“এটা কী গান লিখেছিস বাবা?.. বাচ্চারা তো নষ্ট হয়ে যাবে” অনুপম রায়ের এই গান শুনে ফোন করে বকেছিলেন হৈমন্তী শুক্লা! তরুণ প্রজন্মের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছাবে এই আশঙ্কাতেই কি ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন বর্ষীয়ান গায়িকা?

বাংলা গান বা চলচ্চিত্র শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, সমাজের উপর তার গভীর প্রভাবও রয়েছে। একটি গান, একটি সংলাপ বা একটি গল্প মানুষের চিন্তাভাবনা, জীবনদর্শন এবং আচরণকে প্রভাবিত করতে পারে। সেই কারণেই শিল্পীরা যখন কোনও গান লেখেন বা পরিবেশন করেন, তখন তার বার্তা কীভাবে শ্রোতাদের কাছে পৌঁছাবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে শিশু ও তরুণ প্রজন্মের উপর সাংস্কৃতিক মাধ্যমের প্রভাব নিয়ে বরাবরই আলোচনা চলে এসেছে। সম্প্রতি সেই প্রসঙ্গেই একটি পুরনো স্মৃতি ভাগ করে নিলেন বর্ষীয়ান সঙ্গীতশিল্পী হৈমন্তী শুক্লা।

বাংলা সঙ্গীত জগতের অন্যতম পরিচিত নাম হৈমন্তী শুক্লা। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে নিজের সুরেলা কণ্ঠে তিনি শ্রোতাদের মন জয় করে চলেছেন। আধুনিক বাংলা গান, চলচ্চিত্রের গান থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের সঙ্গীতে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলা গানের পরিবর্তন, নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের উত্থান এবং অনুপম রায়কে নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। সেই অভিজ্ঞতার কেন্দ্রবিন্দু ছিল অনুপম রায়ের জনপ্রিয় গান ‘আমাকে আমার মতো থাকতে দাও’।

হৈমন্তী শুক্লা জানান, গানটি প্রথম যখন তিনি শোনেন, তখন ভীষণ রেগে গিয়েছিলেন। বিশেষ করে গানের প্রথম লাইন শুনে তাঁর মনে হয়েছিল, এই ধরনের বার্তা তরুণ প্রজন্মের কাছে ভুলভাবে পৌঁছাতে পারে। তাঁর আশঙ্কা ছিল, বাচ্চারা হয়তো এই গান থেকে এমন শিক্ষা নিতে পারে যে তারা বাবা-মায়ের কথা শুনবে না বা নিজের ইচ্ছাকেই সবকিছুর উপরে রাখবে। সেই চিন্তা থেকেই তিনি সরাসরি অনুপম রায়কে ফোন করেছিলেন। হাসতে হাসতেই তিনি বলেন, ফোন করে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “এটা কী গান লিখেছিস বাবা? আমাকে আমার মতো থাকতে দাও, এ আবার কেমন কথা!”

তবে গল্পের মোড় ঘুরে যায় যখন তিনি গানটি পুরোটা শোনেন। গানের শেষের দিকে থাকা ‘সব পেলে নষ্ট জীবন’ লাইনটি তাঁর মনকে গভীরভাবে স্পর্শ করে। তখন তিনি উপলব্ধি করেন যে গানটির মূল বক্তব্য আসলে আত্মকেন্দ্রিকতা নয়, বরং জীবনের অপূর্ণতা এবং অভাবের মধ্যেও সৌন্দর্য খুঁজে পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। তাঁর কথায়, সবকিছু পেয়ে গেলে জীবনের মূল্যই হারিয়ে যায়। এই উপলব্ধির পর তিনি আবার অনুপমকে ফোন করেন এবং স্বীকার করেন যে প্রথমে গানটি নিয়ে তাঁর ধারণা ভুল ছিল। বরং গানটির গভীরতা বুঝে তিনি মুগ্ধ হয়ে যান।

আরও পড়ুনঃ মুসলিম নাম নিয়ে কটাক্ষ, এবার বাংলার মুখ উজ্জ্বল করল শাহিদা! মাত্র ৫ মাসের প্রস্তুতি, প্রথম জাতীয় প্রতিযোগিতাতেই দারুণ সাফল্য! মেয়ের অর্জনে গর্বিত অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী! উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কামনায় অনুরাগীরা!

একই সাক্ষাৎকারে বাংলা সঙ্গীতের পরিবর্তন নিয়েও কথা বলেন হৈমন্তী শুক্লা। তিনি জানান, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দর্শক যেমন বদলেছে, তেমনই বদলেছে শিল্পীদের উপস্থাপনার ধরনও। আগে শিল্পীরা এক জায়গায় বসে গান গাইতেন, আর শ্রোতারাও সেটাই উপভোগ করতেন। এখন গান, সুর, পরিবেশনা সবকিছুতেই এসেছে নতুনত্ব। তবে এই পরিবর্তনকে তিনি নেতিবাচকভাবে দেখেন না। তাঁর মতে, পরিবর্তনই জীবনের নিয়ম। নতুন প্রজন্ম নতুন ভাবনা নিয়ে এগোবে, নতুন ধরনের গান তৈরি হবে, আর সেই পরিবর্তনকেই গ্রহণ করতে হবে। কারণ ভালো জিনিসকে ভালো হিসেবে গ্রহণ করার মধ্যেই প্রকৃত শিল্পবোধের পরিচয় লুকিয়ে থাকে।

You cannot copy content of this page