“মায়ের মৃ’ত্যুটা আমি ৬মাস পর…একজন লিখে পাঠিয়েছিল…” গত বছর মাকে হারিয়ে ৩ দিনের মাথায় কাজে ফিরতেই সমালোচনার শি’কার হন কনীনিকা! একইভাবে রাহুলের মৃ’ত্যুতেও কটাক্ষের মুখে স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা! মায়ের কোন শিক্ষার কথা তুলে সমালোচকদের এক হাত নিলেন কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়?

গত বছর বাংলা নববর্ষে অভিনেত্রী কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায় মাকে হারান। মায়ের দীর্ঘ অসুস্থতার পর, ৬৪ বছর বয়সে কল্পনা বন্দ্যোপাধ্যায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। এই শোকের ভার বহন করতে কনীনিকার জন্য খুবই কঠিন ছিল। তবে, মায়ের মৃত্যু পরেও তিনি কাজ চালিয়ে গেছেন এবং এই সিদ্ধান্তের পেছনে তাঁর জীবনের একটি বড় শিক্ষা ছিল। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে কনীনিকা এই বিষয়ের ওপর বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং কিছু ব্যক্তিগত অনুভূতি শেয়ার করেছেন।

কনীনিকা বলেন, “আগের নববর্ষটা আমার জন্য বিশেষ ছিল না। কারণ আমি তখন মাকে হারিয়েছি। নববর্ষের আগের দিন মায়ের মৃত্যু সংবাদ পেয়েছিলাম, যখন আমি রান্নাঘরের শ্যুটিং করছিলাম।” অভিনেত্রী জানান, শ্যুটিংয়ের মাঝেই তাঁকে মায়ের মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়। তখনই তিনি উপলব্ধি করেন, জীবনের কঠিন সময়েও নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করতে হবে। মায়ের শিক্ষা তাঁকে যে বাস্তববাদী হতে শিখিয়েছে, তা এ সময়েও তার জীবনে বড় প্রভাব ফেলেছে। এই শোকের মধ্যে থেকেও কাজ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন কনীনিকা।

কারণ তার মা তাঁকে বলেছিলেন, “নিজের জায়গা তৈরির পর তা ছেড়ে দেয়া যায় না।” কনীনিকা আরও বলেন, “মায়ের মৃত্যু পর তিন দিন পরেই আমি কাজ শুরু করেছিলাম। কিন্তু কয়েকজন ফেসবুকে মন্তব্য করেছিলেন, ‘আপনি কি ভুলে গেছেন, আপনার মা মারা গেছেন?’ তখন আমি তাদের জবাব দিয়েছিলাম, ‘না, আমি আমার কাজ চালিয়ে যাব। কারণ আমার মা আমাকে শিখিয়েছেন, কষ্টের মধ্যেও জীবন এগিয়ে নিতে হবে।’ মায়ের মৃত্যুটা আমি ঠিক বুঝতে পারিনি প্রথমে, কিন্তু ছয় মাস পর আস্তে আস্তে অনুভব করেছি, মা আর নেই।”

এছাড়া, কিছুদিন আগে কনীনিকা আরও এক শোকের মধ্য দিয়ে গিয়েছিলেন, তাঁর কাছের বন্ধু এবং সহকর্মী, টলিপাড়ার জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল আরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় সমুদ্রের মধ্যে ডুবে মারা যান। তাঁর এই শোকও কনীনিকাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। নববর্ষের আগে একে একে দুটি বড় শোকের মধ্যে দিয়ে কাটাতে হয়েছে কনীনিকাকে। তিনি বলেন, “রাহুলের মৃত্যুর পরও আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি, আমি তখন অনেক রাত জেগে থাকতাম, ঘুমের কোনও তৃপ্তি ছিল না।”

আরও পড়ুনঃ “খুবই বিপদ, সংসার কীভাবে চালাব?” “২৫ বছর যাঁদের সঙ্গে যুক্ত, এই অবস্থায় তাঁদের ছেড়ে যেতে পারব না” রাহুলের মৃ’ত্যুর জেরে বন্ধ ‘চিরসখা’, বেকার হয়ে আর্থিক অস্বস্তির মধ্যে পড়েছেন ধারাবাহিকের পরিচালক? কীভাবে কাটছে দিন?

কনীনিকা শোককে তীব্রভাবে অনুভব করেছেন, কিন্তু তিনি তাঁর জীবনের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হননি। শোকের মধ্যে থেকেও কাজ করতে গিয়ে নিজেকে শক্তিশালী করেছেন। মায়ের মৃত্যুর পর তাঁর শোক কাটিয়ে উঠতে সময় লাগলেও, জীবনের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি শক্তিশালী হয়েছে। এই কঠিন সময়েও কাজের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা এবং মা থেকে পাওয়া শিক্ষা তাঁকে অগ্রসর হতে সাহায্য করেছে। তিনি বলেন, “আমার মা শিখিয়েছিলেন, নিজেকে কখনো ছাড়বে না, জীবন চলতেই থাকে।”

You cannot copy content of this page