বিনোদন জগৎ এমন এক জায়গা, যেখানে বছরের পর বছর কাজ করেও প্রতিদিন নতুন করে নিজেকে প্রমাণ করতে হয়। একই ইন্ডাস্ট্রিতে থেকেও একেকজন শিল্পীর অভিজ্ঞতা একেবারে আলাদা। কেউ সহজেই কাজের সুযোগ পান, আবার কেউ দীর্ঘ সময় লড়াই করেও স্থায়ী জায়গা তৈরি করতে পারেন না। এই পরিবর্তনশীল পরিবেশেই গড়ে ওঠে একেকটি শিল্পীর ব্যক্তিগত সংগ্রামের গল্প—যা বাইরে থেকে সবসময় বোঝা যায় না।
সম্প্রতি সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী অবন্তি দত্ত (Abanti dutta) নিজের অভিনয় জীবন সম্পর্কে মুখ খুলেছেন, বাংলা বিনোদন ইন্ডাস্ট্রিতে প্রায় ২৩ বছর কাটিয়েছেন তিনি। টেলিভিশনের নানা জনপ্রিয় ধারাবাহিকে মা, মাসি, কাকিমা কিংবা গুরুত্বপূর্ণ পার্শ্বচরিত্রে তাঁকে বহুবার দেখা গেছে। তাঁর অভিনয়ের পরিসর ছোট পর্দার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলেও, প্রতিটি চরিত্রেই তিনি নিজের ছাপ রেখে গেছেন। থিয়েটার থেকে শুরু করে ধারাবাহিক—সব জায়গাতেই নিজের জায়গা তৈরি করেছেন তিনি ধীরে ধীরে।
তবে এত বছরের অভিজ্ঞতার পর তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ইন্ডাস্ট্রির কাজের পরিবেশ অনেকটাই বদলে গেছে। আগে যেখানে একটি কাজ শেষ হলেই দ্রুত আরেকটি কাজের সুযোগ আসত, এখন সেই ধারাবাহিকতা নেই। অনেক সময় ফোনে কাজের কথা এগিয়ে গিয়েও শেষ মুহূর্তে তা অন্য কারও কাছে চলে যায়। এই পরিবর্তন ঠিক কেন হচ্ছে, তা তিনি নিজেও নিশ্চিত নন, তবে অনুভব করেন প্রতিযোগিতা অনেক বেড়েছে এবং কাজের ধরণও বদলেছে।
অবন্তির মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিনেত্রীদের জন্য চরিত্রের পরিসর সংকীর্ণ হয়ে যায়। অল্প বয়সেই মায়ের চরিত্র করতে হয়, কিন্তু সেই বয়সের পুরুষ অভিনেতাদের ক্ষেত্রে এমনটা কম দেখা যায়। ফলে মূল চরিত্রে সুযোগ কমে যায়, আর গল্পগুলোও বেশিরভাগ সময় কম বয়সী দুই চরিত্রকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়। তিনি এটাকে ইন্ডাস্ট্রির একটি সীমাবদ্ধতা বলেই মনে করেন, যদিও এটাকে নিয়ে তেমন অভিযোগ করতে চান না।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছেন তিনি—ইন্ডাস্ট্রিতে সম্পর্ক তৈরি করার প্রবণতা। অনেকেই কাজ পাওয়ার জন্য ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর পথে হাঁটেন, কিন্তু অবন্তি নিজে সেই পথে কখনও হাঁটতে পারেননি। তাঁর কথায়, তিনি জানেন না ঠিক কতটা মিশতে হয় বা কিভাবে সম্পর্ক তৈরি করলে কাজ পাওয়া যায়। নিজের স্বভাবের জন্যই তিনি অনেকটা দূরত্ব বজায় রেখে চলেন, যা হয়তো কাজের সুযোগে প্রভাব ফেলেছে।
আরও পড়ুনঃ “বুড়ি বয়সে কচি ছেলে ফাঁসিয়েছে!” “হঠাৎ বিয়ে, তাও ম্যাচিং পোশাক, তিনদিনে এত আয়োজন সম্ভব?” লাগাতার কটাক্ষের জবাবে টাকার জন্য বিয়ে নয় বললেন সুস্মিতা রায়! নেটিজেনদের প্রশ্নে সরব হয়ে, বয়স নিয়ে কী উত্তর তাঁর?
‘চুনিপান্না’র মতো কাজের পরও কেন ধারাবাহিকভাবে কাজ নেই—এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিলেও, অবন্তি দত্ত বুঝিয়ে দিয়েছেন যে ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকা শুধুই প্রতিভার উপর নির্ভর করে না। তবুও তিনি হাল ছাড়েননি। নিজের মতো করে গান, কবিতা আর ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে থেকেই তিনি মানসিকভাবে নিজেকে ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। তাঁর মতে, মুখোশ পরে বাঁচার থেকে নিজের মতো থাকা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ—আর সেই বিশ্বাস নিয়েই এখনও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।






