প্রতিবার নির্বাচনের সময় রাজনীতির ময়দানে যেমন উত্তাপ বাড়ে, তেমনই বাড়ে রঙের ব্যবহারও। সাদা পোশাক দীর্ঘদিন ধরেই রাজনীতিকদের পরিচিত চেহারা হলেও, নির্বাচন (West Bengali Election 2026) এলেই বিভিন্ন দলীয় রঙের প্রাধান্য চোখে পড়ে। এই আবহেই নতুন করে আলোচনায় উঠে এলেন শাসক দলের তারকা বিধায়ক ‘রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়’ (Rachana Banerjee)। তিনি এবার পোশাকের রঙ নিয়ে এক ভিন্ন তত্ত্ব সামনে আনলেন, যা এই মুহূর্তে চর্চা বাড়িয়ে দিয়েছেন কয়েকগুণ।
সম্প্রতি চুঁচুড়ায় দলীয় প্রার্থী দেবাংশু ভট্টাচার্যর সমর্থনে প্রচারে গিয়ে তিনি রঙের গুরুত্ব নিয়ে নিজের মত প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, চলতি সময়ে কালো রঙ এড়িয়ে চলা উচিত এবং তার বদলে ‘লাল বা কমলা’ রঙের পোশাক বেশি করে ব্যবহার করা ভালো। বিষয়টি তিনি জ্যোতিষ আর ‘কালার থেরাপি’র সঙ্গে যুক্ত করে ব্যাখ্যা করেন। তাঁর মতে, নির্দিষ্ট বছরে নির্দিষ্ট রঙ মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে আর সেই কারণেই এই পরামর্শ।

তবে, এই মন্তব্যের পর মুহূর্তের জন্য এক অদ্ভুত নীরবতা নেমে আসে সভায়। কারণ রাজনীতির ময়দানে রঙের আলাদা তাৎপর্য রয়েছে, যেখানে প্রতিটি রঙই কোনও না কোনও রাজনৈতিক বার্তা বহন করে। পাশে বসা নেত্রী প্রিয়াঙ্কা অধিকারী হালকা হাসির মাধ্যমে সেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং ইঙ্গিত দেন যে বাস্তবে সেই রঙের প্রভাব ভিন্ন হতে পারে। এই প্রতিক্রিয়াই পুরো বিষয়টিকে আরও আলোচনায় নিয়ে আসে।
এরপর দেবাংশু ভট্টাচার্যও মজার ছলে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন। তাঁর মতে, লাল বা কমলা রঙের ব্যবহার বাড়লে সবুজ আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। এই মন্তব্যে রাজনৈতিক ইঙ্গিত যেমন ছিল, তেমনই ছিল পরিস্থিতি হালকা করার চেষ্টা। তবে, পুরো ঘটনাটি থেকে স্পষ্ট যে রাজনৈতিক মঞ্চে এমন মন্তব্য কখনও কখনও অনিচ্ছাকৃতভাবেই নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়। এবারও তার অন্যথা হয়নি, বরং উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
আরও পড়ুনঃ “ওলটপালট করতে চেয়েও পারছে না, তাই বাইরে থেকে খাম’চানোর চেষ্টা…আমার কোম্পানির ক্ষতি করতে পারে!” ‘নর্মাল বর চেয়েছিলাম’ প্রথমবার নতুন স্বামীর সঙ্গে অফিসে গিয়ে মুখ খুললেন সুস্মিতা! কোন গুণ দেখে শুভাশিসকে পছন্দ হয়, কী জানালেন তিনি?
উল্লেখ্য, এর আগেও একাধিকবার রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের ব্যক্তিগত বিশ্বাস হিসেবে কালার থেরাপির কথা উল্লেখ করেছেন। এবার নির্বাচনের আবহে সেই বিশ্বাস প্রকাশ্যে তুলে ধরায় তা আরও বড় পরিসরে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। রাজনীতি, ব্যক্তিগত বিশ্বাস আর জনসমক্ষে বক্তব্য, এই তিনের মিশেলে তৈরি হয়েছে এক অন্যরকম পরিস্থিতি, যা নিয়ে এখন চর্চা চলছে বিভিন্ন মহলে।






