়, যার পরিচালক শৌভিক কুন্ডু, এবং হিন্দি ছবি বব বিশ্বাস সহ একাধিক প্রজেক্টে।

অভিনয় আর পড়াশোনা একসঙ্গে সামলানো সহজ ছিল না, তা স্বীকার করেছেন অভিনেত্রী নিজেই। দিনের পর দিন একাধিক শিফটে শুটিং, তার ফাঁকে বই নিয়ে বসা—এই ছিল তাঁর দৈনন্দিন জীবন। তবে এই পথচলায় তিনি একা ছিলেন না। তাঁর মা, শিক্ষিকা এবং অধ্যাপকেরা সবসময় পাশে থেকেছেন। বিশেষ করে পরিবারের সমর্থন তাঁকে মানসিকভাবে শক্তি দিয়েছে। ছোটবেলা থেকেই প্রচণ্ড ব্যস্ততায় কাটলেও তাঁকে কখনও জোর করে পড়তে বসানো হয়নি। বরং নিজের সময় বুঝে, নিজের মতো করে এগোতে দেওয়া হয়েছিল। স্টুডিয়োর কোলাহলের মধ্যেও পড়াশোনায় মন দেওয়া কঠিন ছিল, কিন্তু লক্ষ্য থেকে সরেননি তিনি। অভিনয়ের আলো আর শিক্ষার শৃঙ্খলা—দুই ভিন্ন জগতকে এক সুতোয় গেঁথে ফেলেছেন দিতিপ্রিয়া।

তবে পথটা সবসময় মসৃণ ছিল না। ছোট থেকেই তাঁকে শুনতে হয়েছে নানা মন্তব্য—অভিনয় করলে নাকি পড়াশোনা ঠিকমতো করা যায় না, পরীক্ষায় পাশ করাও কঠিন হবে। এই কথাগুলোই তাঁকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছে। তিনি জানান, অপমান তাঁকে থামিয়ে দেয়নি, বরং এগিয়ে দিয়েছে। নিজেকে প্রমাণ করার তাগিদ থেকেই তিনি আরও বেশি মন দিয়ে পড়াশোনা করেছেন। স্কুলে গেলে বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলাও করেছেন, হাসি আনন্দে সময় কাটিয়েছেন। তাই শৈশব হারিয়ে গেছে—এমনটা তিনি মনে করেন না। তবে একটি জিনিস কম ছিল, আর তা হল ঘুম। কাজ আর পড়ার চাপে অন্যদের মতো দীর্ঘ বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ খুব কমই পেয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ “আমার অস্বীকার করার জায়গা নেই যে সুযোগ পেয়েছি…কিন্তু সেই পথ দিয়ে না হাঁটলে তার কষ্ট বোঝা যায় না!” ‘নেপোটিজম’ বিতর্কে অকপট কোয়েল মল্লিক! বাবার পরিচয়ে সুযোগ পাওয়া থেকে দর্শকের গ্রহণযোগ্যতার কঠিন বাস্তব, কোন সত্যি সামনে আনলেন অভিনেত্রী?

এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন স্বপ্ন দেখছেন দিতিপ্রিয়া। সমাজবিজ্ঞানের যে বিষয়গুলি নিয়ে তিনি পড়াশোনা করেছেন, তা বই আকারে প্রকাশ করার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। নিজের অভিজ্ঞতা, পর্যবেক্ষণ আর শেখা বিষয়গুলো তিনি লেখার মাধ্যমে তুলে ধরতে চান। পাশাপাশি অভিনয়ও চালিয়ে যাবেন সমান উদ্যমে। তাঁর মতে, এই দুই জগতই তাঁকে সমানভাবে সমৃদ্ধ করে। কাজ আর জ্ঞান—দুটোই যদি জীবনের অংশ হয়, তবে একঘেয়েমির জায়গা থাকে না। নিজের যাত্রাপথে পাওয়া অভিজ্ঞতাই এখন তাঁর সবচেয়ে বড় সম্পদ, আর সেই পথেই তিনি এগিয়ে যেতে চান আরও দূর।

You cannot copy content of this page