“হিংসা থেকেই টার্গেট হচ্ছি, অনেকের নজর লেগে যাচ্ছে আমাদের…আমি পরিবারের সঙ্গে ‘তুই-তুকারি’ বা ন্যাকামি করি, আপনাদের কী?” বিয়ের প্রাক্কালে মুখ খুললেন অনন্যা গুহ! সায়কের সঙ্গে আর দেখা যাচ্ছে না কেন, নেটিজেনরা প্রশ্ন তুলতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া অভিনেত্রীর!

মার্চ মাস দরজায় কড়া নাড়ছে। আর মাত্র হাতে গোনা কয়েকটা দিন পরেই সামাজিক ভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে চলেছেন ‘সুকান্ত কুন্ডু’ (Sukanta Kundu) এবং ‘অনন্যা গুহ’ (Ananya Guha)। বিয়ের প্রস্তুতি এখন পুরোদমে চলছে। পোশাক বাছাই থেকে অতিথি তালিকা, সব কিছু নিয়েই ব্যস্ততা। তবু এই আনন্দঘন সময়েও তাঁদের ঘিরে থামছে না আলোচনা। বিশেষ করে একটি পুরনো বিতর্কের রেশ বারবার টেনে আনা হচ্ছে আর সেই সূত্রেই উঠে আসছে ‘সায়ক চক্রবর্তী’র (Sayak Chakraborty) নাম।

অনেকের নজরে পড়েছে, আগের মতো সাম্প্রতিক ভিডিও বা ছবিতে সায়কের উপস্থিতি নেই। সেখান থেকেই নতুন করে জল্পনা শুরু। রেস্তোরাঁয় ভুল পরিবেশন ঘিরে যে ঘটনাটি ঘটেছিল, তা প্রথমে হয়তো এত বড় আকার নেবে কেউ ভাবেনি। কিন্তু ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও পরিস্থিতিকে অন্য দিকে ঘুরিয়ে দেয়। টেবিলে একাধিক মানুষ থাকলেও আপত্তির সুর স্পষ্টভাবে শোনা গিয়েছিল সায়কের গলায়। আর এটাই জনমতের ভারকে একদিকে ঠেলে দেয়। পরে জানা যায়, বিতর্কিত খাবারটি তাঁর অর্ডারও ছিল না। তবু সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে তিনিই থেকে যান।

সেই রাতের উপস্থিত অন্যদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও আলোচনার আলো যেন ঘুরেফিরে সায়কের উপরেই এসে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে অনন্যার দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দেওয়া হয়েছিল, বন্ধুত্বে কি চিড় ধরেছে? কারণ, সেদিনের ডিনারে তিনিও ছিলেন, ছিলেন সুকান্তও। দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত ও পেশাগত সম্পর্কের জেরে তাঁদের নামও জড়ায় আলোচনায়। সামাজিক মাধ্যমে অনন্যার একটি পোস্ট অনেকের কৌতূহল বাড়িয়ে দেয়, যেখানে তিনি ইঙ্গিত করেছিলেন যে অন্যের কাজের দায় নিজের কাঁধে নিতে চান না।

তবে পরে স্পষ্ট করে জানান, বন্ধুত্বের জায়গায় কোনও পরিবর্তন আসেনি। তাঁর কথায়, সায়ক বরাবরই বন্ধুদের পরিবার হিসেবেই দেখেন এই ভাবনাটা নতুন কিছু নয়। সামাজিক মাধ্যমের ব্যাখ্যা আর বাস্তব সম্পর্কের সমীকরণ যে আলাদা, সেটাই বোঝাতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে বিয়ের প্রাক্কালে যখন আবার প্রশ্ন তোলা হয়, কেন আর একসঙ্গে ক্যামেরার সামনে দেখা যাচ্ছে না? তখন অনন্যা খানিক বিরক্তির সুরেই বলেন, “আমার মনে হয় সবাই হিংসা থেকেই আমাদের বারবার টার্গেট করছে। হয় তারা নিজেরা সেটা করতে পারছে না, নয় তো করেও কোন ফলাফল পাচ্ছে না।

যদি ভ্লগ করেই ভ্লগারদের নিন্দা করতে হয়, তাহলে আর আপনি কোথায় আলাদা? দম থাকলে, সংবাদ মাধ্যমে গিয়ে নিন্দা করুন! আমি আমার পরিবারের সঙ্গে তুই করে কথা বলি বা ন্যাকামি করি, তাতে আপনাদের কী সমস্যা? সমাজ মাধ্যমে অন্যের চার পাঁচটা ছবি নিয়ে কোলাজ করে কিছু খারাপ মন্তব্য দিয়ে পোস্ট করে টাকা কামানোটা সোজা। কিন্তু তাদের মতো হতে হবে আগে নিন্দা করতে গেলে, নিজের অক্ষমতা ঢাকতে এসব করা মোটেই ভালো না। আগেও বলেছি যে সয়কের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্ব আঘের মতোই আছে, তুচ্ছ ঘটনায় কোন প্রভাব পড়েনি।

আরও পড়ুনঃ “সমর্থন পাইনি, শুরুটা ও-ই করেছিল…হিরণই আমার প্রথম অনুপ্রেরণা! দ্বিতীয় বিয়ে বিতর্ক, আইনি জটের মাঝেও ইতিবাচক বার্তা প্রাক্তন স্ত্রী অনিন্দিতার! বিশ্বাসঘা’তকতা করে সম্পর্ক ভাঙলেও, কৃতজ্ঞতা জানালেন কেন?

শুধুমাত্র এখন আর একসঙ্গে সামনে আসছি না। কারণ, আমাদের নজর লেগে যাচ্ছে অনেকের। মাস পড়লেই আমার বিয়ে, সেই নিয়েই ভাবতে চাইছি। আর এসব ভেবে সময় নষ্ট করছি না!” সব মিলিয়ে ছবিটা যেন দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে। একদিকে সামাজিক মাধ্যমের তীক্ষ্ণ নজর, অন্যদিকে ব্যক্তিগত জীবনের প্রস্তুতি। বিতর্কের ধোঁয়া পুরো কাটেনি, কিন্তু অনন্যা ও সুকান্ত আপাতত নতুন অধ্যায় নিয়েই ভাবতে চান। সায়কের সঙ্গে দূরত্বের জল্পনা থাকলেও তাঁদের বক্তব্য, সম্পর্কের ভিত নড়েনি। হয়তো এখন ক্যামেরার ফ্রেম বদলেছে, অগ্রাধিকারও বদলেছে। কিন্তু ব্যক্তিগত সমীকরণকে বাইরে থেকে মাপা যায় না, সেটাই বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন তাঁরা।

You cannot copy content of this page