“এই রাজ্য রে’প কালচার প্রোমোট করেছিল, প্রশাসন, পুলিশ সবাই মিলে…” “ক্রিমি’নালরা জানত অপরাধ করেও ছাড়া পেয়ে যাবে, কুণাল ঘোষ আর দেবাংশু….” আরজি কর মামলায় নয়া মোড়! অভয়া কাণ্ডের তদন্তে নতুন সিট গঠন হতেই, কোন তথ্য ফাঁস করলেন শ্রীলেখা মিত্র?

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার তদন্তে নতুন করে গতি এসেছে। ঘটনার দিন রাত থেকে শুরু করে শেষকৃত্য পর্যন্ত পুরো ঘটনাক্রম খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আদালত। এই উদ্দেশ্যে তিন সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তদন্তে প্রয়োজন হলে অন্যান্য দিকও খতিয়ে দেখা যাবে বলে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আগামী ২৫ জুন এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। এই নতুন নির্দেশকে ঘিরে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে পুরো ঘটনা। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে তারকারা ফের বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন।

তদন্ত পুনরায় শুরু হওয়ায় নতুন করে নজর পড়েছে মামলাটির দিকে। এই প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। তিনি জানান, এই ঘটনার সঠিক বিচার হওয়া খুব জরুরি। তার কথায়, “দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দরকার। যাতে এরকম কাজ করার কথা ভাবার আগে বুক কাঁপে।” তিনি আরও বলেন, অভয়া ছাড়াও আরও অনেক ঘটনার তদন্ত হওয়া উচিত। সব ঘটনার দোষীদের শাস্তি পাওয়া দরকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সেই সময়ের প্রতিবাদ আন্দোলনের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন তিনি। তিনি জানান, প্রতিবাদ করতে গিয়ে অনেক বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল। তবে এখন এসব তাঁর কাছে অভ্যাস হয়ে গিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন।

শ্রীলেখা মিত্র আরও অভিযোগ করেন, সেই সময় প্রতিবাদীদের বয়কটের ডাক দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, “আমায় বয়কটের ডাক দেওয়া হয়েছিল। কুণাল ঘোষ এখন ভাল সাজছেন, তখন কুণাল ঘোষ, দেবাংশু বয়কটের ডাক দিয়েছিল।” তিনি দাবি করেন, শুধু তিনি নন, আরও অনেক প্রতিবাদী হেনস্থার শিকার হয়েছিলেন। অনেক ঘটনার খবর সামনে এসেছে, অনেক আবার আড়ালেই রয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ভূমিকা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। তার কথায়, যারা প্রতিবাদ করেছিল তাদের অনেককেই চাপের মুখে পড়তে হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, সেই সময় অনেকেই ভয় ও চাপের মধ্যে ছিলেন।

আরও কড়া ভাষায় শ্রীলেখা বলেন, পুরো ঘটনায় রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন আছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “শুধু তাই নয়, অভয়ার বাবা-মাকেই তো ওই জায়গায় একঘরে করে দিয়েছিল।” তার আরও বক্তব্য, “একটা গোটা রাজ্য সেই সময় রেপ কালচার প্রোমোট করেছিল।” তিনি দাবি করেন, প্রশাসন ও পুলিশ একসঙ্গে বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করেছিল। তার মতে, এমন পরিস্থিতিতে অপরাধীরা আরও সাহস পেয়েছিল। তিনি বলেন, যখন একটি ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া হয়, তখন অপরাধ বাড়ে। এই কারণেই পরবর্তী সময়ে অপরাধের হার বেড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তার মতে, দোষীদের মধ্যে শাস্তি পাওয়ার ভয় কমে গিয়েছিল।

আরও পড়ুনঃ “ইন্ডাস্ট্রিতে সারাক্ষণ অশান্তি…. ‘শঙ্খচিল’-এর পর আর বাংলা ছবিতে কাজ করিনি” ইম্পা’তে রাজনৈতিক রং লেগেছে! বিতর্কিত মন্তব্য জাতীয় পুরস্কারজয়ী গৌতম ঘোষের

অন্যদিকে আদালত জানিয়েছে, তদন্তকারীরা চাইলে আরও ঘটনাও খতিয়ে দেখতে পারবেন। বিশেষ করে নির্দিষ্ট সময়ের বাইরেও প্রয়োজন হলে তদন্ত করা যাবে। সিটের নেতৃত্বে থাকবেন সিবিআইয়ের পূর্বাঞ্চলীয় যুগ্ম অধিকর্তা। তিন সদস্যের দল পুরো ঘটনার নতুন করে বিশ্লেষণ করবে। আদালতের নির্দেশের পর তদন্ত প্রক্রিয়া আবার শুরু হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে মামলার নতুন দিক খুলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী শুনানির দিকে এখন নজর সব মহলের। সব মিলিয়ে আরজি কর কাণ্ড নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।

You cannot copy content of this page