অপেক্ষার অবসান! অভাবের নদী থেকে উঠে আসা গঙ্গা ও অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অর্জুন, প্রকাশ্যে সাহেব-হিয়ার নতুন মেগার প্রোমো! দুই মেরুর গল্প নিয়ে আসছে স্টার জলসার ‘গঙ্গা’, কীভাবে মিলবে দু’জনের জীবনস্রোত?

বেশ কিছুদিন ধরেই টেলিপাড়ায় গুঞ্জন শুরু হয়েছিল যে ‘সাহেব ভট্টাচার্য’ (Saheb Bhattacharya) ফিরছেন ছোটপর্দায়, তবে সুস্মিতার সঙ্গে নয়। বরং এবার জুটি বাঁধছেন গীতা ওরফে ‘হিয়া মুখার্জী’র (Hiya Mukherjee) সঙ্গে। এতদিন সবটাই জল্পনা স্তরে থাকলেও, এবার পড়ল সিলমোহর! স্টার জলসার পর্দায় আসতে চলেছে নতুন ধারাবাহিক ‘গঙ্গা’ (Ganga), আর ইতিমধ্যেই প্রকাশিত প্রোমো ঘিরে শুরু হয়েছে আলোচনা। শুরুতেই দেখা যায় গঙ্গার উপর বিস্তৃত একটি ব্রিজ, তার ওপর দিয়ে ছুটে চলেছে ট্রেন।

ট্রেন থেকে এক মহিলা মা গঙ্গার উদ্দেশে একটি পয়সা ছুঁড়ে দেন জলে। দৃশ্যটা খুব চেনা, কিন্তু তার মধ্যেই যেন গল্পের ভিত্তিটা তৈরি হয়েছে, যেখানে বিশ্বাস থেকে অভ্যাস আর বেঁচে থাকার টানাপোড়েন স্পষ্ট। তারপর দৃশ্য বদলে যায় ঘাটে। কয়েকজন বাচ্চা নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করছে, কার হাতেই বা বেশি পয়সা উঠবে জলের তলা থেকে! ঠিক সেই সময় সামনে আসে এক ছোট মেয়ে, যার নামও গঙ্গা। আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে সে জানায়, সবার চেয়ে বেশি পয়সা সে-ই তুলে আনবে, বলেই জলে ঝাঁপ!

মুহূর্তের মধ্যেই মুঠো ভর্তি কয়েন নিয়ে জলের ওপর ভেসে ওঠে সে। জলে ঝাঁপ দেওয়া সেই ছোট্ট মেয়েটি যখন উপরে ওঠে, সে বড় হয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ অভাবের মধ্যে দিয়েই প্রতিদিনের সংগ্রামের ভেতর দিয়েই গড়ে উঠেছে এই তরুণীর জীবন। বোঝাই যাচ্ছে, এটাই তার রোজকার জীবন, নদীর জলে ডুব দিয়ে পয়সা কুড়িয়ে সংসার চালানোর লড়াই। এই প্রোমোতেই স্পষ্ট, গল্পের নায়িকা গঙ্গা এমন এক মেয়ে, যে কঠিন বাস্তবের মধ্যেও হাসতে জানে। জীবনের প্রতিকূলতা তাকে থামাতে পারেনি।

বরং নদীর স্রোতের মতোই সে এগিয়ে চলেছে আনন্দের খোঁজে। চরিত্রটিতে দেখা যাবে হিয়া মুখার্জীকে, যিনি আগেও দৃঢ়চেতা ভূমিকায় নিজের স্বচ্ছন্দ অভিনয় দিয়ে দর্শকের নজর কেড়েছেন। এখানে তাঁর চরিত্রে রয়েছে মাটির গন্ধ, টিকে থাকার লড়াই আর ছোট ছোট সুখে বাঁচার ইচ্ছা। অন্যদিকে, একই ঘাটের অন্ধকার কোণে লুকিয়ে থাকা দু’ষ্কৃতীদের ধরতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ গল্পের নায়ক, অফিসার অর্জুন চ্যাটার্জী। দায়িত্বই তার প্রথম পরিচয়।

দোলের দিনেও যখন চারপাশ রঙে মেতে উঠেছে, তখন তাকে কাজে বেরোতে দেখা যায়। পরিবার বা আশপাশের মানুষ তাকে থামাতে চাইলে সে স্পষ্ট জানায়, তার জীবনে ছুটি বা উৎসবের আলাদা কোনও জায়গা নেই। অর্জুনের চরিত্রে থাকছেন সাহেব ভট্টাচার্য, যিনি সংযত চরিত্রে অভিনয়ের জন্যই পরিচিত। প্রোমো জুড়ে তাই দু’টি আলাদা জগতের আভাস মিলেছে। একদিকে নদীর ঘাটে বড় হওয়া গঙ্গা, অন্যদিকে আইনের কঠোর পথে চলা অর্জুন।

আরও পড়ুনঃ “আমি যা কাজ করেছি, তা কেউ মুছতে পারবে না…আমাকে থামানো গেলেও আমার সৃষ্টিকে নয়!” ইন্ডাস্ট্রির ভাঙন আর রাজনৈতিক বিভাজনের মাঝেই বি’স্ফোরক বার্তা অনির্বাণ ভট্টাচার্যের! ঠিক কী কারণে টলিপাড়ায় চুপিসারে টার্গেট হয়েছেন অভিনেতা?

একজন জীবনের প্রতিকূলতা থেকেও আনন্দ খুঁজে নেয়, আরেকজন দায়িত্বের বাইরে কিছু ভাবতেই চায় না! কীভাবে এই দুই প্রান্তের মানুষের পথ এক হবে? সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। আপাতত প্রোমোই ইঙ্গিত দিচ্ছে, নদীর স্রোতের মতোই গল্পও বয়ে যাবে আবেগ, সংগ্রাম আর অদেখা সম্পর্কের দিকে। যদিও চ্যানেল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে এখনও কোনও নির্দিষ্ট দিন বা সময়সূচির ঘোষণা করা হয়নি, তবে অনুমান করা যাচ্ছে ‘শুভ বিবাহ’ শেষ হতেই, প্রাইম টাইমেই আসবে ধারাবাহিকটি।

You cannot copy content of this page