‘আমার বাড়িতে হাম’লা হতে পারে বলেই খবর’ বিজেপি সমর্থক অভিনেত্রীর দাবি ঘিরে ফের চর্চায় ‘তৃণমূলী স’ন্ত্রাত’ সমীকরণ! বিরোধী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হলেই টার্গে’ট করা হয় টলিউড তারকাদের? নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ থেকে একের পর এক ভয়ংকর অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুললেন মাফিন চক্রবর্তী!

বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের পর নতুন সরকারের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড যেমন সাধারণ মানুষের নজরে এসেছে, তেমনই তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলা বিনোদন জগতেও। দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠেছে যে টলিউডে রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে শিল্পীদের আলাদা চোখে দেখা হত। কেউ শাসকদলের ঘনিষ্ঠ হলে কাজের সুযোগ পেতেন সহজে, আবার বিরোধী মতাদর্শে বিশ্বাসী শিল্পীদের নানা বিতর্ক, কটাক্ষ কিংবা চাপের মুখে পড়তে হত বলেও অভিযোগ ছিল। সরকার পরিবর্তনের পর সেই পুরনো পরিস্থিতি, শিল্পীদের স্বাধীনতা এবং বিনোদন জগতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিনেতা-অভিনেত্রীদের একাংশ এখন অনেক বেশি খোলামেলা ভাবে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরছেন। আর সেই তালিকাতেই এবার উঠে এল টলিউড অভিনেত্রী তথা বিজেপি নেত্রী মাফিন চক্রবর্তীর নাম।

বাংলা বিনোদন জগতে ‘ব্যান কালচার’, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কিংবা রাজনৈতিক বিভাজনের অভিযোগ নতুন নয়। বিশেষ করে যেসব তারকা প্রকাশ্যে বিজেপির সমর্থনে কথা বলেছেন বা সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যোগ দিয়েছেন, তাঁদের অনেক সময়ই সামাজিক মাধ্যমে কটাক্ষ, ট্রোলিং এমনকি ব্যক্তিগত আক্রমণের মুখেও পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ। কেউ কাজ হারানোর আশঙ্কার কথা বলেছেন, কেউ আবার মানসিক চাপের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে শিল্পীদের আলাদা করে বিচার করা উচিত কি না, সেই প্রশ্নও বহুবার উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে বহু তারকা নিজেদের মত প্রকাশ করতে ভয় পান বলেও ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহলে আলোচনা রয়েছে। তবে কিছু শিল্পী আবার সমস্ত বিতর্ক উপেক্ষা করে নিজের অবস্থানে অনড় থেকেছেন। মাফিন চক্রবর্তীও সেই তালিকার অন্যতম পরিচিত মুখ।

টলিউডের পরিচিত অভিনেত্রী মাফিন চক্রবর্তী দীর্ঘদিন ধরে বাংলা টেলিভিশন ও আঞ্চলিক বিনোদন জগতের সঙ্গে যুক্ত। অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের স্পষ্ট বক্তব্য এবং ব্যক্তিত্বের জন্যও তিনি পরিচিত। বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের কাছে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন তিনি। তবে গত কয়েক বছরে শুধুমাত্র অভিনয়ের মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি মাফিন। সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দিয়ে বিজেপির হয়ে কাজ শুরু করেন তিনি। রাজনৈতিক ময়দানে সক্রিয় হওয়ার পর থেকেই তাঁকে ঘিরে বিতর্ক, সমালোচনা এবং আক্রমণের ঘটনাও বেড়েছে বলে দাবি অভিনেত্রীর। সম্প্রতি এক ডিজিটাল সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের এমন কিছু অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন তিনি, যা ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন: “যেন পাড়ার ক্লাব যে দলবেধে পিকনিক খেলতে গেছে, কোথায় সেই প্রোডিউসাররা?” “রাহুলের ফাইল এবার খোলা হবে, ওর পরিবার তো জাস্টিসই পেল না” টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে পা রাখতেই হুংকার পাপিয়া অধিকারীর! বিজেপি আমলে কি শাস্তি পাবে, অভিনেতার মৃ’ত্যুর আসল দোষীরা?

সাক্ষাৎকারে মাফিন জানান, কিছুদিন আগে তিনি এমন একটি খবর পান যা তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে আতঙ্কের মধ্যে ফেলে দেয়। অভিনেত্রীর দাবি, তাঁর বাড়িতে হামলা হতে পারে বলে তিনি আগাম সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন। এই খবর পাওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। একজন অভিনেত্রী হিসেবে নয়, একজন মহিলা এবং পরিবারের সদস্য হিসেবেও বিষয়টি তাঁকে মানসিকভাবে নাড়িয়ে দেয় বলে তিনি জানিয়েছেন। যদিও ভয় পেয়ে পিছিয়ে যাওয়ার মানুষ তিনি নন বলেও স্পষ্ট করেছেন মাফিন। তাঁর কথায়, রাজনৈতিক মতাদর্শ আলাদা হতে পারে, কিন্তু সেই কারণে কারও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে হুমকি তৈরি হওয়া কখনওই স্বাভাবিক ঘটনা হতে পারে না। তিনি মনে করেন, গণতন্ত্রে প্রত্যেকের নিজের মত প্রকাশের অধিকার থাকা উচিত।

এই ঘটনার নেপথ্যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বিষয়ও উঠে এসেছে তাঁর বক্তব্যে। মাফিনের দাবি, বিরোধী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণেই অনেক সময় নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। শুধু রাজনৈতিক কর্মী হিসেবেই নয়, একজন পরিচিত মুখ হওয়ায় তাঁকে আরও বেশি কটাক্ষের শিকার হতে হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে এত কিছুর পরেও নিজের রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে আসার কোনও ইচ্ছা তাঁর নেই। বরং মানুষের জন্য কাজ করা এবং নিজের দলের হয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথাই তিনি বারবার বলেছেন। তাঁর মতে, চাপ বা ভয় দেখিয়ে কাউকে চুপ করিয়ে রাখা যায় না। এই কারণেই সমস্ত বিতর্কের মধ্যেও তিনি নিজের কাজ এবং রাজনৈতিক দায়িত্ব দুটোই সমানভাবে সামলাতে চাইছেন।

রাজনীতির পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী। মাফিন বলেন, এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এমন জায়গায় পৌঁছেছে যেখানে খুব সহজেই কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা হয়। বিশেষ করে তারকা বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য, কুরুচিকর ট্রোল এবং অপমানজনক পোস্ট প্রায় রোজকার ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর মতে, শুধু কোনও পিআর টিম বা ম্যানেজারের সাহায্যে এই সমস্যা পুরোপুরি সামলানো সম্ভব নয়। এর জন্য সাধারণ মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন। মতের অমিল থাকতেই পারে, কিন্তু তার জন্য কাউকে অপমান করা বা ভয় দেখানো কখনওই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সবশেষে মাফিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন, অভিনয় এবং রাজনীতি দুই ক্ষেত্রেই তিনি নিজের লড়াই চালিয়ে যেতে চান। সমস্ত বাধা পেরিয়ে নিজের আদর্শে অটল থাকার বার্তাই দিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

You cannot copy content of this page