“মমতা ব্যানার্জি মায়ের মতো, অভিষেকের নীতিতেই সব শিখেছি…১১-১২ কিলোমিটার হেঁটে রোদ-বৃষ্টি পেরিয়েও মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি!” তবুও কেন এবার ভোটে প্রার্থী হতে চাইছেন না কৌশানী মুখার্জী? রাজনৈতিক জীবনের উত্থান-পতন নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী, জানালেন ভবিষ্যতের পরিকল্পনা!

বাংলার বিনোদন জগতে বহুদিন ধরেই এক নতুন প্রবণতা চোখে পড়ছে। শুধু ক্যামেরার সামনে অভিনয় করাই নয়, সমাজ ও রাজনীতির ময়দানেও সক্রিয় ভূমিকা নিতে এগিয়ে আসছেন বহু অভিনেতা-অভিনেত্রী। টলিউডের একাধিক তারকা ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নির্বাচনে লড়েছেন কিংবা সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কাজেও অংশ নিয়েছেন। ফলে অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনীতিতেও তাঁদের উপস্থিতি নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। এই তালিকায় নাম রয়েছে অভিনেত্রী কৌশানী মুখার্জী (Koushani Mukherjee)-এরও।

টলিউডে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন অ.ভিনেত্রী।২০২৪ সালের ছবি ‘বহুরূপী’-তে ‘ঝিমলি’ চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। এই ছবির জন্য তিনি আনন্দলোক পুরস্কারের মনোনয়নও পেয়েছেন। বর্তমানে তিনি একাধিক বড় প্রজেক্টে কাজ করেছেন, যেমন পরিচালক সৃজিত মুখার্জির নতুন ছবি ‘কিলবিল সোসাইটি’ এবং রক্তবীজ ২-এ অভিনয় করছেন তিনি।

অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনীতির ময়দানেও একসময় সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন কৌশানী। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস-এর প্রার্থী হিসেবে কৃষ্ণনগর কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। যদিও সেই নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন, তবু রাজনীতির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক পুরোপুরি শেষ হয়নি। তিনি বরাবরই জানিয়েছেন, রাজনৈতিক ময়দানে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনের বড় শিক্ষা।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কৌশানী জানান, তিনি মূলত দুই ব্যক্তিকে দেখে রাজনীতিতে এসেছিলেন— মমতা ব্যানার্জি এবং অভিষেক ব্যানার্জি। তাঁদের প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মান রয়েছে বলেই জানান অভিনেত্রী। কৌশানীর কথায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নীতিই তাঁকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিনি শুধু রাজনৈতিক নেত্রী হিসেবে বা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নয়, নিজের মায়ের মতো স্নেহশীল মানুষ হিসেবেও পেয়েছেন বলে জানান।

আরও পড়ুনঃ “প্রতিটি নারীর আছে সেই শক্তি, তবে বিশ্রামের সময় দরকার…সমতার পরিবেশ আরও শক্তিশালী হতে হবে!” আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রাক্কালে, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা আর মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব নিয়ে বার্তা সুস্মিতা ও স্বস্তিকার!

তবে একই সঙ্গে অভিনেত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এই বছরের ভোটে যদি দল থেকে প্রস্তাবও আসে, তিনি সম্ভবত তা গ্রহণ করবেন না। কারণ রাজনীতি করতে গেলে “চব্বিশ ঘণ্টা মানুষের জন্য কাজ করার মানসিকতা” দরকার বলে মনে করেন তিনি। সেই প্রস্তুতির জন্য কিছুটা সময় নিতে চান কৌশানী। তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, ২০২১ সালের নির্বাচনের সময় প্রচারের জন্য প্রতিদিন প্রায় এগারো থেকে বারো কিলোমিটার হাঁটতেন এবং রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে মানুষের সঙ্গে কথা বলতেন। তাই আপাতত অভিনয়েই বেশি মন দিতে চান তিনি, যদিও ভবিষ্যতে সুযোগ এলে আবার দলের হয়ে কাজ করতে পারেন বলেও জানিয়েছেন।

You cannot copy content of this page