বাংলায় ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন শেষ হয়েছে, এখন সবার নজর ফলাফলের দিকে। শহর থেকে গ্রাম, সর্বত্র আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু একটাই— কে গড়বে আগামী সরকার। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি এই মুহূর্তে তারকারাও জানাচ্ছেন নিজেদের প্রত্যাশা ও মতামত। এই প্রেক্ষাপটে অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী মমতা শঙ্কর (Mamata Shankar) নিজের ভাবনা স্পষ্ট করে তুলে ধরেছেন। তিনি জানিয়েছেন, নতুন সরকার শুধু প্রশাসনিক কাজেই সীমাবদ্ধ না থেকে সমাজের মানসিকতা বদলানোর দিকেও নজর দিক।
তাঁর কথায়, এখন সময় এসেছে আরও সুস্থ ও সংযত পরিবেশ তৈরি করার। একটি সাক্ষাৎকারে মমতা শঙ্কর বলেন, “এতো কিছু বলার আছে যে একদুকথায় বলা যায় না। একটা ভদ্র সভ্য সমাজ যেন গড়তে পারা যায়।” তিনি মনে করেন, মানুষের ভাষা এবং আচরণে সংযম ফিরিয়ে আনা এখন সবচেয়ে জরুরি। শুধুমাত্র উন্নয়ন বা কাজের পরিসংখ্যান নয়, বরং মানুষের ব্যবহার, মূল্যবোধ এবং সামাজিক আচরণ দিয়েই একটি সরকারের সাফল্য বিচার হওয়া উচিত। তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে, কাজের মাধ্যমেই প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, “ভালো কাজ দিয়ে তারা প্রমাণ করবে, কেবল বাংলার ভালো নয়, সারা ভারতের ভালো হবে এমন কাজ চাই।” তাঁর মতে, শুধু রাজ্যের উন্নয়ন নয়, দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের কথাও ভাবা প্রয়োজন। বাংলা ও ভারতের উন্নয়নকে আলাদা করে দেখা উচিত নয় বলেই তিনি মনে করেন। তাঁর কথায়, “বাংলা ও ভারতের ভালো আলাদা কিছু নয়, দুটোকেই একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।” এই ভাবনার মধ্যেই তিনি এক বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গির ইঙ্গিত দিয়েছেন।
মমতা শঙ্কর আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন, যা বাংলার সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সঙ্গে জড়িত। তিনি বলেন, “আগে বলা হত বাংলা আজ যা ভাবে, গোটা পৃথিবী তাই ভাববে। বাংলা আবার তার কাজ দিয়ে পথ দেখাক।” তাঁর মতে, শালীনতা, ভদ্রতা এবং সামাজিক মূল্যবোধ—এই বিষয়গুলোতে বাংলার আবার উদাহরণ হয়ে ওঠা উচিত। প্রয়োজনে প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, “এটা গড়তে যদি কড়া হতে হয়, কড়া হাতে শাসন করতে হয়, তাই হতে হবে।”
আরও পড়ুনঃ “তোমরা মিথ্যাবাদী…এখন বুঝি তোমরাই আসলেই…” হাজার চেষ্টা করেও রাহুল-প্রিয়াঙ্কাকে একসঙ্গে রাখার স্বপ্ন ভেঙে গেল সহজের! বিচ্ছেদ ভুলে বাবা-মায়ের মিলন, শেষমেশ নিয়তির খেলায় বাবাকে হারানোর যন্ত্রণায় তার পরিণত স্বীকারোক্তি! কোন মানসিক শক্তির জোরে, এই বয়সে ভয়ং’কর বাস্তবকে গ্রহণ করল সে?
শেষে তিনি একটি সতর্কবার্তাও দেন, যা রাজনৈতিক মহলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে। তিনি বলেন, “এটা খেয়াল রাখতে হবে, যে আসে লঙ্কায় সেই হয় রাবণ এটা যেন না হয়।” অর্থাৎ ক্ষমতায় এসে যেন কেউ নিজের মূল উদ্দেশ্য ভুলে না যায়। মানুষের জন্য কাজ করা এবং সমাজকে সঠিক পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই হওয়া উচিত প্রধান লক্ষ্য। সব মিলিয়ে, নতুন সরকারের কাছে তাঁর প্রত্যাশা স্পষ্ট— উন্নয়ন যেমন দরকার, তেমনই প্রয়োজন মূল্যবোধ ও মানবিকতার পুনর্গঠন।






