বিনোদন জগতে প্রবেশের গল্প সবার এক রকম হয় না। কারও কাছে তা হঠাৎ সুযোগ, কারও কাছে দীর্ঘ লড়াই আর অনিশ্চয়তার পথ। কেউ পারিবারিক সমর্থন পায়, কেউ আবার সন্দেহ আর প্রশ্নের মুখে পড়ে প্রথম থেকেই। অভিনয়ের জগতে নিজের জায়গা করে নেওয়া মানে শুধু ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো নয়, বরং আত্মবিশ্বাস, ধৈর্য আর প্রবল ইচ্ছাশক্তির পরীক্ষা। এমনই এক সংগ্রামের কথা সম্প্রতি শেয়ার করেছেন অভিনেতা ও বিধায়ক কাঞ্চন মল্লিক।
ব্যক্তিগত জীবন হোক বা রাজনৈতিক মঞ্চ—কাঞ্চন মল্লিককে ঘিরে বিতর্ক নতুন কিছু নয়। সমাজমাধ্যমে তাকে নিয়ে নানা কটাক্ষ, সমালোচনা প্রায়ই চোখে পড়ে। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে সমালোচনার মাত্রা অনেক সময় আরও তীব্র হয়েছে। তবু সব কিছুর মধ্যেও বাংলা বিনোদন জগতে তার জনপ্রিয়তা অস্বীকার করার উপায় নেই। দর্শকের কাছে তিনি মূলত একজন বিনোদনদাতা, যিনি পর্দায় এলেই আলাদা ছাপ রেখে যান। এই গ্রহণযোগ্যতাই তাকে আজও প্রাসঙ্গিক রেখেছে।
একাধিক বাংলা ছবিতে কাঞ্চন মল্লিকের উপস্থিতি দর্শকদের নজর কেড়েছে। তার অভিনয়ে স্বাভাবিকতা, সংলাপ বলার ভঙ্গি এবং কমেডির টাইমিং আলাদা মাত্রা তৈরি করে। হাসির দৃশ্য হোক বা আবেগঘন মুহূর্ত—দুই ক্ষেত্রেই তিনি সাবলীল। বিশেষ করে কমেডি চরিত্রে তার সহজাত দক্ষতা দর্শকদের মন জয় করেছে বহুবার। সহ-অভিনেতাদের সঙ্গে তার স্ক্রিন কেমিস্ট্রিও প্রায়শই প্রশংসিত হয়েছে। ফলে অভিনেতা হিসেবে বাংলার মানুষের কাছে তিনি আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছেন।
সম্প্রতি নিজের অভিনয় জগতের শুরুর দিকের কথা বলতে গিয়ে কাঞ্চন এক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, এক সময় চাকরি ছেড়ে অভিনয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিলে তাকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছিল। তাকে বলা হয়েছিল—“নিজেকে আয়নায় দেখেছিস? তুই কি উত্তম কুমার হবি?” সেই সময়ের এই কথাগুলো আজও তার কানে বাজে। তবে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তার লক্ষ্য কখনও কারও মতো হওয়া নয়। তিনি বলেন, “আমি উত্তম কুমার হতে চাইনি, আমি অভিনেতা হতে চেয়েছি। অভিনয়টাই করতে চেয়েছি।”
আরও পড়ুনঃ “এই পৃথিবীতে কেউ নেই মা-বাবার মতো কাছের…শূন্যতা মেপে বোঝা যায় না!” মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে অভিভাবকহারা! বাবা-মাকে ছাড়া প্রথম জন্মদিন উদযাপন সম্পূর্ণা লাহিড়ীর, আবেগঘন মুহূর্ত করলেন ভাগ!
এই কথাগুলো শুধু একটি স্মৃতি নয়, বরং তার আত্মবিশ্বাসের লড়াইয়ের প্রতীক। সামাজিক বিদ্রূপ, পারিবারিক সংশয়, পেশাগত অনিশ্চয়তা—সবকিছুর মধ্যেও তিনি নিজের স্বপ্ন আঁকড়ে ধরেছিলেন। আজ তিনি শুধু একজন অভিনেতা নন, একজন জনপ্রতিনিধিও। তবু তার পরিচয়ের কেন্দ্রে রয়ে গেছে অভিনয়। কাঞ্চন মল্লিকের কথায় স্পষ্ট, তিনি কারও ছায়া হয়ে নয়, নিজের পরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত হতে চেয়েছিলেন। আর সেই চেষ্টার ফলেই আজও বাংলা বিনোদন জগতে তার উপস্থিতি আলোচনার কেন্দ্রে।






