বাংলা চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম উজ্জ্বল নাম অপর্ণা সেন। অভিনেত্রী, পরিচালক এবং সমাজসচেতন মানুষ—এই তিন পরিচয়েই তিনি সমানভাবে সমাদৃত। মাত্র ১৬ বছর বয়সে সত্যজিৎ রায়ের ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁর যাত্রা শুরু। তারপর দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বাংলা সিনেমাকে তিনি সমৃদ্ধ করেছেন একের পর এক স্মরণীয় কাজ দিয়ে। অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনাতেও তিনি নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন। ব্যক্তিগত জীবন থেকে সমাজ—সব বিষয়েই তাঁর স্পষ্ট মতামত বরাবরই আলোচনার কেন্দ্রে থাকে।
শুধু সিনেমা নয়, সমাজের নানা বিষয় নিয়েও অপর্ণা সেন মাঝেমধ্যেই প্রকাশ্যে কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যে যেমন স্পষ্টতা থাকে, তেমনই থাকে নিজের অভিজ্ঞতার ছাপ। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সমাজ, নৈতিকতা এবং বর্তমান নারীবাদ নিয়ে নিজের ভাবনা তুলে ধরেছেন তিনি। কথাগুলো শুনে অনেকেই অবাক হলেও, তাঁর বক্তব্যে ছিল নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা এবং সমাজকে দেখার দীর্ঘ দিনের দৃষ্টিভঙ্গি।
অপর্ণা সেন মনে করেন সমাজে নৈতিকতার বিষয়টি অনেকাংশেই মধ্যবিত্তদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। তাঁর মতে, খুব গরিব মানুষদের হারানোর মতো কিছু থাকে না, তাই অনেক সময় তাদের মধ্যে সেই ধরনের সামাজিক নৈতিকতার বোধ তৈরি হয় না। আবার যাদের প্রচুর অর্থ ও ক্ষমতা আছে, তাদের ক্ষেত্রেও অনেক সময় নৈতিকতার গুরুত্ব কমে যায়। কিন্তু মধ্যবিত্তরা সবসময় ভয় পায়—সমাজ কি বলবে, মানুষ কী ভাববে। বদনামের আশঙ্কা থেকেই তারা অনেক সময় নিজেদের সীমার মধ্যে থাকতে চেষ্টা করে। তবে তিনি এটাও স্বীকার করেন, অনেক মানুষ আছেন যারা এসব ভয়কে গুরুত্ব না দিয়ে নিজের মতো করেই জীবন কাটাতে চান।
ছোটবেলা থেকেই সিনেমা জগতের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে তিনি সমাজের নানা মন্তব্য বা সমালোচনাকে খুব একটা গুরুত্ব দেননি বলেই জানান। তাঁর কথায়, তিনি যদি মনে করেন কোনো কাজ ঠিক, তাহলে অন্যেরা কী ভাববে সেটা নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামাননি। তবে নিজের ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে অন্য কাউকে আঘাত না দেওয়ার বিষয়টি সবসময়ই মাথায় রাখার চেষ্টা করেছেন তিনি। নিজের জীবনকে নিজের মতো করে বাঁচার সাহসটাই তাঁকে আলাদা করে দিয়েছে—এমনটাই মনে করেন অনেকেই।
আরও পড়ুনঃ ‘বিয়ের অপেক্ষা আর বেশি নয়!’ খুব তাড়াতাড়ি বিয়ের পিঁড়িতে প্রতীক সেন, অভিনেতার মায়ের মন্তব্যেই সোনামণির সঙ্গে সম্পর্কের জল্পনায় সিলমোহর? কবে হবে পর্দার জুটির চার হাত এক?
বর্তমান সময়ের নারীবাদ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অপর্ণা সেন বলেন, এখনকার অনেক ফেমিনিস্ট শুধু মেয়েদের দিকটাই দেখেন। তাঁর মতে, সমাজে ভারসাম্য বজায় রাখতে নারী-পুরুষ দু’জনের দিকই সমানভাবে দেখা জরুরি। তিনি বলেন, “মেয়েদের যদি অর্ধেক আকাশ বলা হয়, তাহলে বাকি অর্ধেকটা তো পুরুষদেরও।” অর্থাৎ তাঁর মতে, সমতা মানে কেবল নারীর দিক নয়—পুরুষের অবস্থানও সেই আলোচনায় সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই মন্তব্য ঘিরেই এখন নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে সমাজের নানা মহলে।






