বিনোদন জগত মানেই শুধু আলো, ক্যামেরা আর গ্ল্যামার নয়—পর্দার আড়ালে থেকে যায় নানা টানাপোড়েন, মতবিরোধ আর প্রোডাকশন হাউসের সঙ্গে শিল্পীদের অদৃশ্য সংঘাত। তারকাদের মধ্যে কিংবা শিল্পী ও প্রযোজনা সংস্থার মধ্যে মতানৈক্য নতুন কিছু নয়। কখনও রাজনৈতিক অবস্থান, কখনও ব্যক্তিগত মতামত, কখনও আবার শিল্পীসত্তার স্বাধীনতা—এই সবকিছুর জেরে মাঝেমধ্যেই তৈরি হয় বিতর্কের আবহ।
এই একই পরিস্থিতির মুখোমুখি এখন অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্য। দীর্ঘদিন ধরেই দর্শক তাঁকে বড় পর্দা বা নতুন কোনও অভিনয় প্রকল্পে দেখছেন না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—তাঁর কি কাজের সুযোগ কমে গিয়েছে? নাকি ইন্ডাস্ট্রির অন্দরের কোনও অদৃশ্য বিভাজনের প্রভাব পড়েছে তাঁর কেরিয়ারে? এই জল্পনার মাঝেই সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মুখ খুললেন অভিনেতা নিজেই।
অনির্বাণ স্পষ্ট জানিয়েছেন, “আমি তো মূলত একজন অভিনেতা। দশ বছর ধরে অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত। অভিনয় করতে না পারা অবশ্যই কষ্টের।” যদিও বর্তমানে তিনি গান, সুর এবং পরিচালনার কাজে ব্যস্ত, তবুও অভিনয় তাঁর কাছে “এক ধরনের নেশা”। সম্প্রতি অভিনেতা দেব তাঁর হয়ে ক্ষমা চেয়েছিলেন বলে খবর ছড়ায়। এ প্রসঙ্গে অনির্বাণ বলেন, কাউকেই তাঁর হয়ে ক্ষমা চাইতে হবে না।
ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের বিভাজন নিয়েও খোলাখুলি মত প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর কথায়, এখন ইন্ডাস্ট্রি কয়েকটি ভাগে বিভক্ত। তিনি নিজে কোনও রাজনৈতিক মঞ্চে থাকেন না, তাই সকলের মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। “আমাদের দেশ গণতান্ত্রিক। ভিন্ন মত থাকতেই পারে। তাই বলে কাউকে ব্যান্ড করে দেওয়া বা কাজ না করতে দেওয়া অন্যায়,”—বলেছেন অভিনেতা। তাঁর মতে, সাধারণ মানুষ রাজনৈতিক মতামত জানালেও তাঁরা ক্যামেরার সামনে বলেন না। কিন্তু অভিনেতারা বললে তার প্রভাব বেশি পড়ে, তাই তাঁরাই আগে টার্গেট হন।
আরও পড়ুনঃ ব্যথা নয়, কাজই বড়! ভেঙেছে পা, প্লাস্টার নিয়েই হাসিমুখে শ্যুটিংয়ে শ্রীময়ী চট্টরাজ! পেশাদারিত্বে মুগ্ধ সবাই, ভিডিও ভাইরাল হতেই কুর্নিশ জানাচ্ছে নেটিজেনরা!
স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে কথোপকথন প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন, যোগাযোগের চেষ্টা হলেও তা ফলপ্রসূ জায়গায় পৌঁছয়নি। তবে এই বিতর্কের মধ্যেও নিজের অবস্থান নিয়ে অনির্বাণ একেবারে দৃঢ়। তাঁর কথায়, আজ তিনি কাজ না পেলেও এতদিনে যে কাজগুলো করেছেন, সেগুলো কেউ মুছে দিতে পারবে না। যাঁদের সঙ্গে কাজ করেছেন—সুরকার, গল্পকার বা সহশিল্পী—তাঁদের সঙ্গে তাঁর পেশাদার সম্পর্ক অটুট। অনির্বাণের বিশ্বাস, একজন শিল্পীর প্রকৃত পরিচয় তাঁর সৃষ্টিতে, আর সেই সৃষ্টি ইতিমধ্যেই দর্শকের মনে স্থায়ী ছাপ রেখে গিয়েছে, সেটাকে কোনও পরিস্থিতিই মুছে ফেলতে পারবে না কেউ।






