সোশাল মিডিয়ায় আবারও চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে সায়ক চক্রবর্তী এবং তাঁর প্রাক্তন বউদি সুস্মিতা রায়ের বিবাদ। গোমাংস বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে ভার্চুয়াল লড়াই। ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে একে অপরকে লক্ষ্য করে একের পর এক অভিযোগ তুলে ধরছেন দুই পক্ষই। ফলে বিষয়টি নিয়ে নেটদুনিয়ায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন কেন প্রকাশ্যে আনা হচ্ছে। আবার কেউ কেউ এই ঘটনাকে একেবারেই অপ্রয়োজনীয় বলে কটাক্ষ করছেন। সমালোচনার পাশাপাশি কৌতূহলও বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। পুরো ঘটনাই যেন সোশাল মিডিয়ায় এক ধরনের আলোড়ন তৈরি করেছে।
এই বিতর্কে উঠে এসেছে একাধিক সংবেদনশীল বিষয়, যার মধ্যে রয়েছে বহুবিবাহ, সমকাম এবং থ্রিসামের মতো প্রসঙ্গ। কখনও সায়কের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলেছেন সুস্মিতা, আবার কখনও পালটা অভিযোগ করেছেন সায়ক বা তাঁর পরিবারের সদস্যরা। জানা গেছে, সুস্মিতা দাবি করেছেন সায়কের যৌন অভ্যাস নিয়ে, যা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে সায়কের পরিবার থেকেও সুস্মিতার একাধিক বিয়ের প্রসঙ্গ সামনে আনা হয়েছে। এই অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের জেরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। সোশাল মিডিয়ায় এই বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে অনেকেই অস্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তবে কেউ কেউ আবার পুরো বিষয়টি বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করছেন নিজেদের মতো করে।
এই আবহেই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন। তিনি সোশাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে জানিয়েছেন, এই ঘটনায় তিনি কাউকেই সরাসরি দোষী মনে করছেন না। তাঁর মতে, ব্যক্তিগত জীবনের সিদ্ধান্ত নিয়ে বাইরে থেকে বিচার করা ঠিক নয়। তিনি বলেছেন, যদি কারও ব্যক্তিগত কথা প্রকাশ করে মানসিক শান্তি পাওয়া যায়, তাহলে তা তার নিজস্ব ব্যাপার। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেছেন, সম্পর্কের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা থাকতে পারে। সব ক্ষেত্রেই তা ভুল বা অপরাধ হিসেবে দেখা উচিত নয়। তাঁর বক্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে নেটমাধ্যমে।
তসলিমা আরও বলেন, সমকাম বা থ্রিসামের মতো বিষয়গুলোকে অপরাধ হিসেবে দেখা উচিত নয়, যদি তা সকলের সম্মতিতে হয়। তাঁর মতে, কোনও সম্পর্ক যদি জোরজবরদস্তি বা অন্যায় ছাড়া গড়ে ওঠে, তাহলে সেখানে সমস্যা থাকার কথা নয়। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, সম্পর্কের মধ্যে শারীরিক আঘাত বা সমস্যা ঘটতেই পারে, কিন্তু তা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠাও সম্ভব। একইভাবে, একাধিক বিয়ে করাও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, যদি তা কারও উপর চাপিয়ে না দেওয়া হয়। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি মূলত ব্যক্তিস্বাধীনতার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য অনেকের কাছে সাহসী মনে হলেও বিতর্কও তৈরি করেছে।
আরও পড়ুনঃ “আমার গর্ভাবস্থার প্রতিটি দিন ছিল জটিলতায় ভরা…হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেছিল সুদীপ” মাতৃত্বের পথচলায় লুকিয়ে ছিল অজস্র যন্ত্র’ণা! মেয়ের জন্মের এক বছর পর, সেই অভিজ্ঞতা জানালেন অনিন্দিতা-সুদীপ! কোন কঠিন লড়াইয়ের সম্মুখীন হয়েছিলেন তারকা দম্পতি?
তসলিমার এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই সোশাল মিডিয়ায় নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন, আবার কেউ তীব্র বিরোধিতা করেছেন। অনেকেই মনে করছেন, এই ধরনের প্রকাশ্য বিতর্ক সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, কেউ কেউ বলছেন, ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়া উচিত। একই সঙ্গে বাংলা সোশাল মিডিয়ার কিছু ইনফ্লুয়েন্সারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, এসব ঘটনায় সামাজিক মূল্যবোধ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সব মিলিয়ে, সায়ক এবং সুস্মিতার এই বিবাদ এখন শুধুই ব্যক্তিগত নয়, তা বৃহত্তর আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।






