‘পোস্তো’ থেকে ‘মিরজা’, ‘হামি’ থেকে ‘রক্তবীজ’, প্রতিটি গানে নিজের ছাপ রেখেছেন শিলিগুড়ির সেই ছেলেটি! নিজের চেষ্টায় আবার ফিরিয়ে আনছেন, হারিয়ে যাওয়া ডান্স নাম্বারের জাদু! টলিউডের ডান্স আইকন, রাহুল ঘোষের উত্থানের গল্প জানেন?

শিলিগুড়ির এক সাধারণ ছেলে থেকে টলিউডের ডান্স দুনিয়ায় নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেছেন রাহুল কুমার ঘোষ। রিয়্যালিটি শো দিয়ে শুরু হলেও আজ তিনি সেই মঞ্চেরই ডান্স ডিরেক্টর। এই যাত্রা শুধুমাত্র সাফল্যের গল্প নয় বরং কঠোর পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাসের এক বাস্তব প্রতিফলন যা নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে।

রাহুলের ফিল্ম কেরিয়ারের প্রথম বড় সুযোগ আসে যীশু সেনগুপ্ত এর হাত ধরে পোস্তো ছবিতে কাজ করার মাধ্যমে। সেই ছবির “হোম শান্তি হোম” গানে তার কোরিওগ্রাফি দর্শকদের নজর কেড়ে নেয়। এরপর হামি ও হামি ২ এ তিনি নাচের সঙ্গে আবেগের মেলবন্ধন তৈরি করে নিজের আলাদা পরিচয় গড়ে তোলেন।

তার কেরিয়ারের অন্যতম বড় বাঁক আসে অঙ্কুশ হাজরা অভিনীত মির্জা ছবির মাধ্যমে। এই ছবির টাইটেল ট্র্যাকে প্রায় তিনশো ডান্সার নিয়ে বিশাল আকারের কোরিওগ্রাফি করে তিনি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। শুধু কাজ নয় অঙ্কুশের সঙ্গে তার সম্পর্ক বিশ্বাস ও বন্ধুত্বের উপর দাঁড়ানো যা তাকে আরও শক্তি জুগিয়েছে।

এরপর একের পর এক গানে নিজের ছাপ ফেলেছেন রাহুল। নারী চরিত্র বেজায় জটিল ছবির “ডান্ডা টুডুং টুডুং” এবং রক্তবীজ এর “গোবিন্দো দাৎ মাঝে না” গান সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল জনপ্রিয়তা পায়। তার কোরিওগ্রাফিতে বাঙালি ঐতিহ্য আর আধুনিক ছন্দের এক সুন্দর মিশ্রণ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে যা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে।

আরও পড়ুনঃ “মেয়েদের বয়স বাড়লেই ‘মা’র চরিত্র…” অন্যান্য চরিত্রে কাজ পেতে ঘনি’ষ্ঠতাই চাবিকাঠি! টিকে থাকতে উঁচু মহলের সঙ্গে সম্পর্ক জরুরি? ‘চুনিপান্না’র পর কেন আর দেখা যায় না অভিনেত্রীকে? ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহল নিয়ে বি*স্ফোরক অবন্তি দত্ত!

পরিচালক অভিজিৎ সেন এবং শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এর মতো নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করে রাহুল বারবার প্রমাণ করেছেন তার দক্ষতা। তিনি মনে করেন বাংলা ছবিতে আবারও বড় ডান্স নাম্বার ফিরিয়ে আনা দরকার। তার বিশ্বাস সঠিক সুযোগ ও আস্থার মাধ্যমে কলকাতার শিল্পীরাও একদিন জাতীয় স্তরে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে।

You cannot copy content of this page