বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে এক সময় যাঁর নামের আগে অনায়াসেই ‘হট’ বিশেষণ জুড়ে দেওয়া হত, সেই ‘পাপিয়া অধিকারী’ (Papiya Adhikari) আজও নিজের অবস্থান নিয়ে স্পষ্টভাষী। একশোরও বেশি ছবিতে কাজ করা এই অভিনেত্রী শুধু বাংলা ছবিতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, তামিল ও ভোজপুরি সিনেমাতেও তিনি সমান স্বচ্ছন্দ ছিলেন। বড়পর্দা হোক কিংবা মঞ্চ, নিজের উপস্থিতি দিয়ে আলাদা করে নজর কাড়ার ক্ষমতা ছিল তাঁর। ‘দেবীবরণ’ ছবির ‘বিবি পায়রা’ চরিত্র আজও বহু দর্শকের স্মৃতিতে টিকে আছে।
অথচ কেরিয়ারের শুরুর দিকে চিত্রনাট্যকার গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার নাকি তাঁকে বলেছিলেন, তাঁর মধ্যে নাকি বিশেষ আকর্ষণ নেই। সময়ই প্রমাণ করেছে, সেই মন্তব্য কতটা ভুল ছিল। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে সাফল্য যেমন এসেছে, তেমনই এসেছে অনুপস্থিতির প্রশ্নও। ছোটপর্দায় ‘দত্ত এন্ড বউমা’র পর থেকে তাঁকে আর তেমন দেখা যায়নি। তবে তাঁর কথায়, কাজের অভাব নয় বরং নির্মাতাদের অনীহাই বড় কারণ। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সুযোগের জন্য কারও দরজায় দাঁড়ানো তাঁর স্বভাবে নেই।
নিজেকে প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রী বলেই মনে করেন তিনি, আর সেই আত্মসম্মান নিয়েই বাঁচতে চান। অনেকেই নতুন মুখ নিয়ে কাজ করতে স্বচ্ছন্দ কারণ তাতে নিয়ন্ত্রণ সহজ, এমন ইঙ্গিতও মিলেছে তাঁর বক্তব্যে। তবু আক্ষেপে ভেসে না গিয়ে নিজের মতো করেই সময় কাটাচ্ছেন তিনি। সিনেমা থেকে দূরে থাকলেও থেমে নেই তাঁর কাজ। যাত্রার মঞ্চে এখনও নিয়মিত তিনি, যদিও এই মাধ্যমের বর্তমান চেহারা তাঁকে ভাবায়। আধুনিকতার নামে যা চলছে, তা নিয়ে তাঁর আপত্তি স্পষ্ট।
সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “যাত্রায় ছোট জামা পড়াটা তো এখন একটা রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাছাড়াও দেখা যাচ্ছে অভিনেত্রীরা ওই ছোট জামা পড়েই এক পা তুলে দাঁড়িয়ে রয়েছে সাউন্ড বক্সের উপর। স্বাভাবিকভাবেই তার উরু থেকে শুরু করে আপত্তিজনক অঙ্গ সহজেই দেখতে পাচ্ছেন দর্শক আসনে যারা রয়েছেন। সবদিক থেকে আমাদের কালচার এমন নষ্ট হচ্ছে, পরবর্তীকালে বাংলা আর কোথাও দাঁড়াতে পারবে না। ভাববেন না আমি খুব পিছিয়ে পড়া মানসিকতার, আমি অত্যন্ত আধুনিক।
আরও পড়ুনঃ “পাঁচকমশাইকে ছেড়ে উচ্ছেবাবুর হাত ধরছেন পর্দার ‘কথা’?” টিআরপি কাঁপানো পুরনো জুটি ভেঙে সুস্মিতা-আদৃতের নতুন সমীকরণে সরগরম টেলিপাড়া! কোন চ্যানেলের, কোন নতুন ধারাবাহিকে ফিরছেন এই নতুন জুটি?
কিন্তু এগুলো কোনভাবেই আধুনিকতার মধ্যে পড়ে না। কারণ আধুনিকতা আর শালীনতার মধ্যে একটা পার্থক্য থাকে।” তাঁর মতে, শিল্পেরও একটা মর্যাদা আছে, সেটুকু বজায় রাখা জরুরি। প্রসঙ্গত, তাঁর কেরিয়ারের আরও এক দিক রাজনীতি। পর্দায় কম দেখা গেলেও সামাজিক কাজকর্ম ও রাজনৈতিক পরিসরে এখন বেশ সক্রিয় তিনি। শিল্পীজীবনের অভিজ্ঞতা তাঁকে আরও বাস্তববাদী করেছে বলেই মনে হয়। তবে এ কথা ঠিক, দর্শকের মনে তাঁর জন্য একটা আলাদা জায়গা এখনও রয়ে গেছে। শক্তিশালী চরিত্রে তাঁর উপস্থিতি অনেকেই মিস করেন।






