“২০ বছরের বেশি সময় ধরে আমাদের বাড়ি জবর দখল করে আছে, প্রতিবাদ করলেই হু’মকি!” তৃণমূল ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ রূপসা গুহর! রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মানসিক অত্যা’চার নিয়ে মুখ খুলালেন অভিনেত্রী! কোন ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা সামনে আনলেন তিনি?

পর্দার জগতে যাঁদের আমরা প্রতিদিন হাসিখুশি, আত্মবিশ্বাসী এবং সফল মানুষ হিসেবে দেখি, তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনের লড়াই অনেক সময়ই থেকে যায় আড়ালে। অভিনয় জগতের বহু শিল্পীকেই ব্যক্তিগত জীবনে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়, কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা এবং নিরাপত্তাহীনতার মতো পরিস্থিতি যখন দীর্ঘদিন ধরে একজন শিল্পীর পরিবারকে চাপে ফেলে দেয়, তখন সেই অভিজ্ঞতা আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। ঠিক তেমনই এক বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে আনলেন অভিনেত্রী রূপসা গুহ। তাঁর দাবি, দীর্ঘ ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তাঁদের বাড়িতে এক ব্যক্তি বেআইনিভাবে দখল করে রয়েছেন এবং তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাব খাটিয়েই তিনি এখনও পর্যন্ত সেখানে টিকে আছেন।

রূপসা গুহ অভিযোগ করেছেন, মিহির সেন নামে এক ব্যক্তি তাঁদের বাড়ির একটি অংশ অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন। অভিনেত্রীর দাবি, ওই ব্যক্তি নিজেকে ডাক্তার বলে পরিচয় দেন এবং বাড়ির মধ্যেই একটি ক্লিনিক চালান, যদিও তাঁর বৈধ ডিগ্রি বা কোনও আইনি নথি আছে কি না তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। রূপসার কথায়, তাঁদের পরিবার যখন বাড়িটি কেনে, তখন আগের মালিক জানিয়েছিলেন যে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই উচ্ছেদের নির্দেশ বা ইভিকশন অর্ডার রয়েছে। কিন্তু তারপরেও তিনি বাড়ি ছাড়েননি। বরং বছরের পর বছর ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সেখানে থেকে গিয়েছেন। অভিনেত্রীর সরাসরি অভিযোগ, স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর মমতা মজুমদারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হওয়ার কারণেই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

অভিনেত্রীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের পরিবারকে নানা ভাবে মানসিক ও সামাজিক হেনস্থার মুখে পড়তে হয়েছে। বাড়ির কাজের লোক, ড্রাইভারদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, ধস্তাধস্তি, কাপড় শুকোনোর তার কেটে দেওয়া, বাথরুম ব্যবহার নিয়ে অশান্তি এমন একাধিক ঘটনার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। এমনকি তাঁদের পোষ্য কুকুরদেরও বারবার বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি রূপসার। সম্প্রতি গেট খুলে কুকুরগুলোকে বাইরে বের করে দেওয়ার পর তারা রাস্তায় আহত হয় এবং বারবার চিকিৎসা করাতে হয়েছে বলেও জানান অভিনেত্রী। তাঁর অভিযোগ, এসব নিয়ে প্রতিবাদ করলেই উল্টে হুমকি দেওয়া হত। বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে ভয় দেখানো, ফোন করে হুমকি দেওয়া এসব এখন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে দাবি তাঁর।

রূপসা গুহ আরও অভিযোগ করেন, তাঁরা একাধিকবার থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন, কোর্টে গিয়েছেন, নোটিস পাঠিয়েছেন, কিন্তু কোনও ক্ষেত্রেই কার্যকর সাহায্য পাননি। চারুচন্দ্র মার্কেট থানায় অভিযোগ করার পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুধু “আবার কোর্টে যান” বলা হয়েছে বলে দাবি তাঁর। অভিনেত্রীর অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই পুলিশও কোনও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারেনি। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলরের কাছে সাহায্য চাইতে গেলে নানা কাজের জন্য টাকা দাবি করা হত। রূপসার কথায়, “আমরা সাধারণ মানুষ, রাজনীতির সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই। কিন্তু উনি তৃণমূলের প্রভাবশালী মহলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হওয়ায় আমরা এতদিন ভয়ে মুখ খুলতে পারিনি।” বাড়িতে অধিকাংশ সময় মহিলা সদস্যরাই থাকেন বলেও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী।

আরও পড়ুন: “আমাকে সবাই বলে ওই দেখ সলিল চৌধুরীর মেয়ে…” অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ জেনেও স্বামীর পাশে ছিলেন, জনপ্রিয়তা আসতেই প্রথম স্ত্রী ও তিন কন্যাকে ত্যাগ করেন সুরকার! ‘দিদিদের গান ছিনিয়ে তোমায় দিত মা’, ‘বাবার পা’পেই জনপ্রিয়তা পেলে না’ অন্তরা চৌধুরীকে কটা’ক্ষ নেটপাড়ার! ফের চর্চায় জ্যোতি চৌধুরীর আত্মত্যাগের গল্প

তবে এবার আর চুপ থাকতে নারাজ রূপসা গুহ ও তাঁর পরিবার। দীর্ঘদিনের ভয়, মানসিক চাপ এবং রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ সামনে এনে প্রকাশ্যেই সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন তিনি। অভিনেত্রীর দাবি, প্রশাসন যখন তাঁদের পাশে দাঁড়ায়নি, তখন সাধারণ মানুষের সামনে সত্যিটা তুলে ধরাই ছিল একমাত্র উপায়। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর অন্তত এবার প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে এবং তাঁদের বাড়ি থেকে বেআইনি দখলদারকে সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। যদিও অভিযুক্ত মিহির সেন সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “যা জানার যেখানে জানার সেখানে যান।” কিন্তু এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একজন অভিনেত্রীর পরিবারের নিরাপত্তা, প্রশাসনের ভূমিকা এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে চাপে রাখার অভিযোগ সব মিলিয়ে এই ঘটনা এখন বড় বিতর্কের কেন্দ্রে।

You cannot copy content of this page