“আইন আছে শৃঙ্খলার জন্য, হে’নস্তার জন্য নয়…সীমার মধ্যেই পুলিশকে কাজ করতে হবে!” “পুলিশ আপনার ভিডিও তুললে, আপনিও চুপ থাকবেন কেন?” নাকা চেকিং কী? সার্চ অপারেশন কী? গাড়ি আটক নিয়ে পুলিশের সঙ্গে বচসা, স্পষ্ট করলেন অরিত্র দত্ত বণিক!

গতকাল, অর্থাৎ মঙ্গলবার সকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এক ভিডিও, যেখানে দেখা যায় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অভিনেতা অরিত্র দত্ত বণিকের সঙ্গে পুলিশের তর্কাতর্কি চলছে। ঘটনাটি ঘিরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয় নেটমাধ্যমে। সেই দিনের রাতেই অরিত্র একটি বিস্তারিত পোস্ট করেন, যেখানে তিনি নিজের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেন। তিনি জানান, এই ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত নয়, সাধারণ নাগরিকদের সচেতন হওয়ারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

নিজের বক্তব্যে তিনি আইন সম্পর্কে সচেতন থাকার গুরুত্বের উপর জোর দেন। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ জানান যে কিছু ক্ষেত্রে আইনকে ভুলভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। এই বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে অভিযোগও জানিয়েছেন। তার পোস্ট ঘিরে ইতিমধ্যেই নানান প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অরিত্র জানান, তিনি বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন দফতরে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, সমস্ত প্রমাণ ও প্রয়োজনীয় তথ্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দিয়েছেন।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, আইন মানুষের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার জন্য তৈরি হলেও কিছু ক্ষেত্রে তা অন্যভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের সচেতন হওয়া খুব জরুরি বলে তিনি মনে করেন। তিনি সকলকে ভয় না পেয়ে নিজের অধিকার সম্পর্কে জানার পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া তিনি মনে করেন, কিছু নিয়মের পরিবর্তন দরকার এবং সে বিষয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। এই লড়াইয়ে পাশে থাকার জন্য আইনজীবী, সাধারণ মানুষ ও সংবাদ মাধ্যমকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন তিনি।

ঘটনার পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অরিত্র নাকা চেকিং ও গাড়ি তল্লাশি নিয়ে নিজের মতামত জানান। তিনি বলেন, অনেকেই এই বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্ত, তাই তিনি বিষয়টি পরিষ্কার করতে চেয়েছেন। তার মতে, নাকা চেকিংয়ের সময় পুলিশের কাজে সহযোগিতা করা নাগরিকদের দায়িত্ব। কিন্তু সব ক্ষেত্র এক নয় এবং সব পরিস্থিতিতে একই নিয়ম প্রযোজ্য নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এই বিষয়টি বোঝাতে তিনি একটি দীর্ঘ পোস্ট করেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। তার লক্ষ্য ছিল সাধারণ মানুষকে সঠিক তথ্য জানানো এবং ভুল ধারণা দূর করা।

এই পোস্ট ইতিমধ্যেই অনেকের মধ্যে আলোচনা তৈরি করেছে। মঙ্গলবার সকালে কী ঘটেছিল, তা নিজের ভাষায় তুলে ধরেছেন অরিত্র। তিনি জানান, শুটিংয়ের কাজে নিজের ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছিলেন তিনি রথতলার মোড়ে ডানলপ ট্রাফিক গার্ড তার গাড়ি থামায়। তিনি প্রথমেই জানতে চান কেন তাকে থামানো হয়েছে, কারণ তিনি কোনো নিয়ম ভাঙেননি। পুলিশ জানায়, নির্বাচনের কাজে তার গাড়ি নেওয়া হবে। অরিত্র জানান, এটি তার ব্যক্তিগত গাড়ি এবং তিনি তা দিতে পারবেন না।

আরও পড়ুনঃ স্বতন্ত্রর সন্তানের মা হচ্ছে কমলিনী? “দিদা, ঠাম্মি হওয়ার বয়সে কমলিনীর মা হওয়ার স্বাদ জেগেছে, নাতি-নাতনি হলেও হাসবে এবার!” টিআরপি বাড়াতে যা খুশি তাই! ‘চিরসখা’-য় কমলিনীর মাতৃত্বের সিদ্ধান্তে বিরক্ত দর্শক, নতুন ট্র্যাক নিয়ে আগাম ভবিষ্যদ্বাণী করছেন অনেকেই!

এরপর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পুলিশের সঙ্গে তার তর্ক শুরু হয়। অরিত্রর অভিযোগ, তাকে জোর করে গাড়ি একপাশে দাঁড় করিয়ে একটি রিক্যুইজিশন স্লিপ দেওয়া হয়। তাকে জানানো হয়, গাড়িটি দিতে হবে বাধ্যতামূলক ভাবে। তবে তিনি আইনি যুক্তি দেখান এবং নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন। শেষ পর্যন্ত পুলিশ তার গাড়ি নিতে পারেনি বলে দাবি করেন তিনি। তিনি আরও জানান, কিছু সময় তাকে আটকে রাখা হলেও সুযোগ পেয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন। এই ঘটনার পর টলিউড অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি নিজের বক্তব্যে বিষয়টি নিয়ে কড়া মন্তব্য করেন, যা নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।

You cannot copy content of this page