সম্প্রতি টলিপাড়ায় তাকে ঘিরে নানান চর্চা আর নানান বিতর্ক। কার্যত অভিনেতা সত্ত্বার উপরেই অনিশ্চয়তার কালো মেঘ! হ্যাঁ, ঠিক ধরেছেন। কথা হচ্ছে অভিনেতা ‘অনির্বাণ ভট্টাচার্য’কে (Anirban Bhattacharya) নিয়ে। বড়পর্দায় তাঁকে দেখা যাচ্ছে না, গত বছর শেষবার দেবের ছবি ‘রঘু ডাকাত’এ খলনায়কের চরিত্রে দেখা গিয়েছিল। তারপর থেকে নতুন কোনও ছবির খবর না থাকলেও, শিল্পী হিসেবে তাঁর ব্যস্ততা কিন্তু থেমে নেই। বরং মঞ্চেই এখন বেশি সক্রিয় তিনি। বিভিন্ন জায়গায় ‘হুলিগানইজম’ ব্যান্ডের অনুষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটছে তাঁর।
ইতিমধ্যেই নতুন করে গুঞ্জন শুরু হয়েছে, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরেই নাকি আবারও পর্দায় ফিরছেন তিনি। এই প্রেক্ষাপটে, এতদিন পর্দা থেকে দূরে থাকার প্রসঙ্গ উঠলেই অনির্বাণ জানান, বিষয়টা নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলার মতো অবস্থায় তিনি নেই। অভিনয়ের সুযোগ না পাওয়ার পেছনে অন্য কিছু কারণ আছে, কিন্তু সেই প্রসঙ্গ বারবার টেনে আনতে তিনি আগ্রহী নন। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি কলামন্দিরে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘হুলিগানইজম’-এর অনুষ্ঠান, যেখানে আবারও উঠে আসে সামাজিক প্রসঙ্গ।
গানের মাধ্যমে ব্যঙ্গ, কৌতুক আর তির্যক মন্তব্য মিলিয়ে অনুষ্ঠানটি আগের মতোই মাত্রা পেয়েছিল। তবে, এর আগেও এই ব্যান্ডের পরিবেশনা ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গতবছর রাজনীতির জগতের তিন ‘ঘোষ’কে নিয়ে করা একটি গানের পর থেকেই অনেকের নজরে আসে তাঁদের কাজ। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এই ধরনের স্পষ্ট বক্তব্য কি অনির্বাণের অভিনয়জীবনের ওপর কোনও প্রভাব ফেলছে? তবে অনির্বাণ মনে করেন, মঞ্চে করা কাজ আর অভিনয়, দুটি আলাদা জায়গা। তাঁর মতে, দর্শক বা শ্রোতারাও সাধারণত এই দুটোকে গুলিয়ে ফেলেন না।
মঞ্চে যে কথাগুলো বলা হয়, সেগুলো মূলত সমাজের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ভাবনার জায়গা তৈরি করার চেষ্টা। তিনি নিজেকে প্রথমে একজন অভিনেতা হিসেবেই ভাবেন। অভিনয় করতে না পারার যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেটাকে তিনি অন্য ধরনের দ্বন্দ্ব বলে মনে করেন, যার সঙ্গে ‘হুলিগানইজম’-এর কাজকে জড়িয়ে দেখা ঠিক নয়। এই ক্ষেত্রে ব্যান্ডকে আবার প্রায়ই বিতর্কে জড়াতে দেখা যায়, পরিচিত সুরের সঙ্গে নতুন ধাঁচের র্যাপ বা গানের মিশ্রণ। কখনও রবীন্দ্রসংগীতের সুরের সঙ্গে আধুনিক বক্তব্য জুড়ে দেওয়া হয়।
কখনও আবার পুরোনো জনপ্রিয় গানের সুর ব্যবহার করে তৈরি করা হয় নতুন বার্তা। অনির্বাণের মতে, এসবই আসলে সংস্কৃতির ভেতরে থেকেই তৈরি হওয়া এক ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা। সংস্কৃতি কোনও স্থির বিষয় নয়, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার ভেতরে নানান রকম ব্যাখ্যা আর পরিবর্তন আসতেই পারে। সেই পরিবর্তনকে ঘিরেই তাঁদের কাজ এগিয়ে চলে। তবে, এই কাজের জন্য সমালোচনা বা ট্রোলের মুখে পড়তে তিনি অভ্যস্ত। দীর্ঘদিন ধরে বিনোদন জগতের সঙ্গে যুক্ত থাকার ফলে এসব প্রতিক্রিয়া এখন আর তাঁকে বিচলিত করে না।
আরও পড়ুনঃ ‘ডান্স বাংলা ডান্স’ খ্যাত ৫ বছরের রোদ্দুর চট্টোপাধ্যায়ের প্রয়োজন বাইপাস সা’র্জারির! লাগবে আরও ১৫ লাখ টাকা! “শুনে আর থাকতে পারিনি” ছোট্ট রোদ্দুরের জন্য নিজের সঞ্চয় দিতে প্রস্তুত মানবিক অভিনেতা অঙ্কুশ!
বরং তিনি মনে করেন, শিল্পচর্চার মধ্যে প্রশ্ন, মতভেদ বা অস্বস্তি থাকাটাই স্বাভাবিক। ‘হুলিগানইজম’কে অনেকেই শুধুই প্রতিবাদী বা বিপ্লবী ভাবমূর্তিতে দেখতে চান, কিন্তু অনির্বাণের মতে তাঁদের লক্ষ্য আসলে নানান ধরনের ভাবনা আর কথাকে মঞ্চে তুলে ধরা। নেতা ও মন্ত্রীদের কার্যকলাপ দেখে, দেশ, রাজ্য বা সিস্টেম বদলে দেওয়ার বড় স্বপ্ন হয়তো আর নেই, কিন্তু প্রশ্ন তোলা আর নিজের ভেতরের সংঘাতকে সামনে আনা। আর এই জায়গাটাই তাঁদের কাজকে জীবন্ত রেখেছে বলে জানান অভিনেতা।






