“আমার আর কোনও উন্নয়ন বা ওভার-আন্ডার ব্রিজ চাই না, শুধুমাত্র আমাদের দেশে ‘তালিবানি শাস্তি’ চালু হোক, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ধ’র্ষণ রোখার একমাত্র পথ” ভয়াবহ সমাজব্যাধির বাস্তবতা তুলে ধরে, চরম শাস্তির দাবি দেবলীনা দত্তের! অভিনেত্রীর এই প্রস্তাব সমাজের জন্য সহায়ক নাকি বিপজ্জনক?

টলিউডের পরিচিত মুখ দেবলীনা দত্ত বরাবরই তাঁর স্পষ্টবক্তা স্বভাবের জন্য আলোচনায় থাকেন। শুধু অভিনয় নয়, সমাজের নানা সংবেদনশীল বিষয়েও তিনি নির্দ্বিধায় নিজের মতামত প্রকাশ করেন। এই কারণেই কখনও তিনি প্রশংসা কুড়িয়েছেন, আবার কখনও তীব্র সমালোচনার মুখেও পড়েছেন। তবুও নিজের অবস্থান থেকে একচুলও সরেননি এই অভিনেত্রী। দেবলীনা দত্তর বক্তব্যে বারবার উঠে আসে সমাজের বাস্তব ছবি যেখানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা সহজ নয়। তিনি নিজেই জানিয়েছেন, অনেক সময় সোচ্চার হওয়ার মূল্য দিতে হয়েছে তাঁকে।

কাজের ক্ষেত্রেও তার প্রভাব পড়েছে, তবুও তিনি মনে করেন, অন্যায় দেখেও চুপ করে থাকা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। তাই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বলতে তিনি কখনও পিছপা হন না। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ধর্ষণ ইস্যু নিয়ে অত্যন্ত কঠোর ও আবেগপ্রবণ মন্তব্য করেছেন দেবলীনা। তাঁর কথায়, এই অপরাধের ক্ষেত্রে তিনি নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকল ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে কথা বলছেন। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন, অবকাঠামো এসবের চেয়ে তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল নারীর নিরাপত্তা এবং ধর্ষণের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা।

তাঁর দাবি, ধর্ষকদের এমন শাস্তি দেওয়া উচিত, যা দেখে ভবিষ্যতে কেউ এই অপরাধ করার কথা ভাবতেও ভয় পাবে। তিনি আরও বলেন, সমাজে “সব পুরুষই সম্ভাব্য ধর্ষক” এই ধরনের বক্তব্যের তিনি তীব্র বিরোধী। তাঁর নিজের অভিজ্ঞতায় তিনি অনেক ভাল পুরুষের সংস্পর্শে এসেছেন বন্ধু, পরিবার, আত্মীয় , তাই এই সাধারণীকরণকে তিনি ভুল এবং অযৌক্তিক বলে মনে করেন। তবে যারা এই ধরনের কথা বলেন, তাঁদের মানসিকতার কারণ তিনি নিজেও পুরোপুরি বুঝতে পারেন না বলে জানিয়েছেন।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেও তিনি বলেন, বাস্তবে এমন কোনও সেফটি মেজার নেই যা ধর্ষণ পুরোপুরি বন্ধ করতে পারে। দিনের আলো হোক বা রাত সব সময়েই এই অপরাধ ঘটছে। এমনকি পশুরাও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। তাই পোশাক বা সময়কে দায়ী করে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তাঁর মতে, সমাজের বিভিন্ন স্তরে, ডোমেস্টিক রেপ বা ম্যারিটাল রেপ এই সমস্যাগুলো আরও জটিল, যেগুলো শুধুমাত্র সচেতনতা দিয়ে সম্পূর্ণ নির্মূল করা কঠিন।

সবশেষে দেবলীনা দত্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ধর্ষণ রুখতে একটাই কার্যকর উপায়, দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তি। তাঁর মতে, যদি অপরাধীরা নিশ্চিত থাকে যে এমন অপরাধ করলে ভয়ঙ্কর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে, তাহলে অনেকাংশে এই অপরাধ কমানো সম্ভব। তিনি এদিন বলেন, “আমার মনে হয়, শুধুমাত্র রেপ এই অপরাধটার ক্ষেত্রে আমি একজন নারী হিসেবে এবং যে পুরুষরা ধর্ষণের শিকার হন, তাদের প্রতিনিধি হিসেবেও আমি বলছি যে শুধু রেপ নামক বস্তুটার জন্য সংবিধানের কাছে আমার দাবি বলুন বা আবেদন একটাই।

আরও পড়ুনঃ “সভ্য মানুষের অসভ্যতা দেখে বীতশ্রদ্ধ হয়ে গেছি, শ্রদ্ধা-ভক্তি সব ভুলে গেছে” মেসেজ ‘সিন’ করে চুপ থাকা, এ কেমন শিক্ষা? বর্তমান প্রজন্মকে নিয়ে কড়া সুরে ববি চক্রবর্তী! প্রযুক্তির যুগে ভদ্রতার আড়ালে বাড়ছে নতুন ধরনের অসভ্যতা, কী বললেন অভিনেতা?

আমি হাতজোড় করে বলছি আর এই জীবনে আর কোনও রকম উন্নতি চাই না, উন্নয়ন চাই না। অভার ব্রীজ বা আন্ডার ব্রীজও চাই না, শুধুমাত্র চাই রেপিস্টদের বিরুদ্ধে আমাদের দেশ যেন ‘তালিবানি শাস্তি’ নামক শাস্তি কার্যকর করে। যাতে নারী ও পুরুষ নির্বিশেষে পটেনশিয়াল রেপিস্ট যারা আছে, এত ভয় পায় যে এমন কিছু করার আগে দশবার ভাববে ভবিষ্যতে!” তাঁর এই বক্তব্য ইতিমধ্যেই সমাজে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। কেউ তাঁর কঠোর অবস্থানকে সমর্থন করছেন, আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন শাস্তির ধরন নিয়ে। তবে একথা স্পষ্ট এই সংবেদনশীল বিষয়টি নিয়ে আলোচনাকে আরও তীব্র করে তুলেছেন তিনি।

You cannot copy content of this page