ভালোবাসার দিনকে বেছে নিয়ে নিজের জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন ‘রণজয় বিষ্ণু’ (Ranojoy Bishnu) ও ‘শ্যামৌপ্তি মুদলি’ (Shyamoupti Mudly)। তবে এই বিয়ে শুধুই তারকাদের ব্যক্তিগত মুহূর্ত ছিল না, সামাজিক মাধ্যমে কল্যাণে তা পরিণত হয় একেবারে জনসমাগমে। ছবি, ভিডিও, রিল মিলিয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে তাঁদের আনন্দের ঝলক। হলুদে রাঙা সকাল থেকে রাতের জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন, সবেতেই ছিল স্বতঃস্ফূর্ততা। গায়ে হলুদের একটি ভিডিও বিশেষ করে নজর কাড়ে, যেখানে দু’জনকে প্রাণ খুলে নাচতে দেখা যায়, শরীরজুড়ে হলুদ আর মুখে নিখাদ হাসি।
তবে প্রশংসার ঢেউয়ের মাঝেই কটাক্ষও উঁকি দেয়। নাচ নিয়ে কিছু নেটিজেন প্রশ্ন তোলেন, এমনকি অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনের সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট নিয়েও শুরু হয় জল্পনা। যদিও সেখানে কারও নাম ছিল না, তবু ইঙ্গিত যে কাদের দিকে, তা বুঝতে কারও অসুবিধা হয়নি। প্রসঙ্গত, রণজয় ও শ্যামৌপ্তির সম্পর্কের শুরুও কম আলোচিত নয়। ধারাবাহিক গুড্ডি-তে একসঙ্গে কাজ করতে করতেই তাঁদের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। সেই সময় রণজয়ের ব্যক্তিগত জীবনে আগের সম্পর্কের সমাপ্তি ঘটে, যা নিয়েও বিস্তর চর্চা হয়েছিল।
পরে ধীরে ধীরে তাঁদের বন্ধুত্ব প্রেমে বদলায়। প্রথম দিকে সম্পর্কের কথা এড়িয়ে গেলেও, সময়ের সঙ্গে তাঁরা নিজেদের সিদ্ধান্তে স্থির থাকেন। শেষ পর্যন্ত পরিবার-বন্ধুদের উপস্থিতিতে বিয়ের মাধ্যমে সেই সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি মিলেছে। বিয়ের আয়োজনে ছিল খাঁটি বাঙালি ছোঁয়া। সকালবেলার গায়ে হলুদ, সন্ধ্যায় বিয়ের আসর, তারপর রিসেপশন, সব একই দিনে সেরে ফেলেছিলেন তাঁরা। আচার-অনুষ্ঠান মেনে পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণে সম্পন্ন হয় চার হাত এক হওয়া।
পরে ঘরোয়া পরিবেশে বউভাত ও ভাত-কাপড়ের রীতিও পালন করা হয়। অতিথিদের জন্য ছিল জমজমাট ভোজ। যেখানে ছিল ভাত থেকে সুগন্ধি পোলাও, ভেটকি, মটন, সব মিলিয়ে ঐতিহ্য আর আপ্যায়নের সুন্দর মেলবন্ধন। তারকাখচিত উপস্থিতিও এই বিয়েকে আরও আলোচনায় আনে। টলিউডের একাধিক পরিচিত মুখ হাজির ছিলেন শুভেচ্ছা জানাতে। তবে, নিজেদের বিশেষ দিনে নাচ নিয়ে কটাক্ষ কারোর পক্ষেই মানা সম্ভব নয়। বিষয়টি নিয়ে চুপ না থেকে নিজের মতো করে জবাব দেন রণজয়।
আরও পড়ুনঃ অপেক্ষার অবসান! অভাবের নদী থেকে উঠে আসা গঙ্গা ও অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অর্জুন, প্রকাশ্যে সাহেব-হিয়ার নতুন মেগার প্রোমো! দুই মেরুর গল্প নিয়ে আসছে স্টার জলসার ‘গঙ্গা’, কীভাবে মিলবে দু’জনের জীবনস্রোত?
সম্প্রতি হলুদের একটি ভিডিও শেয়ার করে তিনি জানান, জীবনের আনন্দের পথে নেতিবাচক মন্তব্য আসবেই। কিন্তু সেগুলোকে গুরুত্ব না দিয়ে নিজের মতো বাঁচাটাই আসল কথা। নাচতেই যদি ইচ্ছা করে তো, মন খুলে নাচা উচিৎ। তাঁর বার্তা ছিল পরিষ্কার, উৎসবের মুহূর্তে তিক্ততা জায়গা পাবে না। সব মিলিয়ে এই বিয়েতে ছিল আনন্দ, বিতর্ক, ভালোবাসা আর সামাজিক মাধ্যমের চর্চার এক মিশ্র ছবি। কিন্তু দিনের শেষে, রণজয় ও শ্যামৌপ্তির কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল একটাই যে নিজেদের মতো করে জীবনের নতুন পথচলা শুরু করা।






